পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (পাবিপ্রবি) বিভিন্ন শিক্ষার্থীর নাম ব্যবহার করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভুয়া (ফেক) অ্যাকাউন্ট খুলে অপপ্রচার ও মানহানিকর তথ্য ছড়ানোর অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী পাবনা সদর থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন।
জানা গেছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কয়েকটি ভুয়া আইডি থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের নাম ও পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন ধরনের ভিত্তিহীন পোস্ট ও মন্তব্য করা হচ্ছে। এতে সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীরা সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন হওয়ার পাশাপাশি তাঁদের ব্যক্তিগত ও শিক্ষাজীবনে মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।
এ ঘটনায় গত বুধবার (২৬ আগস্ট) পাবনা সদর থানায় সাধারণ ডায়েরি দায়ের করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং (সিএসই) বিভাগের ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মো. রিফাত হোসেন। জিডিতে ভুয়া আইডি ব্যবহার করে অপপ্রচার চালানো এবং শিক্ষার্থীদের নাম-পরিচয় ব্যবহার করে সামাজিক সম্মানহানির অভিযোগ আনা হয়েছে।
অভিযোগকারী শিক্ষার্থী মো. রিফাত হোসেন বলেন, “গত ২৪ আগস্ট আইসিই বিভাগের একটি অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাকে কেন্দ্র করে আমাকে ও আমার সহপাঠী চৈতীকে জড়ানোর অপচেষ্টা করা হচ্ছে। এছাড়া ইতিহাস, সমাজকর্ম ও ফার্মেসি বিভাগেরও কয়েকজন শিক্ষার্থীর নামে এমন মিথ্যা গুজব ছড়ানো হচ্ছে। আমাদের নামে ছড়ানো এসব তথ্য সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও বানোয়াট। ঘটনার সময় আমি নিজ কক্ষে অবস্থান করছিলাম এবং এর স্পষ্ট প্রমাণ আমার কাছে রয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, “বিষয়টি প্রক্টরিয়াল বডিকে অবহিত করা হয়েছে এবং তাঁরা তদন্তের আশ্বাস দিয়েছেন। পাশাপাশি আমি থানায় জিডি করেছি। অপরাধীদের শনাক্তে ডিবি পুলিশ ও পুলিশের সাইবার ক্রাইম ইউনিট কাজ শুরু করেছে।”
পাবনা সদর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. মানিক হোসেন বলেন, “গত ২৬ আগস্ট এ বিষয়ে থানায় একটি জিডি হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে আমরা তদন্ত করছি। বাংলাদেশ পুলিশের সাইবার ক্রাইম ইউনিটের সহায়তায় ভুয়া আইডি শনাক্ত ও ট্রেস করার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। তদন্ত শেষে জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় নিয়ে আসা হবে।”
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মো. কামরুজ্জামান খান বলেন, “আইসিই বিভাগের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা নিয়ে কিছু ফেক আইডি থেকে সিএসই, ইতিহাস, বাংলা, সমাজকর্ম ও ফার্মেসি বিভাগের সাধারণ শিক্ষার্থীদের নিয়ে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এ বিষয়ে পুরোপুরি অবগত রয়েছে। প্রকৃতপক্ষে এমন কোনো ঘটনা ঘটেনি। অপরাধীদের শনাক্ত করতে তদন্ত চলছে এবং দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর প্রশাসনিক ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
kalprakash.com/IM