রাজশাহীর গোদাগাড়ীতে এক সহকর্মীর বিরুদ্ধে অন্য সহকর্মীর পাল্টাপাল্টি মামলার ঘটনা ঘটেছে। গোদাগাড়ী সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ শিক্ষক পরিষদের সাধারণ সম্পাদক ও রসায়ন বিভাগের প্রভাষক কামরুল আহসান কাজলকে নারী নির্যাতন মামলায় ফাঁসানোর চেষ্টা করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
মামলাটি করেছেন একই কলেজের ভূগোল বিভাগের প্রভাষক রোখশানা নাজনীন। তাঁর স্কুলপড়ুয়া মেয়ের শ্লীলতাহানির অভিযোগে করা মামলার ঘটনার তারিখ ২০২৫ সালের ৪ আগস্ট।
অন্যদিকে ২০২৫ সালের ১৪ সেপ্টেম্বর রোখশানা নাজনীনকে বিবাদী করে আদালতে প্রতারণা মামলা করেন কামরুল আহসান কাজল। রোখশানা নাজনীনের মামলা দায়েরের তারিখও ২০২৫ সালের ১৪ সেপ্টেম্বর। অর্থাৎ একই দিনে দুজন একে অপরের বিরুদ্ধে পাল্টাপাল্টি মামলা করেছেন।
ঘটনা, মামলার নথি ও শিক্ষক-কর্মচারীদের সূত্রে জানা গেছে, মামলার বাদী-বিবাদী পরস্পর সহকর্মী।
কামরুল আহসান জানিয়েছেন, তাঁরা যৌথ মালিকানায় নগরীর সিলিন্দা মোড়ে ফ্ল্যাট নির্মাণ করছেন। ফ্ল্যাট নির্মাণের সময় ২০২২ সালের শেষ দিকে কামরুল আহসান কাজলের কাছ থেকে পাঁচ লাখ টাকা ধার নেন রোখশানা নাজনীন। ৩০০ টাকার নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে উভয়ের মধ্যে চুক্তিনামা রয়েছে।
প্রভাষক কামরুল আহসান কাজল জানান, পাওনা টাকা চাইলে নাজনীন নানা অজুহাতে সময়ক্ষেপণ করতে থাকেন। এ ছাড়া কলেজের শিক্ষক পরিষদ নির্বাচনে তিনি প্রার্থী ছিলেন এবং বিপুল ভোটের ব্যবধানে সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। নির্বাচন নিয়েও তাঁদের মধ্যে কিছুটা দূরত্ব তৈরি হয়। এসব বিষয়কে পুঁজি করে নাজনীন ষড়যন্ত্র করতে থাকেন। টাকা না দেওয়ার পাঁয়তারা শুরু করেন। শেষ পর্যন্ত তাঁর বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিয়ে তাঁকে হয়রানি করছেন বলে অভিযোগ করেন কামরুল আহসান।
এসব বিষয়ে রোখশানা নাজনীনের কাছে জানতে চাইলে তিনি টাকা গ্রহণের কথা অস্বীকার করেন। তিনি দাবি করেন, নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে তিনি স্বাক্ষর করেননি। ঘটনার তারিখ ৪ আগস্ট, অথচ মামলা করলেন ১৪ সেপ্টেম্বর—এমন প্রশ্নের জবাবে রোখশানা নাজনীন বলেন, নানা কারণে মামলা করতে বিলম্ব হয়েছে।
কলেজের প্রভাষক মিনহাজ কবীর, নূর আলম সিদ্দিক বাবরসহ বেশ কয়েকজন শিক্ষক বলেন, কামরুল আহসান কাজল অত্যন্ত ভদ্রলোক। তাঁর বিরুদ্ধে মামলা হওয়া দুঃখজনক।
প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ মইনুল ইসলাম নিশ্চিত করেছেন, কামরুল আহসান কাজল শিক্ষক পরিষদের নির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক। পরস্পরের মামলা সম্পর্কে তিনি অবগত বলে এ প্রতিবেদককে জানিয়েছেন।
kalprakash.com/IM