কেনিয়ায় ১৯১ জনকে হত্যার দায়ে ধর্মীয় গোষ্ঠীর নেতা পল ম্যাকেঞ্জিকে দোষী সাব্যস্ত করেছেন দেশটির আদালত। ‘যিশুর সঙ্গে মিলিত হওয়ার’ প্রলোভন দেখিয়ে অনুসারীদের সন্তানদের অনাহারে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়ার অভিযোগে তার বিরুদ্ধে এ রায় দেওয়া হয়েছে। একই মামলায় গোষ্ঠীর আরও ২৮ নেতাকেও হত্যার দায়ে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে। তবে অভিযুক্তরা সবাই নিজেদের নির্দোষ দাবি করেছিলেন। খবর বিবিসির।
সোমবার (২০ অক্টোবর) কেনিয়ার উপকূলীয় শহর মোম্বাসার আদালতে আট ঘণ্টাব্যাপী রায় পাঠকালে বিচারক ডায়ানা মোচাচে বলেন, ম্যাকেঞ্জির অনুসারীরা তাকে ‘যিশুর মুখপাত্র’ বলে বিশ্বাস করতেন। আদালতে উপস্থাপিত সাক্ষ্য অনুযায়ী, তার নির্দেশে উপবাসে রাজি না হওয়া ব্যক্তিদের মারধর করে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেওয়া হতো। জঙ্গলে মৃতদের দাফন করাকে ‘বিয়ে’ হিসেবে আখ্যা দেওয়া হতো। কারণ, তাদের বিশ্বাস ছিল, মৃতরা যিশুর সঙ্গে মিলিত হচ্ছেন। নিহতদের মধ্যে একজন বাদে সবাই শিশু।
ম্যাকেঞ্জির বিরুদ্ধে শিক্ষাকে নিষিদ্ধ করা, আধুনিক চিকিৎসাকে ‘অশুভ’ বলে প্রচার করা এবং অনুসারীদের চিকিৎসা নিতে নিরুৎসাহিত করার অভিযোগও রয়েছে। তার প্রতিষ্ঠিত গুড নিউজ ইন্টারন্যাশনাল মিনিস্ট্রিজ একসময় কেনিয়াজুড়ে হাজারো অনুসারী গড়ে তোলে। ২০১৯ সালে মূল গির্জা বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর তিনি অনুসারীদের নিয়ে শাকাহোলা জঙ্গলে চলে যান।
২০২৩ সালে কেনিয়ার উপকূলের কাছে শাকাহোলা জঙ্গলের অগভীর কবর থেকে চার শতাধিক মরদেহ উদ্ধারের পর ম্যাকেঞ্জিকে গ্রেপ্তার করা হয়। তদন্তে উঠে আসে, নিহতদের অনেকেই অনাহার, শ্বাসরোধ ও মারধরের শিকার হয়েছিলেন। বহু মরদেহ পচে যাওয়ায় এখনো সবার পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি।
নিজের ছয় সন্তানকে হারানো স্টিফেন মুইতি আদালতের রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, সব অভিযুক্ত দোষী সাব্যস্ত হওয়ায় তিনি খুশি। তার সাবেক স্ত্রীও এ মামলায় দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন।
ম্যাকেঞ্জি ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবাদ, উগ্রপন্থায় প্ররোচনা এবং শিশুদের শিক্ষার অধিকার থেকে বঞ্চিত করার অভিযোগে পৃথক মামলাও চলছে। হত্যার অভিযোগে এটিই তার বিরুদ্ধে প্রথম রায়। আগামী ৬ নভেম্বর তার সাজা ঘোষণা করা হবে।
সূত্র: বিবিসি
kalprakash.com/IM