ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার পূর্ব গোয়ালপাড়া এলাকায় পীরস্থানের ধর্মীয় জমি দখল, কবর ও ঘর ভাঙচুর এবং পাকা প্রাচীর নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় সাতজনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা কয়েকজনের বিরুদ্ধে ঠাকুরগাঁও সদর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন স্থানীয় বাসিন্দা মো. সোহেল রানা (৪৪)।
অভিযোগে অভিযুক্ত ব্যক্তিরা হলেন—মো. কাশেম আলী, মোছা. রাবেয়া বেগম, মো. নূর নবী, মো. রশিদুল ইসলাম, মোছা. হেনা বেগম, মো. জোবায়দুর রহমান এবং মো. সাইদুর রহমান ওরফে বাবু।
লিখিত অভিযোগে মো. সোহেল রানা দাবি করেন, পূর্ব গোয়ালপাড়া এলাকায় সিএস ও এসএ খতিয়ানভুক্ত প্রায় পাঁচ শতক জমি পীরস্থানের ধর্মীয় ও জনসাধারণের ব্যবহারের সম্পত্তি হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় মুসল্লি ও এলাকাবাসী ব্যবহার করে আসছেন। জমিটি বিক্রয়যোগ্য না হলেও অভিযুক্তরা পরস্পর যোগসাজশে তা নিজেদের দখলে নেওয়ার চেষ্টা চালান। এর অংশ হিসেবে অভিযুক্ত মো. কাশেম আলী বিভিন্ন দলিলের মাধ্যমে জমি ক্রয় দেখিয়ে পরবর্তীতে নামজারি করান।
অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, গত ২১ আগস্ট (২০২৬) রাত আনুমানিক সাড়ে ১১টার দিকে অভিযুক্তরা দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র ও সরঞ্জাম নিয়ে পীরস্থানের জমিতে প্রবেশ করেন। এ সময় সেখানে থাকা ঘর ও পীরের কবর ভাঙচুর করে প্রায় তিন শতক জমি জোরপূর্বক দখল করা হয়। একই সঙ্গে রাতেই ইট ও সিমেন্ট এনে সেখানে পাকা সীমানাপ্রাচীর নির্মাণ করা হয়।
অভিযোগকারী আরও জানান, পরদিন ২২ আগস্ট দুপুরে স্থানীয় কয়েক শত মানুষ ঘটনাস্থলে গিয়ে এর প্রতিবাদ জানালে অভিযুক্তরা তাঁদের ভয়ভীতি ও প্রাণনাশের হুমকি দেন। এ ঘটনায় আইনি প্রতিকার চেয়ে ঠাকুরগাঁও সদর থানায় খতিয়ান, দলিল ও এলাকাবাসীর স্বাক্ষরযুক্ত গণপিটিশনসহ লিখিত অভিযোগ দাখিল করা হয়েছে।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে অভিযুক্ত মো. কাশেম আলী বলেন, “নিয়ম মেনেই জমি ক্রয় করা হয়েছে। এ নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে কয়েক দফায় আলোচনা চলছে। সমাধান না হলে আইনি পদক্ষেপ নেব।”
এ বিষয়ে ঠাকুরগাঁও সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাজাহান আলী জানান, জমি দখলের বিষয়ে এলাকাবাসীর গণস্বাক্ষরযুক্ত একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
kalprakash.com/IM