রবিবার, ১ নভেম্বর, ২০২৬ | ১৬ কার্তিক, ১৪৩৩ | ২০ জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮ | বিকাল ৪:২১:১৮
শিরোনাম
● বান্দরবানে গ্রাম পুলিশ সদস্যদের মাসব্যাপী বুনিয়াদি প্রশিক্ষণ শুরু ● স্যালোমেশিনের পানির গর্ত থেকে নারী-পুরুষের অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার ● যুব অলিম্পিকে বাংলাদেশ অ্যাথলেটিক্স দলের কোচ কাম ম্যানেজার যবিপ্রবির কাফি ● পাবনা মানসিক হাসপাতালে দালালচক্রের ৪ সদস্যের কারাদণ্ড ● নানা আয়োজনে শিবচরে জাতীয় যুব দিবস উদ্‌যাপন, প্রশিক্ষণার্থীদের মধ্যে সনদ ও ঋণ বিতরণ ● ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও কুমিল্লা সীমান্তে ৪০ লাখ টাকার ভারতীয় চোরাচালানি পণ্য জব্দ ● আত্মনির্ভরশীল যুবসমাজ গড়ার প্রত্যয়ে চিতলমারীতে জাতীয় যুব দিবস পালন ● দলীয় পরিচয়ে আর্থিক সুবিধা আদায়ের চেষ্টা করলে ব্যবস্থা: প্রতিমন্ত্রী পুতুল ● সরকার নির্লজ্জ দলীয়করণের মাধ্যমে বেকার যুবকদের পেটে লাথি মারতে চায়: সাদিক কায়েম ● জবিতে কেমিস্ট্রি অলিম্পিয়াডের প্রাথমিক পর্ব, আন্তর্জাতিক আসরে যাবে চার শিক্ষার্থী ● বান্দরবানে গ্রাম পুলিশ সদস্যদের মাসব্যাপী বুনিয়াদি প্রশিক্ষণ শুরু ● স্যালোমেশিনের পানির গর্ত থেকে নারী-পুরুষের অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার ● যুব অলিম্পিকে বাংলাদেশ অ্যাথলেটিক্স দলের কোচ কাম ম্যানেজার যবিপ্রবির কাফি ● পাবনা মানসিক হাসপাতালে দালালচক্রের ৪ সদস্যের কারাদণ্ড ● নানা আয়োজনে শিবচরে জাতীয় যুব দিবস উদ্‌যাপন, প্রশিক্ষণার্থীদের মধ্যে সনদ ও ঋণ বিতরণ ● ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও কুমিল্লা সীমান্তে ৪০ লাখ টাকার ভারতীয় চোরাচালানি পণ্য জব্দ ● আত্মনির্ভরশীল যুবসমাজ গড়ার প্রত্যয়ে চিতলমারীতে জাতীয় যুব দিবস পালন ● দলীয় পরিচয়ে আর্থিক সুবিধা আদায়ের চেষ্টা করলে ব্যবস্থা: প্রতিমন্ত্রী পুতুল ● সরকার নির্লজ্জ দলীয়করণের মাধ্যমে বেকার যুবকদের পেটে লাথি মারতে চায়: সাদিক কায়েম ● জবিতে কেমিস্ট্রি অলিম্পিয়াডের প্রাথমিক পর্ব, আন্তর্জাতিক আসরে যাবে চার শিক্ষার্থী

টাকা আছে, কবরের জায়গা নেই

অনলাইন ডেস্ক
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৩:০০
শেয়ার: mail
টাকা আছে, কবরের জায়গা নেই

রাজধানীর অভিজাত এলাকা বনানীতে দুই হাজার বর্গফুটের একটি ফ্ল্যাট কিনতে যেখানে খরচ হয় প্রায় ৫ কোটি টাকা, সেখানে একই এলাকায় মাত্র ২০ বর্গফুটের একটি কবর ২৫ বছরের জন্য সংরক্ষণ করতে গুনতে হচ্ছে প্রায় সাড়ে ৪ কোটি টাকা। জীবনের শেষ ঠিকানার সামান্য সাড়ে তিন হাত মাটির দাম এখন একটি বিলাসবহুল ফ্ল্যাটের প্রায় সমান হয়ে দাঁড়িয়েছে।

এক প্রতিবেদনে দৈনিক বণিক বার্তা জানায়, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) পরিচালিত বনানী কবরস্থানে কবরের তীব্র সংকট দীর্ঘদিনের। নতুন করে জায়গা বাড়ানোর সুযোগ না থাকায় পুরোনো কবরের ওপরই নিয়মিত পুনর্ব্যবহার করে নতুন দাফনের ব্যবস্থা করা হচ্ছে।

কবরস্থান সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর তথ্যমতে, বনানী কবরস্থানে ১৫ বছরের জন্য একটি কবর সংরক্ষণে ফি নির্ধারিত রয়েছে প্রায় ৩ কোটি টাকা। আর ২৫ বছরের জন্য সেই সংরক্ষণের খরচ বেড়ে দাঁড়ায় প্রায় সাড়ে ৪ কোটি টাকায়। এছাড়া কোনো স্থায়ী কবরে নির্দিষ্ট সময় পর পুনর্ব্যবহার করে নতুন মরদেহ দাফন করতে ফি দিতে হয় ৫০ হাজার ৫০০ টাকা। চড়া মূল্য দিয়েও প্রতিদিন স্বজনের জন্য কিংবা নিজের মৃত্যুর কথা চিন্তা করে কবরের আগাম জায়গা কিনতে এসে ব্যর্থ হয়ে ফিরছেন অনেকে।

বনশ্রী আবাসিক এলাকার ৬৫ বছর বয়সী শহিদুল আলম জানান, মৃত্যুর আগে নিজের জন্য একটি স্থায়ী কবরের জায়গা কিনতে কয়েক বছর ধরে বিভিন্ন কবরস্থানে ঘুরছেন। চার-পাঁচ কোটি টাকা দিতে রাজি থাকা সত্ত্বেও বনানীতে কবরের জায়গা বরাদ্দ পাচ্ছেন না।

কবরস্থানের দায়িত্বে থাকা মহরার হারুনুর রশীদ জানান, বনানী কবরস্থানে বর্তমানে ৯ হাজারের বেশি কবর রয়েছে। নতুন জমি না থাকায় প্রতি দুই বছর পর পর পুরোনো কবরের ওপর নতুন করে দাফন করা হচ্ছে। এমনকি কোনো কোনো স্থায়ী কবরে এ পর্যন্ত সাতজন পর্যন্ত দাফন করা হয়েছে। প্রতিদিন গড়ে ১০ থেকে ১২ জন কবরের জায়গা খুঁজতে এলেও স্থানসংকুলান না হওয়ায় কাউকে জমি দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।

একই রকম সংকট চলছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের আওতাধীন ঐতিহ্যবাহী আজিমপুর কবরস্থানেও। প্রায় ৩২ একর আয়তনের এই কবরস্থানে রয়েছে প্রায় ৩০ হাজার কবর। এখানে প্রতিদিন গড়ে ২৫ থেকে ৩০টি মরদেহ দাফন করা হয়। সাধারণত ১৮ মাস পর পর পুরোনো কবরগুলো নতুন করে দাফনের জন্য ব্যবহার করা হয়। কবরস্থানের মহরার রবিউল ইসলাম জানান, দীর্ঘমেয়াদে কবর সংরক্ষণের জন্য ফি জমার নিয়ম থাকলেও জায়গার তীব্র সংকটের কারণে হাজার হাজার আবেদন অনিষ্পন্ন হয়ে পড়ে রয়েছে।

নগর পরিকল্পনাবিদরা বলছেন, অপরিকল্পিত নগরায়ন ও জনসংখ্যার বিস্ফোরণের কারণে রাজধানীতে কবরস্থানের সংকট চরম আকার ধারণ করেছে। মাস্টারপ্ল্যানে আবাসন, সড়ক ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের ওপর জোর দেওয়া হলেও কবরস্থানের ভবিষ্যৎ চাহিদা বরাবরই উপেক্ষিত থেকেছে।

বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব প্ল্যানার্সের (বিআইপি) সাবেক সভাপতি অধ্যাপক ড. আকতার মাহমুদ বলেন, কবরস্থানও একটি মৌলিক ও অপরিহার্য নগরসেবা। জায়গার তীব্র সংকটের কারণেই মূলত সিটি করপোরেশন সংরক্ষণকে নিরুৎসাহিত করতে এত আকাশচুম্বী ফি নির্ধারণ করেছে।

রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) প্রধান নগর পরিকল্পনাবিদ মো. আশরাফুল ইসলাম জানান, বেসরকারি ভূমি উন্নয়ন বিধিমালা অনুসারে প্রতি ৫০ হাজার মানুষের জন্য এক একর কবরস্থান থাকা প্রয়োজন। সে হিসাবে ভবিষ্যতে ঢাকার সম্ভাব্য সাড়ে তিন কোটি জনসংখ্যার জন্য অন্তত ৭০০ একর কবরস্থান প্রয়োজন হবে। সংকট উত্তরণে সংশোধিত বিশদ অঞ্চল পরিকল্পনায় (ড্যাপ) প্রতিটি ওয়ার্ডে ছোট পরিসরে কবরস্থান নির্মাণের সুনির্দিষ্ট সুপারিশ করা হয়েছে।

kalprakash.com/IM

এই সম্পর্কিত আরও সংবাদ

সব দেখুন arrow_forward
Logo
শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | Globe kalprakash.com

টাকা আছে, কবরের জায়গা নেই

বিস্তারিত কমেন্টে