জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্ৎসের আকস্মিক ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভ সফরের সময় শহরের একটি গুরুত্বপূর্ণ সেতুতে টানা দ্বিতীয় দিনের মতো রুশ হামলা হয়েছে।
রোববার সকালে পিভনিচনি (নর্দার্ন) ব্রিজে হামলা চালানো হয়। এর একদিন আগে, শনিবারও সেতুটিতে ড্রোন হামলা হয়েছিল। ওই হামলায় সেতুর সড়কের অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং যান চলাচলে বিঘ্ন ঘটে।
কিয়েভের মেয়র ভিতালি ক্লিচকো জানান, রোববারের হামলায় একটি হিটিং মেইন বা তাপ সরবরাহের প্রধান পাইপলাইনও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর ফলে শহরের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় দেসনিয়ানস্কি জেলায় সাময়িকভাবে গরম পানির সরবরাহ বন্ধ থাকবে।
গত চার দিনে কিয়েভের গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি সেতুতে হামলা হয়েছে। এর মাধ্যমে মস্কো ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর ওপর হামলা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
রোববারের হামলার (যাচাই না-করা) ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, সেতুর ওপর দিয়ে গাড়ি চলাচলের সময় একটি ড্রোন সেখানে আছড়ে পড়ে বিস্ফোরিত হয়। এতে আগুনের গোলা তৈরি হয় এবং সেতুর ওপর কালো ধোঁয়ার মেঘ দেখা যায়।
ক্লিচকো টেলিগ্রামে হামলার খবর জানিয়ে লিখেছেন, ‘নর্দার্ন ব্রিজের সড়কে আঘাত হেনেছে। জরুরি পরিষেবাগুলো ঘটনাস্থলে যাচ্ছে।’
জরুরি পরিষেবাগুলো যখন ঘটনাস্থলে কাজ করছিল, তখন জার্মান চ্যান্সেলর মের্ৎস ইউক্রেনের প্রতি জার্মানির সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেন এবং ইউক্রেনের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা শক্তিশালী করতে আরও সহায়তার প্রতিশ্রুতি দেন।
তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে লিখেছেন, ‘ইউক্রেন কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সপ্তাহের মুখোমুখি। এ কারণেই আমি আজ কিয়েভে এসেছি এই বার্তা নিয়ে: আপনারা আমাদের ওপর নির্ভর করতে পারেন।’
তিনি আরও বলেন, ‘এই যুদ্ধের ফলাফলের ওপর জার্মানির নিরাপত্তাও নির্ভর করছে। তাই নিজেদের স্বার্থেও আমরা সহায়তা করছি।’
শনিবার নর্দার্ন ব্রিজে প্রথম রুশ হামলায় দুজন আহত হয়েছিলেন বলে ক্লিচকো জানান। সেতুর সড়কের অংশ এবং ওপর দিয়ে যাওয়া ট্রলিবাসের বৈদ্যুতিক তারও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল।
এর কয়েক দিন আগে পিভদেননি (সাদার্ন) ব্রিজেও রুশ ড্রোন দিয়ে একাধিকবার হামলা চালানো হয়।
ডিনিপ্রো নদীর ওপর অবস্থিত পিভদেননি ও পিভনিচনি, এই দুই সেতু কিয়েভের পশ্চিম ও পূর্ব অংশকে যুক্ত করেছে। বৃহস্পতিবারের আগে এগুলোতে হামলা হয়নি।
রাশিয়া দাবি করেছে, তাদের ড্রোন দুটি সেতুতেই আঘাত হেনেছে, কারণ এগুলো ইউক্রেনীয় সেনা ও সামরিক সরঞ্জাম পরিবহনে ব্যবহৃত হয়। রাশিয়া বিদেশি নাগরিক, বিশেষ করে কূটনীতিকদের, কিয়েভ ছেড়ে যাওয়ার ব্যাপারেও আবার সতর্ক করেছে।
পিভদেননি ব্রিজে আগের হামলার পর কিয়েভের প্রতিরক্ষা কাউন্সিল শুক্রবার একটি জরুরি বৈঠক করে।
ক্লিচকো সতর্ক করে বলেছেন, শহর এখন ‘খুবই নাটকীয় পরিস্থিতির’ মধ্যে রয়েছে। তাঁর ভাষায়, মস্কো কিয়েভের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো, সরবরাহব্যবস্থা, আবাসিক এলাকা এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় ব্যাপক হামলা চালাচ্ছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, রুশ ড্রোন দিয়ে সরাসরি সেতু সম্পূর্ণ ধ্বংস করে ফেলা কঠিন। তবে বারবার হামলা হলে সেতুগুলো সাময়িকভাবে বন্ধ করতে হতে পারে এবং এর কাঠামো দুর্বল হয়ে পড়তে পারে, যার ফলে সেগুলো ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে উঠতে পারে।
রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন বলেছেন, রাশিয়া ইউক্রেনের রুশ জ্বালানি স্থাপনায় হামলার জবাব হিসেবে এসব হামলা চালাচ্ছে। তবে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, রাশিয়াই প্রথম ইউক্রেনের জ্বালানি অবকাঠামোতে এ ধরনের হামলা শুরু করেছিল।
রাশিয়া ২০২২ সালে ইউক্রেনে পূর্ণমাত্রার সামরিক অভিযান শুরু করে।
সূত্র: বিবিসি
kalprakash.com/IM