কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে (কুবি) ক্যাম্পাস ও তৎসংলগ্ন এলাকায় শিক্ষার্থীদের সার্বিক নিরাপত্তা বিধান, অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও নাগরিক সেবার মান নিশ্চিত করার লক্ষ্যে প্রশাসনের উদ্যোগে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সোমবার (৫ অক্টোবর) বিকেল ৩টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে এ সভা হয়।
উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম. এম. শরীফুল করীমের সভাপতিত্বে সভায় উপস্থিত ছিলেন উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আমজাদ হোসেন সরকার, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ বেলাল উদ্দিন ও প্রক্টর অধ্যাপক ড. শাহাদাৎ হোসেন। এ ছাড়া কুমিল্লা জেলা পুলিশ প্রশাসন, জেলা প্রশাসন, জেলা পরিষদ, কুমিল্লা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ, সিটি কর্পোরেশন, স্থানীয় সরকার, সড়ক ও জনপথ বিভাগ, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, কুমিল্লা ওয়াসা, কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনুষদের ডিন, বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক ও শিক্ষার্থী প্রতিনিধিরা সভায় উপস্থিত ছিলেন। পরিবহনচালক, হোটেল মালিক ও আবাসিক মেস মালিকরাও সভায় অংশ নেন।
সভায় বিশ্ববিদ্যালয় এলাকার অংশীজন ও প্রশাসনের পক্ষ থেকে যেসব দাবি উপস্থাপন করা হয়, সেগুলো হলো: ক্যাম্পাস-সংলগ্ন ময়নামতি জাদুঘরের কাছে পুলিশ ফাঁড়ি স্থাপন, রাস্তায় পর্যাপ্ত আলো এবং গুরুত্বপূর্ণ স্থান সিসিটিভির আওতায় আনা, নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সংযোগ নিশ্চিত করা, নজরুল হলে পয়োনিষ্কাশন ব্যবস্থা করা, আবাসিক মেস বা বাসার নিবন্ধন, চিকিৎসাক্ষেত্রে কুবি শিক্ষার্থীদের অগ্রাধিকার দেওয়া, স্বাস্থ্যসম্মত খাবার সরবরাহ এবং বেলতলী আন্ডারপাসের কাজ দ্রুত শেষ করা।
সভায় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার লুৎফুর রহমান বলেন, ছিনতাই ও চুরি প্রতিরোধে প্রশাসন কাজ করছে। নিয়মিত সন্ধ্যা ৮টা থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত বিভিন্ন এলাকায় পুলিশ টহল দিচ্ছে। তবে ছিনতাইকারীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে সাধারণ মানুষের সহযোগিতা প্রয়োজন।
তিনি আরও বলেন, কিশোর গ্যাংসহ ডাকাত ও ছিনতাইকারীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজের শিক্ষার্থীরা আইডি কার্ড প্রদর্শন করলে পুলিশকে তাঁদের সঙ্গে সম্মানজনক আচরণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদেরও সচেতন থাকার আহ্বান জানান তিনি।
পুলিশ ফাঁড়ি স্থাপনের বিষয়ে তিনি বলেন, এটি মন্ত্রণালয়ের বিষয়। এ জন্য প্রয়োজনীয় চাহিদা উল্লেখ করে লিখিত আবেদন করতে হবে।
উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আমজাদ হোসেন সরকার বলেন, ‘আমরা যে সমাজে বসবাস করি, বিশ্ববিদ্যালয় সেই সমাজেরই অংশ। আমাদের সবচেয়ে বড় সমস্যার জায়গা কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক নিরাপত্তা। বিশ্ববিদ্যালয়ের আশপাশের লালমাই পাহাড়গুলোতে কোনো আইনগত নিরাপত্তার ব্যবস্থা নেই, এমনকি কোনো পুলিশ ফাঁড়িও নেই। ফলে যাঁরা টিউশনি করেন কিংবা রাতে লাইব্রেরি থেকে ফেরেন, তাঁদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে।’
উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম. এম. শরীফুল করীম বলেন, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় এ অঞ্চলের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠ এবং এর সম্মান ও নিরাপত্তা সমগ্র কুমিল্লার সম্মানের সঙ্গে জড়িত। তিনি শহর থেকে বিশ্ববিদ্যালয়-সংলগ্ন দক্ষিণ ক্যাম্পাস পর্যন্ত পুরো সড়কে অবিলম্বে পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা, আধুনিক সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন এবং রাস্তা প্রশস্ত ও সংস্কারের আহ্বান জানান।
তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের সন্তান সন্ধ্যা থেকেই নিখোঁজ হয়েছে। তাকে খোঁজার জন্য আমরা আশপাশের সব বনজঙ্গলে অভিযান চালিয়েছি। আমি অস্বীকার করব না, কুমিল্লার র্যাব থেকে শুরু করে পুলিশ প্রশাসন প্রত্যেকেই আমাদের সহযোগিতা করেছে। প্রশাসনের সব সহযোগিতা হয়তো দৃশ্যমান হয়নি। তারা তাদের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছে, আমরাও এখান থেকে চেষ্টা করেছি। কিন্তু আমরা অপ্রতিমকে খুঁজে পাইনি, তার লাশ পেয়েছি।’
উপাচার্য বলেন, শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার স্বার্থে কুমিল্লার মেস মালিকদের উদ্দেশে বলছি, আপনারা ছাত্র পরামর্শ ও নির্দেশনা দপ্তরে আপনাদের মেস বা বাসা-সংক্রান্ত তথ্য দিয়ে নিবন্ধন করবেন। নিবন্ধনবহির্ভূত মেসে শিক্ষার্থীদের না ওঠার জন্য আমরা নিরুৎসাহিত করব।
kalprakash.com/IM