বাংলাদেশ ০৪:০৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৬ মে ২০২৬
শিরোনামঃ
Logo ঈদকে ঘিরে কোনো সুনির্দিষ্ট নাশকতার হুমকি নেই: র‍্যাব ডিজি Logo ইরানের পরমাণু কর্মসূচি বন্ধ করা এনপিটি-বিরোধী: রুশ প্রতিনিধি উলিয়ানভ Logo সৈয়দপুর ফেয়ার পার্কে আজ শুরু হচ্ছে গ্রামীণ ও কুটির শিল্প মেলা-২০২৬ Logo হঠাৎ পিছিয়ে গেল পূজা চেরীর ‘নাকফুলের কাব্য’ সিনেমা Logo বিয়ের ১০ বছর পর যমজ সন্তানের মা হলেন অভিনেত্রী দিব্যাঙ্কা ত্রিপাঠী Logo ২৭০ কোটি টাকার নটিং হিল সম্পত্তি ঘিরে বিতর্কে সোনম কাপুর Logo ‘ডন ৩’ থেকে সরে দাঁড়ানোয় বিতর্ক: রণবীর সিংকে নিষিদ্ধ ঘোষণা FWICE-এর Logo বিরাট কোহলির সঙ্গে তর্কের পর ট্রাভিস হেডের স্ত্রীর ওপর অনলাইন আক্রমণ Logo স্পেনের বিশ্বকাপ দলে নেই রিয়াল মাদ্রিদের কোনো ফুটবলার Logo ৯৯.৫৮ শতাংশ পোশাক কারখানায় পরিশোধ হয়েছে ঈদ বোনাস

দেবিদ্বারে উচ্ছেদের পরও চালু অবৈধ ইটভাটা, নতুন করে চিমনি নির্মাণের অভিযোগ

কুমিল্লার দেবিদ্বার উপজেলায় প্রশাসনের অভিযানে অবৈধ ইটভাটা উচ্ছেদের পরও পুনরায় সেগুলোর কার্যক্রম চালু থাকার অভিযোগ উঠেছে। সরেজমিনে দেখা গেছে, বিভিন্ন স্থানে বিকল্প পদ্ধতিতে ইট উৎপাদন চলছে এবং কোথাও কোথাও নতুন করে চিমনি নির্মাণের কাজও শুরু হয়েছে।

গত ৩০ এপ্রিল জাফরগঞ্জ ইউনিয়নের চরবাকর এলাকায় অভিযান চালিয়ে এমবিএস ব্রিকস ও ফাইভ স্টার ব্রিকস নামের দুটি অবৈধ ইটভাটা গুঁড়িয়ে দেয় জেলা ও উপজেলা প্রশাসন। সে সময় ইট প্রস্তুত ও ভাটা স্থাপন (নিয়ন্ত্রণ) (সংশোধন) আইন, ২০১৯-এর আওতায় উভয় প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা করা হয় এবং তাদের কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা করা হয়।

তবে ১০ মে সরেজমিনে দেখা যায়, উচ্ছেদকৃত এলাকা ও আশপাশে আবারও ইটভাটার কার্যক্রম শুরু হয়েছে। স্থানীয়ভাবে “এনআরবি” নামে পরিচিত একটি ভাটা চিমনি ছাড়াই ড্রাম ব্যবহার করে চালু রয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এর দক্ষিণে অবস্থিত “দেবিদ্বার ফিল্ড” নামের আরেকটি স্থাপনাতেও একইভাবে কার্যক্রম চলতে দেখা যায়।

এদিকে চন্দ্রনগর এলাকায় “এমবিএস” নামের ভাটাটি ড্রাম দিয়ে তৈরি অস্থায়ী চিমনির মাধ্যমে পুনরায় চালু করা হয়েছে বলে স্থানীয়রা জানান। একই এলাকায় “ফাইভ স্টার ফিল্ড”-এ নতুন করে চিমনি নির্মাণের কাজ চলমান রয়েছে বলেও সরেজমিনে দেখা গেছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা জানান, প্রশাসনের অভিযানের পর প্রথমদিকে ইটভাটাগুলোর কার্যক্রম বন্ধ থাকলেও কিছুদিন যেতে না যেতেই আবারও আগের মতো চালু হয়ে যায়।

তাদের দাবি, রাতের বেলায় কিংবা নজরদারির বাইরে থেকেই বেশিরভাগ কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। চিমনি ভেঙে দেওয়ার পরও ড্রাম বা বিকল্প উপায়ে ধোঁয়া নির্গমন করে ইট পোড়ানো হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তারা।

একজন স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, “অভিযানের পর আমরা ভেবেছিলাম ভাটাগুলো বন্ধ থাকবে। কিন্তু কয়েকদিন পরই আবার আগের মতো ধোঁয়া উঠতে দেখি।”

আরেকজন বলেন, “এসব ইটভাটার কারণে আশপাশের পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে, কৃষিজমিও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। আমরা স্থায়ীভাবে এসব বন্ধের দাবি জানাই।”

স্থানীয়দের অভিযোগ, সংশ্লিষ্টদের প্রভাবের কারণে অনেক সময় অভিযান হলেও তা স্থায়ীভাবে কার্যকর হয় না, ফলে কিছুদিন পরই পুনরায় কার্যক্রম শুরু হয়ে যায়।

এ বিষয়ে উপজেলা প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

পরিবেশবিদদের মতে, অনুমোদনহীন ইটভাটা পরিবেশের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। এসব ভাটা বন্ধে নিয়মিত নজরদারি ও কঠোর আইন প্রয়োগ জরুরি।

ট্যাগ সমূহ:
জনপ্রিয় সংবাদ

ঈদকে ঘিরে কোনো সুনির্দিষ্ট নাশকতার হুমকি নেই: র‍্যাব ডিজি

দেবিদ্বারে উচ্ছেদের পরও চালু অবৈধ ইটভাটা, নতুন করে চিমনি নির্মাণের অভিযোগ

প্রকাশিত: ১১:৩৫:২৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১১ মে ২০২৬

কুমিল্লার দেবিদ্বার উপজেলায় প্রশাসনের অভিযানে অবৈধ ইটভাটা উচ্ছেদের পরও পুনরায় সেগুলোর কার্যক্রম চালু থাকার অভিযোগ উঠেছে। সরেজমিনে দেখা গেছে, বিভিন্ন স্থানে বিকল্প পদ্ধতিতে ইট উৎপাদন চলছে এবং কোথাও কোথাও নতুন করে চিমনি নির্মাণের কাজও শুরু হয়েছে।

গত ৩০ এপ্রিল জাফরগঞ্জ ইউনিয়নের চরবাকর এলাকায় অভিযান চালিয়ে এমবিএস ব্রিকস ও ফাইভ স্টার ব্রিকস নামের দুটি অবৈধ ইটভাটা গুঁড়িয়ে দেয় জেলা ও উপজেলা প্রশাসন। সে সময় ইট প্রস্তুত ও ভাটা স্থাপন (নিয়ন্ত্রণ) (সংশোধন) আইন, ২০১৯-এর আওতায় উভয় প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা করা হয় এবং তাদের কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা করা হয়।

তবে ১০ মে সরেজমিনে দেখা যায়, উচ্ছেদকৃত এলাকা ও আশপাশে আবারও ইটভাটার কার্যক্রম শুরু হয়েছে। স্থানীয়ভাবে “এনআরবি” নামে পরিচিত একটি ভাটা চিমনি ছাড়াই ড্রাম ব্যবহার করে চালু রয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এর দক্ষিণে অবস্থিত “দেবিদ্বার ফিল্ড” নামের আরেকটি স্থাপনাতেও একইভাবে কার্যক্রম চলতে দেখা যায়।

এদিকে চন্দ্রনগর এলাকায় “এমবিএস” নামের ভাটাটি ড্রাম দিয়ে তৈরি অস্থায়ী চিমনির মাধ্যমে পুনরায় চালু করা হয়েছে বলে স্থানীয়রা জানান। একই এলাকায় “ফাইভ স্টার ফিল্ড”-এ নতুন করে চিমনি নির্মাণের কাজ চলমান রয়েছে বলেও সরেজমিনে দেখা গেছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা জানান, প্রশাসনের অভিযানের পর প্রথমদিকে ইটভাটাগুলোর কার্যক্রম বন্ধ থাকলেও কিছুদিন যেতে না যেতেই আবারও আগের মতো চালু হয়ে যায়।

তাদের দাবি, রাতের বেলায় কিংবা নজরদারির বাইরে থেকেই বেশিরভাগ কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। চিমনি ভেঙে দেওয়ার পরও ড্রাম বা বিকল্প উপায়ে ধোঁয়া নির্গমন করে ইট পোড়ানো হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তারা।

একজন স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, “অভিযানের পর আমরা ভেবেছিলাম ভাটাগুলো বন্ধ থাকবে। কিন্তু কয়েকদিন পরই আবার আগের মতো ধোঁয়া উঠতে দেখি।”

আরেকজন বলেন, “এসব ইটভাটার কারণে আশপাশের পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে, কৃষিজমিও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। আমরা স্থায়ীভাবে এসব বন্ধের দাবি জানাই।”

স্থানীয়দের অভিযোগ, সংশ্লিষ্টদের প্রভাবের কারণে অনেক সময় অভিযান হলেও তা স্থায়ীভাবে কার্যকর হয় না, ফলে কিছুদিন পরই পুনরায় কার্যক্রম শুরু হয়ে যায়।

এ বিষয়ে উপজেলা প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

পরিবেশবিদদের মতে, অনুমোদনহীন ইটভাটা পরিবেশের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। এসব ভাটা বন্ধে নিয়মিত নজরদারি ও কঠোর আইন প্রয়োগ জরুরি।