পিরোজপুরের কাউখালীতে সরকারিভাবে বরাদ্দ পাওয়া এক অসহায় ভূমিহীন ও প্রতিবন্ধী নারীর ঘরবাড়ি ভাঙচুর, মালামাল লুটপাট ও জমি দখলের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় একটি প্রভাবশালী চক্রের বিরুদ্ধে। এই ঘটনায় ভুক্তভোগী তানিয়া বেগম (২৫) বাদী হয়ে পিরোজপুর বিজ্ঞ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ৭ জনের নাম উল্লেখ করে একটি মামলা দায়ের করেছেন। যার মামলা নম্বর— সিআর ১৬৫/২০২৫ (কাউখালী)।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কাউখালী উপজেলার বিজয়নগর গ্রামের ফিরোজ খাঁর স্ত্রী তানিয়া বেগম একজন শারীরিক প্রতিবন্ধী ও সরকারি ভাতাভোগী। সরকার তাকে বিজয়নগর মৌজায় ২১ শতাংশ জমি (বিএস খতিয়ান নং- ২২১) কবুলিয়ত মূলে বরাদ্দ দিলে তিনি সেখানে ঘরবাড়ি নির্মাণ করে দীর্ঘদিন ধরে বসবাস করে আসছেন।
প্রতিবন্ধী তানিয়া বেগম বলেন , গত ২৪ নভেম্বর দুপুর ১২টার দিকে দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে ১. হিরু (২৫), ২. রাকিব (২২), ৩. আবির (২০), ৪. হিরন (২২), ৫. ফয়সাল (২০), ৬. মনির (৩৫) ও ৭. লোকমান মীরসহ একদল লোক তার বাড়িতে অনধিকার প্রবেশ করে। তারা অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ শুরু করলে বাদীর বৃদ্ধ শাশুড়ি প্রতিবাদ করায় তাকে টেনে-হেঁচড়া ও লাঞ্ছিত করা হয়।
এ সময় হামলাকারীরা বসতঘর ভাঙচুর করে একটি ট্রাঙ্ক জোরপূর্বক ছিনিয়ে নেয়। ওই ট্রাঙ্কে নগদ ৩০ হাজার টাকা এবং প্রায় ১ লক্ষ ৪০ হাজার টাকা সমমূল্যের স্বর্ণালঙ্কার (কানের রিং ও ঝুমকা) ছিল বলে মামলায় দাবি করা হয়। এছাড়া বিবাদীরা বাগানের মাটি ও কলাগাছ কেটে প্রায় ২৫ হাজার টাকার আর্থিক ক্ষতিসাধন করে এবং বাড়িঘরে আগুন দেওয়ার হুমকি দিয়ে এলাকা ত্যাগ করে।
উপজেলা ভূমি অফিস কর্তৃক সম্পাদিত দখলনামা (বন্দোবস্ত কেস নং- ০৭(খ)/২০১৫-২০১৬) অনুযায়ী তানিয়া বেগমকে উক্ত জমির দখল বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছিল। ভুক্তভোগী তানিয়া বেগম বলেন, “আমি একজন অসহায় প্রতিবন্ধী নারী হওয়া সত্ত্বেও স্থানীয় প্রভাবশালী চক্রটি আমার মাথা গোঁজার একমাত্র ঠাঁই কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করছে।
স্থানীয়ভাবে মীমাংসার চেষ্টা করে বিচার না পেয়ে আমি আদালতের দ্বারস্থ হয়েছি।”
আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে পরবর্তী আইনানুগ পদক্ষেপের নির্দেশ দিয়েছেন। বর্তমানে ওই পরিবারটি বিবাদীদের অব্যাহত হুমকিতে চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ বিষয়ে প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ভুক্তভোগী পরিবারটি।
পিরোজপুর প্রতিনিধি 























