একদিকে চলছে বিভিন্ন বিভাগের ক্লাস ও পরীক্ষা, অন্যদিকে একই সময়ে বাজছে ঢোল, বাঁশি আর উচ্চশব্দের সাউন্ডবক্স। কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে (কুবি) এমন চিত্র প্রায় নিয়মিতই চোখে পড়ে। এমন উচ্চশব্দের আয়োজনের কারণে ক্লাস–পরীক্ষা, উপস্থাপনা (প্রেজেন্টেশন) ও ভাইভায় মনোযোগে মারাত্মক ব্যাঘাত ঘটছে বলে অভিযোগ শিক্ষার্থীদের।
শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বিভিন্ন বিভাগের সপ্তাহব্যাপী সাংস্কৃতিক ও ক্রীড়া প্রতিযোগিতা, প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপনে ব্যান্ডপার্টিসহ শোভাযাত্রা ও ফ্ল্যাশমবের মতো নানা আয়োজন করা হয় একাডেমিক ভবনের কাছাকাছি। এসব আয়োজন একাডেমিক ভবন থেকে সরিয়ে কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে করার দাবি জানিয়েছেন শিক্ষার্থীরা।
বিশ্ববিদ্যালয়ের লোকপ্রশাসন বিভাগের শিক্ষার্থী আফতাবুল হক খান বলেন, ‘ক্যাম্পাসে বিভিন্ন অনুষ্ঠানের সময় উচ্চশব্দের কারণে আমাদের নিয়মিত একাডেমিক কার্যক্রম, বিশেষ করে ক্লাসে মনোযোগ দেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। এছাড়া অতিরিক্ত শব্দের কারণে অনেক সহপাঠী মাথাব্যথা, মাইগ্রেন ও উদ্বেগজনিত শারীরিক সমস্যায় ভোগেন। উচ্চশব্দ তৈরি করে এমন অনুষ্ঠানগুলো একাডেমিক ভবন থেকে দূরে নির্দিষ্ট কোনো মাঠে করা হলে একদিকে যেমন উৎসব বিঘ্নিত হবে না, অন্যদিকে শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশও বজায় থাকবে।’
পরিসংখ্যান বিভাগের শিক্ষার্থী খাইরুল আমিন রাব্বি জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ে সাংস্কৃতিক কিংবা ক্রীড়া উৎসব হওয়া অবশ্যই ইতিবাচক। তবে ক্লাস চলাকালে অতিরিক্ত বাদ্যযন্ত্র ও সাউন্ডবক্সের তীব্র আওয়াজ শিক্ষার্থীদের মনোযোগ নষ্ট করে। বিশেষ করে বিভিন্ন বিভাগের সেমিস্টার ফাইনাল পরীক্ষা, প্রেজেন্টেশন ও ভাইভা সেশন চলাকালে এ ধরনের উচ্চশব্দ চরম বিড়ম্বনা তৈরি করে।
গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থী ইউসুফ কালাম খান বলেন, ‘শান্ত ও সুশৃঙ্খল পরিবেশই শিক্ষার প্রথম শর্ত। পরীক্ষা ও ক্লাস চলাকালে শব্দদূষণ রোধে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে অনতিবিলম্বে কঠোর ভূমিকা ও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে হবে।’
শিক্ষার্থীদের এই অভিযোগ ও দুর্ভোগের বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র পরামর্শ ও নির্দেশনা দপ্তরের পরিচালক ড. মোহাম্মদ জুলহাস উদ্দীন জানান, অনুষ্ঠানগুলো যেন একাডেমিক ভবন থেকে পর্যাপ্ত দূরত্বে করা হয়, সেজন্য ইতিমধ্যেই সংশ্লিষ্ট সব বিভাগকে সতর্ক করা হয়েছে। পাশাপাশি ক্যাম্পাস পরিচ্ছন্ন ও শব্দমুক্ত রাখতে বিষয়টিকে বিশ্ববিদ্যালয় শৃঙ্খলা কমিটির নজরে আনা হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. আবদুল হাকিম বলেন, ‘আমরা স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছি যেন ক্লাস-পরীক্ষার সময় ভবনের কাছাকাছি বাদ্যযন্ত্র বা সাউন্ডবক্স ব্যবহার না করা হয়। একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি হলে প্রশাসন সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।’
kalprakash.com/IM