কুমিল্লার দেবিদ্বারে বিদেশে ভালো চাকরি ও ওয়ার্ক পারমিট (আকামা) দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে এক যুবককে কম্বোডিয়ায় আটকে রেখে সাড়ে ১৩ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে এক মানবপাচারকারীর বিরুদ্ধে।
স্থানীয়দের দাবি, অভিযুক্ত আবুল হোসাইন রনি ও তার সংঘবদ্ধ চক্র শুধু এই যুবকের সঙ্গেই নয়; দেবিদ্বার উপজেলা ও আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে অন্তত ১০০ জনকে ভালো চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে বিদেশে নিয়ে একইভাবে প্রতারণা করে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে।
সর্বশেষ ঘটনায় ভুক্তভোগী ইব্রাহিম খলিল ওরফে সাদ্দামের স্ত্রী মুক্তা আক্তার (২৭) বাদী হয়ে অভিযুক্ত আবুল হোসাইন রনি, তার স্ত্রী ও মায়ের নাম উল্লেখ করে দেবিদ্বার থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন।
অভিযুক্তরা হলেন—দেবিদ্বারের বরকামতা এলাকার আবুল হোসাইন রনি (৪২), তার স্ত্রী আরফিন আক্তার (৩৩) এবং তার মা রমুজা বেগম (৬০)।
অভিযোগ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বিদেশে অবস্থানরত রনি দেশে থাকা তার স্ত্রী আরফিন আক্তার ও মা রমুজা বেগমের মাধ্যমে চক্রটি পরিচালনা করে আসছিলেন। একইভাবে সাদ্দামকে মাসিক ৬০ হাজার টাকা বেতনে কম্পিউটার দোকানে চাকরির প্রলোভন দেখানো হয়। ওয়ার্ক পারমিট দেওয়ার নিশ্চয়তা দিয়ে গত মে মাসে দুই দফায় নগদ ও বিকাশের মাধ্যমে মোট ৫ লাখ টাকা নেওয়া হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
পরবর্তীতে ২ জুন সাদ্দামকে কম্বোডিয়ায় পাঠানো হলেও সেখানে তাকে কাজ বা ওয়ার্ক পারমিট না দিয়ে জিম্মি করে আরও ২ হাজার ৫০০ ডলার (প্রায় ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা) নেওয়া হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
পরে গত ৪ সেপ্টেম্বর ব্যাংকের মাধ্যমে আরও ৩৫ হাজার টাকা নেওয়ার পর রনি কম্বোডিয়া থেকে সাদ্দামকে ইতালি পাঠানোর কথা বলে তার স্ত্রী ও মায়ের মাধ্যমে আরও ১২ লাখ টাকা দাবি করেন। পরিবারটি ১০ সেপ্টেম্বর রনির স্ত্রী ও মায়ের হাতে ৫ লাখ টাকা তুলে দেয়। তবে ১৪ সেপ্টেম্বর রনি তাকে ইতালিতে না পাঠিয়ে পাসপোর্ট নিয়ে আত্মগোপন করেন বলে অভিযোগে বলা হয়েছে।
পাসপোর্ট না থাকা এবং হোটেলের বকেয়া বিলের কারণে সাদ্দাম বর্তমানে কম্বোডিয়ায় জিম্মি অবস্থায় রয়েছেন বলে পরিবার সূত্রে জানা গেছে। এতে তিনি আইনি জটিলতা ও পুলিশি গ্রেপ্তারের আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন। তাকে দেশে ফিরিয়ে আনতেও মোটা অঙ্কের জরিমানা পরিশোধ করতে হবে বলে পরিবারের দাবি।
এদিকে ভুক্তভোগীর পরিবার দেবিদ্বার উপজেলার বাগুর এলাকায় অভিযুক্তদের ভাড়া বাসায় বিষয়টি সমাধানের কথা বলতে গেলে রনির স্ত্রী ও মা উল্টো হুমকি-ধামকি ও ভয়ভীতি প্রদর্শন করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
এলাকাবাসীর দাবি, দেবিদ্বারসহ আশপাশের উপজেলার অনেক পরিবার রনি ও তার চক্রের খপ্পরে পড়ে নিঃস্ব হয়েছে।
অভিযোগের বিষয়টি নিশ্চিত করে দেবিদ্বার থানা পুলিশ জানায়, লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। চক্রটির বিরুদ্ধে ওঠা মানবপাচার ও প্রতারণার অভিযোগ গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
kalprakash.com/IM