বুধবার, ২১ অক্টোবর, ২০২৬ | ৫ কার্তিক, ১৪৩৩ | ৯ জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮ | সকাল ১১:৩২:৫৫
শিরোনাম
● গণতন্ত্র এখন মৃত্যু উপত্যকায়: মার্কিন বিচারপতি কাগান ● তিন লাখের বেশি ভিসা বাতিল করল যুক্তরাষ্ট্র ● আজ যে দামে বিক্রি হচ্ছে স্বর্ণ ● নাসিরনগরে চুরির অভিযোগে আটক ব্যক্তি, আহত নারী; আতঙ্কে এলাকাবাসী ● ধর্ম যার, উৎসব তার; কিন্তু রাষ্ট্র সবার: মঞ্জু ● উচ্চশিক্ষায় ৩৪ বছর পূর্ণ করল জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় ● নিখোঁজের দুই দিন পর বিল থেকে প্রতিবন্ধী স্কুলছাত্রীর মরদেহ উদ্ধার ● ১৯১ শিশু হত্যার দায়ে দোষী কেনিয়ার ধর্মগুরু, সাজা ৬ নভেম্বর ● দুর্গাপূজায় সর্বস্তরের মানুষের অংশগ্রহণ ঐক্যের নতুন দৃষ্টান্ত: আমির খসরু ● পাকিস্তানের সন্ত্রাসবিরোধী আইনের আওতায় রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বীদের নাম জড়ানো হচ্ছে ● গণতন্ত্র এখন মৃত্যু উপত্যকায়: মার্কিন বিচারপতি কাগান ● তিন লাখের বেশি ভিসা বাতিল করল যুক্তরাষ্ট্র ● আজ যে দামে বিক্রি হচ্ছে স্বর্ণ ● নাসিরনগরে চুরির অভিযোগে আটক ব্যক্তি, আহত নারী; আতঙ্কে এলাকাবাসী ● ধর্ম যার, উৎসব তার; কিন্তু রাষ্ট্র সবার: মঞ্জু ● উচ্চশিক্ষায় ৩৪ বছর পূর্ণ করল জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় ● নিখোঁজের দুই দিন পর বিল থেকে প্রতিবন্ধী স্কুলছাত্রীর মরদেহ উদ্ধার ● ১৯১ শিশু হত্যার দায়ে দোষী কেনিয়ার ধর্মগুরু, সাজা ৬ নভেম্বর ● দুর্গাপূজায় সর্বস্তরের মানুষের অংশগ্রহণ ঐক্যের নতুন দৃষ্টান্ত: আমির খসরু ● পাকিস্তানের সন্ত্রাসবিরোধী আইনের আওতায় রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বীদের নাম জড়ানো হচ্ছে

ফ্রান্সের সংকট কি যুক্তরাষ্ট্রের জন্যও অশনিসংকেত?

অনলাইন ডেস্ক
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর, ২০২৬, ৫:৪৪
শেয়ার: mail
ফ্রান্সের সংকট কি যুক্তরাষ্ট্রের জন্যও অশনিসংকেত?

গভীর অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক সংকটে পড়েছে ফ্রান্স। ক্রমবর্ধমান সরকারি ঋণ, ঋণের সুদ পরিশোধে ব্যয়বৃদ্ধি এবং বাজেট ঘাটতি নিয়ে রাজনৈতিক বিরোধ দেশটির অর্থনীতিকে চাপে ফেলেছে। একই ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রও। ফলে প্রশ্ন উঠছে, ফ্রান্সের মতো ঋণসংকটে কি এবার পড়তে যাচ্ছে বিশ্বের বৃহত্তম অর্থনীতির দেশ যুক্তরাষ্ট্র?

পশ্চিমা দেশগুলোর অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। ফ্রান্সের পাশাপাশি যুক্তরাজ্যসহ বেশ কয়েকটি দেশে সরকারি ঋণ দ্রুতগতিতে বাড়ছে। একই সঙ্গে বাড়ছে ঋণ নেওয়ার খরচ। অথচ ব্যয় কমানো কিংবা কর বাড়ানোর মতো অজনপ্রিয় সিদ্ধান্ত নিতে রাজনৈতিক সদিচ্ছার অভাব দেখা যাচ্ছে।

তবে অর্থনীতিবিদদের মতে, ফ্রান্স ও যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে কিছু মিল থাকলেও মৌলিক পার্থক্য রয়েছে। আপাতত যুক্তরাষ্ট্রে ফ্রান্সের মতো আসন্ন ঋণসংকটের আশঙ্কা তুলনামূলক কম।

পশ্চিমা অর্থনীতিতে বাড়ছে ঋণের বোঝা

ইউরোপের কল্যাণমূলক সামাজিক নিরাপত্তাব্যবস্থার ব্যয় কয়েক দশক ধরে বাড়ছে। দীর্ঘদিন ধরেই অর্থনীতিবিদ ও রাজনীতিকেরা সতর্ক করে আসছেন, এ ব্যয়ের ভার একসময় অসহনীয় হয়ে উঠতে পারে। এর মধ্যে ইরান যুদ্ধ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।

আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) সাম্প্রতিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ফেব্রুয়ারি থেকে শিল্পোন্নত সাত দেশের জোট জি৭-এর ১০ বছর মেয়াদি সরকারি বন্ডের গড় সুদের হার ১ শতাংশীয় পয়েন্টের বেশি বেড়েছে। এতে সুদের হার প্রায় দুই দশকের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে।

আইএমএফের পূর্বাভাস বলছে, চলতি দশকের শেষ নাগাদ জি৭ দেশগুলোর সম্মিলিত সরকারি ঋণ তাদের মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) পরিমাণ ছাড়িয়ে যেতে পারে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর এমন পরিস্থিতি আর দেখা যায়নি।

ফ্রান্সে সরকারি ঋণের পরিমাণ দেশটির জিডিপির প্রায় ১১৯ শতাংশে পৌঁছেছে। এটি ইউরোপীয় ইউনিয়নের নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার প্রায় দ্বিগুণ। দেশটির বার্ষিক বাজেট ঘাটতিও জিডিপির ৫ দশমিক ৪ শতাংশ।

যুক্তরাজ্যের কেন্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের সামাজিক নীতিবিষয়ক অধ্যাপক পিটার টেলর-গুবির মতে, ইউরোপের দেশগুলোর ঋণ নেওয়ার ব্যয় নিয়ে উদ্বেগ ক্রমেই বাড়ছে। বিষয়টি উপেক্ষা করা হলে গুরুতর অর্থনৈতিক সংকট তৈরি হতে পারে।

যুক্তরাষ্ট্র কেন এখনো তুলনামূলক নিরাপদ?

যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক পরিস্থিতিও উদ্বেগমুক্ত নয়। দেশটির সরকারি ঋণ প্রায় ৩২ লাখ কোটি ডলারে পৌঁছেছে, যা বার্ষিক জিডিপির কাছাকাছি। সদ্য সমাপ্ত অর্থবছরে দেশটির বাজেট ঘাটতি ছিল প্রায় ২ লাখ কোটি ডলার, যা জিডিপির ৬ শতাংশের বেশি।

এ ছাড়া সরকারি ঋণের সুদ পরিশোধে বার্ষিক ব্যয় ১ লাখ কোটি ডলার ছাড়িয়েছে। এটি দেশটির কেন্দ্রীয় বাজেটের প্রায় ১৪ শতাংশ। অর্থাৎ কর থেকে আদায় করা প্রতি সাত ডলারের প্রায় এক ডলারই ব্যয় হচ্ছে ঋণের সুদ পরিশোধে।

তারপরও ফ্রান্সের মতো সংকটে পড়ার আশঙ্কা আপাতত কম যুক্তরাষ্ট্রের। এর প্রধান কারণ, দেশটি বিশ্বের প্রধান রিজার্ভ মুদ্রা ডলারের ইস্যুকারী। আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের বড় অংশ ডলারে পরিচালিত হয়। এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের আইনি কাঠামো ও আর্থিক ব্যবস্থার প্রতি বৈশ্বিক আস্থা ডলারের অবস্থানকে শক্তিশালী করেছে।

এ কারণে মার্কিন ট্রেজারি বন্ডকে নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। বৈশ্বিক বন্ডবাজারে অস্থিরতা দেখা দিলেও যুক্তরাষ্ট্র তুলনামূলক সুবিধাজনক অবস্থানে থেকে ঋণ সংগ্রহ করতে পারে।

দেশটির আরেকটি বড় শক্তি হলো বৃহৎ ও বহুমুখী অর্থনীতি। বিশেষ করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই খাতে বিপুল বিনিয়োগ অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে এগিয়ে নিচ্ছে। অর্থনীতি দ্রুত বাড়লে জিডিপির তুলনায় ঋণের বোঝা সামলানো সহজ হয়।

মুডিস অ্যানালিটিকসের প্রধান অর্থনীতিবিদ মার্ক জান্দির মতে, এআই খাতের প্রবৃদ্ধি যুক্তরাষ্ট্রকে ঋণ ব্যবস্থাপনা ও অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় ফ্রান্স ও যুক্তরাজ্যের তুলনায় বাড়তি সুবিধা দিচ্ছে।

তবে এসব সুবিধার অর্থ এই নয় যে যুক্তরাষ্ট্রের ঋণ ব্যবস্থাপনা পুরোপুরি ঝুঁকিমুক্ত। বরং দেশটি আপাতত সংকট মোকাবিলায় তুলনামূলক ভালো অবস্থানে রয়েছে।

ইউরোপজুড়ে ছড়িয়ে পড়তে পারে সংকট?

অর্থনীতিবিদদের মতে, ফ্রান্সের ঋণসংকট আপাতত পুরো ইউরোপে ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা কম। ইউরোপীয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক (ইসিবি) প্রয়োজনে সদস্যদেশগুলোর বন্ড কিনে বাজার স্থিতিশীল রাখতে পারে। এ ছাড়া ইউরোপের কয়েকটি দেশের বাজেট ঘাটতি ফ্রান্সের তুলনায় কম। কিছু দেশ চলতি বছর বাজেট উদ্বৃত্তও অর্জন করতে পারে।

তবে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য বড় ঝুঁকি হয়ে উঠতে পারে ঋণসীমা নিয়ে রাজনৈতিক বিরোধ। আগামী বছর দেশটিকে আবারও ঋণ নেওয়ার আইনগত সর্বোচ্চ সীমা বাড়ানোর বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। এ নিয়ে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও নতুন কংগ্রেসের মধ্যে সমঝোতা না হলে পরিস্থিতি জটিল হতে পারে।

যুক্তরাষ্ট্রের ঋণসীমা না বাড়ানো হলে সরকারের হাতে ঋণ পরিশোধের সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও অর্থ পরিশোধে বাধা তৈরি হতে পারে। এতে কৃত্রিমভাবে ঋণখেলাপির পরিস্থিতি সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

মার্ক জান্দির আশঙ্কা, আগামী বছরের অক্টোবরের শেষ নাগাদ এমন পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার একটি সম্ভাব্য ঝুঁকি রয়েছে।

সব মিলিয়ে, যুক্তরাষ্ট্র এখনই ফ্রান্সের মতো ঋণসংকটে পড়ছে না। তবে সরকারি ঋণের ক্রমবৃদ্ধি, সুদ পরিশোধের চাপ এবং রাজনৈতিক অচলাবস্থা দীর্ঘায়িত হলে দেশটির অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতাও ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।

সূত্র: সিএনএন

kalprakash.com/IM

এই সম্পর্কিত আরও সংবাদ

সব দেখুন arrow_forward
Logo
মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬ | Globe kalprakash.com

ফ্রান্সের সংকট কি যুক্তরাষ্ট্রের জন্যও অশনিসংকেত?

বিস্তারিত কমেন্টে