রাজধানীর রামপুরা ব্রিজ এলাকায় ট্রাফিক সিগন্যালের মাঝপথে বাস থামিয়ে যাত্রী ওঠানামার ঘটনায় দিন দিন বাড়ছে যানজট ও দুর্ঘটনার ঝুঁকি। নির্ধারিত বাসস্টপেজের পরিবর্তে ব্যস্ত সড়কের ওপর বাস দাঁড় করিয়ে যাত্রী তোলায় একদিকে যেমন স্বাভাবিক যান চলাচলে বিঘ্ন ঘটছে, অন্যদিকে পথচারী ও যাত্রীদের জীবনও পড়ছে চরম ঝুঁকিতে।
শনিবার (২২ আগস্ট) সরেজমিনে দেখা যায়, রামপুরা ব্রিজের সিগন্যালসংলগ্ন সড়কে মাঝরাস্তায় দাঁড়িয়ে যাত্রী ওঠানামা করছে গণপরিবহন। এ সময় বাসগুলোর পেছনে অন্যান্য যানবাহন আটকে পড়তে দেখা যায়। একই সঙ্গে পথচারীদেরও চলন্ত যানবাহনের মধ্য দিয়ে ঝুঁকি নিয়ে রাস্তা পার হতে হচ্ছে। ফলে সড়কের স্বাভাবিক গতি ব্যাহত হয়ে তৈরি হচ্ছে তীব্র যানজট।
স্থানীয়দের অভিযোগ, রামপুরা ব্রিজ এলাকায় দীর্ঘদিন ধরেই অনেক বাস নির্ধারিত স্টপেজের বাইরে দাঁড়িয়ে যাত্রী ওঠানামা করে। অনেক সময় সিগন্যালের কাছাকাছি কিংবা সড়কের মাঝামাঝি অবস্থান করেই যাত্রী তোলার প্রতিযোগিতায় নামে বাসগুলো। এতে পেছনে থাকা অন্যান্য যানবাহনকে হঠাৎ গতি কমাতে বা ব্রেক করতে হয়, যা প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনার আশঙ্কা বাড়িয়ে দিচ্ছে।
এমন পরিস্থিতিতে দুর্ঘটনার আশঙ্কা যে শুধু আশঙ্কাই নয়, তার প্রমাণ মিলেছে সাম্প্রতিক ঘটনাতেও। গত ৩০ জুলাই রামপুরা ব্রিজের পুলিশ বক্সের সামনে ‘আলিফ এন্টারপ্রাইজ’-এর বাসে উঠতে গিয়ে শাহ খন্দকার সাজেদুল আলম (৫০) নামে এক যাত্রী বাসের চাকায় পিষ্ট হয়ে নিহত হন। বনশ্রীমুখী সড়কে চলন্ত বাসে যাত্রী তোলার সময় তিনি পা পিছলে পড়ে গিয়ে বাসের চাকার নিচে চাপা পড়েন বলে পুলিশ জানিয়েছিল।
এর আগেও রামপুরা ব্রিজ ও প্রগতি সরণি এলাকায় বাসের অনিয়ন্ত্রিত যাত্রী ওঠানামা ও সড়কের বিশৃঙ্খলার বিষয়টি বিভিন্ন সময়ে আলোচনায় এসেছে। রামপুরা ব্রিজ থেকে বাড্ডা পর্যন্ত সড়কে বাসগুলো ইচ্ছেমতো থামিয়ে যাত্রী তোলায় নিয়মিত যানজট সৃষ্টি হচ্ছে।
নগরবাসীর প্রশ্ন, বড় কোনো দুর্ঘটনা ঘটার পর সাময়িক ব্যবস্থা নেওয়ার পরিবর্তে দুর্ঘটনার আগেই কেন কার্যকর নিয়ন্ত্রণ ও ট্রাফিক শৃঙ্খলা নিশ্চিত করা হচ্ছে না? ব্যস্ত সড়কের সিগন্যাল এলাকায় বাসের যাত্রী ওঠানামা পুরোপুরি বন্ধ করে নির্ধারিত স্টপেজে বাস থামানোর নিয়ম কার্যকর করা হলে যানজট কমার পাশাপাশি দুর্ঘটনার ঝুঁকিও বহুলাংশে কমানো সম্ভব।
রামপুরা ব্রিজ দিয়ে প্রতিদিন রাজধানীর বিপুলসংখ্যক মানুষ যাতায়াত করেন। তাই যাত্রীদের নিরাপত্তা ও সড়কে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ প্রত্যাশা করছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও পথচারীরা।
kalprakash.com/IM