তেজগাঁও কলেজের থিয়েটার অ্যান্ড মিডিয়া স্টাডিজ বিভাগের উদ্যোগে মঞ্চস্থ হলো কথাসাহিত্যিক মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কালজয়ী উপন্যাস অবলম্বনে নির্মিত নাটক ‘পদ্মা নদীর মাঝি’। তিন দিনব্যাপী প্রদর্শনীর প্রথম দিনেই দর্শকদের ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছে প্রযোজনাটি।
বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) সন্ধ্যা ৭টায় নাটকটির উদ্বোধনী প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয়। ‘পদ্মা নদীর মাঝি’ মূলত পদ্মাপাড়ের জেলেদের জীবনসংগ্রামের গল্প হলেও এর ভেতর দিয়ে শ্রম, দারিদ্র্য, শ্রেণি-শোষণ, প্রেম, আত্মিক আকাঙ্ক্ষা, প্রকৃতির সঙ্গে মানুষের দ্বন্দ্ব এবং মুক্তির আকুতি গভীর বাস্তবতায় ফুটে উঠেছে। জেলেদের জীবনকে কেবল করুণার দৃষ্টিতে না দেখে তাদের শ্রম, অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা ও অস্তিত্বসংকটের বাস্তবতা থেকে তুলে ধরার প্রয়াস ছিল এই প্রযোজনায়, যা অতীতের জেলেপল্লির জীবনের সঙ্গে বর্তমান প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর বাস্তবতার এক নিবিড় সংযোগ তৈরি করে।
নাটকটির উদ্বোধনী মঞ্চায়নে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন তেজগাঁও কলেজ পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি এবং প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা (মন্ত্রী পদমর্যাদা) অধ্যাপক ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর।
প্রযোজনাটির মঞ্চ পরিকল্পনা ও নির্দেশনায় ছিলেন থিয়েটার অ্যান্ড মিডিয়া স্টাডিজ বিভাগের সহকারী অধ্যাপক সৈয়দ মুহাম্মদ জুবায়ের। এর প্রাথমিক নাট্যরূপ করেছেন মো. রেজওয়ান, ড্রামাটার্গ হিসেবে ছিলেন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ড. জাহারাবী রিপন এবং পাণ্ডুলিপি সম্পাদনায় ছিলেন মিনহাজ উদ্দিন নাকিব।
নাটকের বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করেছেন—কুবের চরিত্রে রাইসুল ইসলাম রোমান, কপিলা চরিত্রে নুসরাত লামিয়া, হোসেন মিয়া চরিত্রে আতিকুল ইসলাম, গণেশ চরিত্রে মো. রেজওয়ান, মালা চরিত্রে তাসনিম হায়দার লুবনা, গোপি চরিত্রে নুসরাত জাহান সাদিয়া এবং রাসু চরিত্রে মিনহাজ উদ্দিন নাকিব। এছাড়া ধনঞ্জয়, বৈকুণ্ঠ ও বঙ্কু চরিত্রে তুর্য দত্ত; পীতম ও পুলিশ চরিত্রে মাশরাফি সজিব; নকুল দাস ও আফিম ব্যবসায়ী চরিত্রে এম সাইফুর রহমান; আমিনুদ্দিন ও ডাক্তার বাবু চরিত্রে অন্তর মুন্সি; শীতল বাবু চরিত্রে রাহিম চৌধুরি সাগর; শম্ভু চরিত্রে শাহরিয়ার কাদির এবং আমিনুদ্দিনের মেয়ের চরিত্রে অভিনয় করেন ইসরাত বিনতে তুবা।
আলোক পরিকল্পনা ও অভিনয় প্রশিক্ষণে ছিলেন থিয়েটার অ্যান্ড মিডিয়া স্টাডিজ বিভাগের সহকারী অধ্যাপক আতিকুল ইসলাম। সহকারী আলোক পরিকল্পক হিসেবে ছিলেন মেহেদী হাসান ও নাসিরউদ্দিন জীবন। মঞ্চ ব্যবস্থাপনায় মাশরাফি সজিব, সহকারী মঞ্চ ব্যবস্থাপনায় অন্তর মুন্সি এবং সহকারী মঞ্চ পরিকল্পনায় ছিলেন মাশরাফি সজিব, ফজলে রাব্বি মুন্না ও নাসিরউদ্দিন জীবন। পোশাক পরিকল্পনা ও রূপসজ্জায় ছিলেন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ড. লতা সমদ্দার। সঙ্গীত পরিকল্পনায় ছিলেন প্রভাষক শারমিন সুলতানা নিপা এবং সঙ্গীত পরিকল্পনা সহকারী ও প্রক্ষেপণে ছিলেন মোকাদ্দেসুর রহমান সান। দ্রব্যসামগ্রী পরিকল্পনা ও নির্মাণে ছিলেন মাশরাফি সজিব ও ইসরাত বিনতে তুবা। পোস্টার ডিজাইন করেছেন মোকাদ্দেসুর রহমান সান এবং ব্রোশিওর নির্মাণে ছিলেন মিনহাজ উদ্দিন নাকিব ও মেহেদী হাসান।
প্রযোজনাটির সমন্বয়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন থিয়েটার অ্যান্ড মিডিয়া স্টাডিজ বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ও সহকারী অধ্যাপক নওরীন সাজ্জাদ। এতে প্রযোজনা অধিকর্তা হিসেবে রয়েছেন কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ অধ্যাপক শামীমা ইয়াসমিন। এছাড়া প্রযোজনা উপদেষ্টা হিসেবে রয়েছেন ভারপ্রাপ্ত উপাধ্যক্ষ (প্রশাসন) অধ্যাপক নুর নবী আল মাহমুদ ও ভারপ্রাপ্ত উপাধ্যক্ষ (একাডেমিক) অধ্যাপক মোহাম্মদ রফিকুল আলম।
আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আগামী ২৮ ও ২৯ আগস্টও একই সময়ে (সন্ধ্যা ৭টায়) নাটকটির নিয়মিত প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হবে।
kalprakash.com/IM