নির্বাচনী প্রচারণার শেষ মুহূর্তে নাটকীয়ভাবে সিদ্ধান্ত বদলেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এক দিন আগেই কানসাস ও আইওয়া অঙ্গরাজ্যে নির্ধারিত নির্বাচনী সমাবেশ বাতিলের ঘোষণা দেওয়া হলেও শুক্রবার আবারও সেই কর্মসূচি পুনর্বহাল করা হয়েছে।
নতুন পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী রোববার পরপর দুই অঙ্গরাজ্যে সরাসরি নির্বাচনী সমাবেশে বক্তব্য দেবেন তিনি। মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে রিপাবলিকানদের রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জের মধ্যে ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্ত বিশেষ তাৎপর্য বহন করছে।
গত বৃহস্পতিবার রিপাবলিকান ন্যাশনাল কমিটি (আরএনসি) জানিয়েছিল, কানসাস ও আইওয়ায় ট্রাম্পের সরাসরি নির্বাচনী সমাবেশগুলো বাতিল করা হয়েছে। এর পরিবর্তে টেলিফোনের মাধ্যমে বিভিন্ন নির্বাচনী কর্মসূচিতে যুক্ত হয়ে অঙ্গরাজ্যগুলোর রিপাবলিকান প্রার্থীদের প্রতি সমর্থন জানানোর কথা ছিল তাঁর।
কিন্তু সেই সিদ্ধান্তে বেশিক্ষণ স্থির থাকেননি মার্কিন প্রেসিডেন্ট। শুক্রবার সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, ট্রাম্প পূর্বপরিকল্পনা পরিবর্তন করে আবারও সরাসরি নির্বাচনী সমাবেশে অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। ফলে রোববার কানসাস ও আইওয়ায় তাঁর নির্বাচনী বক্তব্য দেওয়ার কর্মসূচি চূড়ান্ত করা হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসের মধ্যবর্তী নির্বাচনের ঠিক আগমুহূর্তে ট্রাম্পের এই কর্মসূচি পরিবর্তন সামনে এল। আগামী ৩ নভেম্বর অনুষ্ঠেয় নির্বাচনে প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেটে নিজেদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা ধরে রাখার কঠিন লড়াইয়ে রয়েছে রিপাবলিকান পার্টি।
এই নির্বাচনে ক্ষমতাসীন দলের আসন ধরে রাখার বিষয়টি শুধু কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণের জন্যই নয়, ট্রাম্প প্রশাসনের রাজনৈতিক অবস্থান ও ভবিষ্যৎ নীতিনির্ধারণের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ।
নির্বাচনী প্রচারণায় রিপাবলিকানদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধের অর্থনৈতিক প্রভাব। এই সংঘাতের কারণে জ্বালানির দাম বৃদ্ধি এবং মূল্যস্ফীতির চাপ সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়িয়ে দিয়েছে।
ফলে অর্থনৈতিক অসন্তোষ ক্ষমতাসীন রিপাবলিকানদের নির্বাচনী অবস্থানকে দুর্বল করছে। এমন পরিস্থিতিতে কানসাস ও আইওয়ায় সরাসরি সমাবেশে অংশ নিয়ে রিপাবলিকান প্রার্থীদের পক্ষে জনসমর্থন জোরদার করার চেষ্টা করছেন ট্রাম্প। নির্বাচনের আগে তাঁর এই প্রচারণা কতটা প্রভাব ফেলতে পারে, এখন সেটিই দেখার বিষয়।
সূত্র: পার্সটুডে
kalprakash.com/IM