সুন্দরবনে মাছ ও কাঁকড়া ধরতে গিয়ে বনদস্যুদের হাতে জিম্মি হয়েছিলেন চার জেলে। তাঁদের মুক্তিপণের দাবিতে আটকে রাখার অভিযোগ উঠেছে বনদস্যু সম্রাট বাহিনীর বিরুদ্ধে। অবশেষে বাংলাদেশ কোস্টগার্ডের অভিযানে অক্ষত অবস্থায় মুক্তি পেয়েছেন তাঁরা। তবে অভিযানের সময় বনদস্যুরা পালিয়ে যাওয়ায় কাউকে আটক করা যায়নি।
গত ১১ অক্টোবর দুপুরে খুলনার দাকোপ উপজেলার শিপসা নদীর আরবানিয়া খালসংলগ্ন সুন্দরবনের দুর্গম এলাকায় এ অভিযান চালানো হয়। কোস্টগার্ড পশ্চিম জোনের অধীন নলিয়ান আউটপোস্টের একটি দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযানটি পরিচালনা করে।
উদ্ধার হওয়া চার জেলে হলেন মইনুর, বাদশা গাজী, সুজন হোসেন ও ইমামুল মল্লিক। তাঁদের বাড়ি খুলনার পাইকগাছা উপজেলায়। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, গত ১০ অক্টোবর মাছ ও কাঁকড়া আহরণের সময় তাঁরা বনদস্যুদের কবলে পড়েন।
জেলেদের প্রাথমিক জবানবন্দিতে জানা যায়, তাঁদের অপহরণ করে মুক্তিপণ আদায়ের উদ্দেশ্যে জিম্মি করে রাখা হয়েছিল। এ সময় শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালানো হয় বলেও তাঁরা অভিযোগ করেন।
সুন্দরবন শুধু প্রাকৃতিক সম্পদের ভান্ডার নয়, উপকূলের বহু পরিবারের জীবন-জীবিকারও অন্যতম অবলম্বন। প্রতিদিন বহু জেলে মাছ ও কাঁকড়া আহরণের আশায় বনের নদী-খালে যান। কিন্তু বনদস্যুদের অপহরণ, ভয়ভীতি ও মুক্তিপণের দাবির কারণে তাঁদের জীবিকা অর্জনের পথ হয়ে উঠছে অনিশ্চিত।
ভুক্তভোগী জেলেদের ভাষ্য অনুযায়ী, বনদস্যুরা নিয়মিত আস্তানা পরিবর্তন করে এবং দুর্গম খালকে নিজেদের অবস্থান ও চলাচলের জন্য ব্যবহার করে। ফলে বনের ভেতরে তাদের শনাক্ত করা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর জন্য কঠিন হয়ে পড়ে।
অভিযানের সময় কোস্টগার্ডের উপস্থিতি বুঝতে পেরে দস্যুরা বনের গভীরে পালিয়ে যায়। এ কারণে তাৎক্ষণিকভাবে কাউকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি। উদ্ধার হওয়া জেলেদের পরিবারের কাছে হস্তান্তরের আইনি প্রক্রিয়া চলমান ছিল বলে জানা গেছে।
কোস্টগার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন জানান, সুন্দরবনকে বনদস্যুমুক্ত করতে ‘অপারেশন রিস্টোর পিস ইন সুন্দরবন’ ও ‘অপারেশন ম্যানগ্রোভ শিল্ড’ নামে দুটি বিশেষ অভিযান চলছে। সম্রাট বাহিনীর সদস্যদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।
চার জেলের মুক্তি তাঁদের পরিবারের জন্য স্বস্তির খবর হলেও সুন্দরবনে নিরাপদে মাছ ও কাঁকড়া আহরণের নিশ্চয়তা এখনো বড় প্রশ্ন। বনদস্যুদের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত রাখার পাশাপাশি জেলেদের নিরাপত্তা, নিয়মিত টহল এবং অপরাধীদের শনাক্ত করতে গোয়েন্দা তৎপরতা জোরদার করা প্রয়োজন। কারণ, সুন্দরবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা মানে শুধু বন রক্ষা নয়, এই বনের ওপর নির্ভরশীল মানুষের জীবন ও জীবিকা রক্ষাও।
kalprakash.com/IM