দেশের অধিকাংশ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে উপ-উপাচার্য (প্রো-ভিসি) নিয়োগ সম্পন্ন হলেও প্রায় আড়াই বছর ধরে এ শীর্ষ পদটি শূন্য রয়েছে রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে (বেরোবি)। ২০২৪ সালের মার্চে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. সরিফা সালোয়া ডিনার চার বছরের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর পদটিতে নতুন কাউকে আর নিয়োগ দেওয়া হয়নি। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের প্রথম শহীদ আবু সাঈদের স্মৃতিবিজড়িত এই বিদ্যাপীঠে দীর্ঘদিন ধরে গুরুত্বপূর্ণ পদটি ফাঁকা থাকায় প্রশাসনিক কার্যক্রমে গতিহীনতা তৈরি হয়েছে।
শুধু উপ-উপাচার্যই নন, প্রায় দুই বছর শূন্য থাকার পর গত ২৩ জুলাই জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের গণিত বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. আবু হানিফ সরকারকে নতুন ট্রেজারার হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হলেও এক মাস পেরিয়ে গেলেও তিনি এখনো দায়িত্ব গ্রহণ করেননি। ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ের শীর্ষ প্রশাসনিক কাঠামোর দুটি গুরুত্বপূর্ণ পদ নিয়েই জটিলতা সৃষ্টি হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ২০২০ সালের ১০ মার্চ জারি করা প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে বাংলা বিভাগের অধ্যাপক ড. সরিফা সালোয়া ডিনাকে চার বছরের জন্য প্রথম উপ-উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। তিনি ২০২৪ সালের মার্চ পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন। তাঁর মেয়াদ শেষ হওয়ার পর দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও নতুন নিয়োগ হয়নি। বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় আইন, ২০০৯-এর ১২(১) ধারা অনুযায়ী চার বছরের জন্য কোনো অধ্যাপককে উপ-উপাচার্য পদে নিয়োগ দেওয়ার এখতিয়ার রাষ্ট্রপতির রয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও কর্মকর্তারা জানান, উপাচার্যের অনুপস্থিতিতে সার্বিক প্রশাসনিক কাজ পরিচালনা, একাডেমিক কার্যক্রমের নিবিড় তদারকি এবং বিভিন্ন নীতিনির্ধারণী কমিটির সমন্বয়ে উপ-উপাচার্য ও ট্রেজারারের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দীর্ঘদিন পদ দুটি কার্যত নিষ্ক্রিয় থাকায় সার্বিক চাপ উপাচার্যের ওপর পড়ছে। এর আগে ২০২৪ সালের ১৭ আগস্ট তৎকালীন ট্রেজারার অধ্যাপক ড. মজিব উদ্দিন আহমদ পদত্যাগ করার পর থেকে ট্রেজারার পদটিও শূন্য ছিল।
বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের দাবি, শিক্ষা ও গবেষণার গতিশীলতা বজায় রাখা এবং সুষ্ঠু আর্থিক ব্যবস্থাপনার স্বার্থে দ্রুত যোগ্য উপ-উপাচার্য নিয়োগ এবং নবনিযুক্ত ট্রেজারারের কার্যকর যোগদান নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
এ বিষয়ে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. শওকাত আলী বলেন, ‘উপ-উপাচার্য ও ট্রেজারার নিয়োগের বিষয়টি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের হাতে নেই। এসব পদে মহামান্য রাষ্ট্রপতি তথা বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য নিয়োগ দিয়ে থাকেন।’
kalprakash.com/IM