জয়পুরহাটের পাঁচবিবিতে যৌতুকের দাবিতে সাবেকুন নাহার (২৫) নামে এক গৃহবধূর শরীরে গরম পানি বা গরম তেলজাতীয় পদার্থ নিক্ষেপের অভিযোগ উঠেছে স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজনের বিরুদ্ধে।
গুরুতর দগ্ধ অবস্থায় গত পাঁচ দিন ধরে জয়পুরহাট ৪০০ শয্যা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ওই গৃহবধূ। তার শরীরের বিভিন্ন অংশ দগ্ধ হয়েছে বলে জানিয়েছেন চিকিৎসক। তবে ঘটনার সঠিক কারণ ও দায়ীদের বিষয়ে তদন্ত প্রয়োজন রয়েছে।
ভুক্তভোগী সাবেকুন নাহার জয়পুরহাট সদর উপজেলার কাদোয়া কয়রাপাড়া গ্রামের মোশাররফ হোসেনের মেয়ে। কয়েক বছর আগে পাঁচবিবি উপজেলার খাসবাট্টা-তৈফিকপাড়া গ্রামের আলেফ উদ্দীনের ছেলে সাজু মিয়ার সঙ্গে তার বিয়ে হয়।
ভুক্তভোগীর পরিবার ও স্বজনদের অভিযোগ, বিয়ের পর থেকেই যৌতুকের জন্য সাবেকুন নাহারের ওপর বিভিন্ন সময় চাপ সৃষ্টি করতেন তার স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজন। এ নিয়ে তাদের মধ্যে পারিবারিক বিরোধও চলছিল। এরই ধারাবাহিকতায় সম্প্রতি সাবেকুনের শরীরে গরম পানি বা গরম তেলজাতীয় পদার্থ নিক্ষেপ করা হয়। এতে তার শরীরের বিভিন্ন অংশ ঝলসে যায় বলে পরিবারের দাবি।
বর্তমানে জয়পুরহাট ৪০০ শয্যা হাসপাতালের বেডে চিকিৎসাধীন সাবেকুন নাহার। শরীরের বিভিন্ন স্থানে দগ্ধের চিহ্ন নিয়ে যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছেন তিনি। পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, ঘটনার পর গুরুতর অবস্থায় তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। গত পাঁচ দিন ধরে সেখানে তার চিকিৎসা চলছে।
ভুক্তভোগীর বাবা মোশাররফ হোসেন অভিযোগ করে বলেন, বিয়ের পর থেকেই মেয়ের শ্বশুরবাড়ির লোকজন যৌতুকের জন্য চাপ দিয়ে আসছিলেন। বিভিন্ন সময় বিষয়টি নিয়ে পারিবারিকভাবে সমাধানের চেষ্টা করা হলেও পরিস্থিতির পরিবর্তন হয়নি। সর্বশেষ তার মেয়ের শরীরে গরম পদার্থ নিক্ষেপ করে দগ্ধ করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
স্বজনদের দাবি, সাবেকুনের শরীরের বিভিন্ন অংশ দগ্ধ হওয়ায় তাকে নিয়মিত চিকিৎসা নিতে হচ্ছে। এ ঘটনায় পরিবারের সদস্যরা উদ্বেগ ও আতঙ্কের মধ্যে রয়েছেন।
জয়পুরহাট ৪০০ শয্যা হাসপাতালের সার্জারি রোগ বিশেষজ্ঞ সার্জন ডা. মুর্শিদা পারভীন জলি জানান, দগ্ধ অবস্থায় ওই গৃহবধূ হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। তার শরীরের বিভিন্ন অংশে দগ্ধের চিহ্ন রয়েছে। চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে তার চিকিৎসা চলছে।
ভুক্তভোগীর স্বজনদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরেই যৌতুকের জন্য সাবেকুন নাহারের ওপর চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছিল। তাদের দাবি, ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হোক।
অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে অভিযুক্তদের খাসবাট্টা-তৈফিকপাড়া গ্রামের বাড়িতে গিয়ে কাউকে পাওয়া যায়নি। পরে ভুক্তভোগীর স্বামী সাজু মিয়ার মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘আপনারা আমার গ্রামের বাড়িতে গিয়ে শুনে আসেন।’ তবে গৃহবধূকে পদার্থ নিক্ষেপ বা যৌতুক দাবির অভিযোগের বিষয়ে তিনি বিস্তারিত বক্তব্য দেননি।
এদিকে ভুক্তভোগীর পরিবারের পক্ষ থেকে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে।
পাঁচবিবি থানার অফিসার ইনচার্জ তামবিরুল ইসলাম বলেন, অভিযোগ পেলে বিষয়টি তদন্ত করে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
kalprakash.com/IM