১২ দিন ধরে নিখোঁজ ছিলেন ৭৫ বছর বয়সী মিনি বেগম। পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তাঁর কোনো সন্ধান পাননি। অবশেষে রবিবার বিকেলে বাড়ির কাছের একটি ঘেরের পুকুরপাড় থেকে তাঁর পচাগলা মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। মায়ের মরদেহ শনাক্ত করে কান্নায় ভেঙে পড়েন ছোট মেয়ে ময়না বেগম।
ঘটনাটি ঘটেছে বাগেরহাটের চিতলমারী উপজেলার বড়বাড়িয়া নতুন পাড়া গ্রামে, নালুয়া বাজার-সংলগ্ন এলাকায়।
পরিবারের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত ২০ অক্টোবর মঙ্গলবার সকাল আনুমানিক ১১টার দিকে নিখোঁজ হন মিনি বেগম। তিনি মৃত সোলাইমান ফকিরের স্ত্রী। চার মেয়ে ও দুই ছেলের মধ্যে বড় ছেলে আলামিনের সঙ্গে বসবাস করতেন তিনি।
রবিবার (১ নভেম্বর) বিকেল আনুমানিক ৪টার দিকে বসতবাড়ির উত্তর-পশ্চিম পাশে প্রচণ্ড দুর্গন্ধ পান ছোট মেয়ে ময়না বেগম। পরে দুর্গন্ধের উৎস খুঁজতে গিয়ে ঘেরের পুকুরপাড়ে মায়ের মরদেহ পড়ে থাকতে দেখেন। ততক্ষণে মরদেহে ব্যাপক পচন ধরেছিল। শরীরের বিভিন্ন অংশে পোকামাকড় দেখা যাচ্ছিল এবং মাথার চুলও আলাদা হয়ে গিয়েছিল।
নিহতের বড় ছেলে আলামিন (৪৫) বলেন, তাঁর মা প্রায় ২০ বছর ধরে মানসিক অসুস্থতায় ভুগছিলেন। একসময় তাঁর শারীরিক অবস্থা এতটাই খারাপ হয়েছিল যে কোমরে শিকল দিয়ে আটকে রাখতে হতো।
খবর পেয়ে চিতলমারী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জে. এম. মাসুম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। তিনি জানান, মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য বাগেরহাটে পাঠানো হবে। এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
দীর্ঘ ১২ দিন নিখোঁজ থাকার পর বৃদ্ধার এমন মৃত্যুতে এলাকায় নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে। তবে তাঁর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এবং নিখোঁজ হওয়ার পেছনের ঘটনা ময়নাতদন্ত ও তদন্তের পরই স্পষ্ট হবে।