নরসিংদীর মনোহরদীতে পিত্তথলির অস্ত্রোপচারের পর ঢাকায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় এক রোগীর মৃত্যুর অভিযোগ তুলে একটি সাততলা হাসপাতালে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। তবে রোগীর মৃত্যুর আগেই কীভাবে হামলার ঘটনা ঘটল এবং এর নেপথ্যে কারা জড়িত—তা নিয়ে স্থানীয়দের মাঝে নানা প্রশ্ন উঠেছে।
শুক্রবার (২১ আগস্ট) সন্ধ্যায় মনোহরদী বাইপাস রোডের ‘মনোহরদী ল্যাব এইড হাসপাতালে’ এই হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। এতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের প্রায় ৬০ থেকে ৭০ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে প্রাথমিক ধারণা করা হচ্ছে।
হাসপাতাল ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মনোহরদীর বীরমাইজদিয়া গ্রামের কবির হোসেনের স্ত্রী আকলিমা বেগম (২৮) পিত্তথলির সমস্যা নিয়ে মনোহরদী ল্যাব এইড হাসপাতালে ভর্তি হন। সেখানে সার্জন ডা. রাহাত বিন কাসেমের তত্ত্বাবধানে তাঁর অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হয়। পরবর্তীতে রোগীর শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় রেফার করা হয়। ঢাকার একটি হাসপাতালে লাইফ সাপোর্টে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শুক্রবার দিবাগত রাত ১টার দিকে তাঁর মৃত্যু হয়।
এদিকে রোগী ঢাকায় চিকিৎসাধীন ও লাইফ সাপোর্টে থাকা অবস্থাতেই শুক্রবার সন্ধ্যায় মনোহরদী ল্যাব এইড হাসপাতালে একদল উচ্ছৃঙ্খল নারী-পুরুষ হামলা চালায়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, চালাকচরের দিক থেকে চারটি ইজিবাইকে করে ২০ থেকে ৩০ জনের একটি দল এসে আকস্মিক এ হামলা চালায়।
হামলাকারীরা নিচতলা থেকে শুরু করে সাততলা পর্যন্ত হাসপাতালের বিভিন্ন বিভাগে ব্যাপক ভাঙচুর চালায় এবং ল্যাপটপসহ বিভিন্ন মূল্যবান জিনিসপত্র লুট করে নিয়ে যায়। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, হামলা ও লুটপাটে অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের বড় একটি অংশই মৃত রোগীর স্বজন নন। ফলে প্রশ্ন উঠেছে, রোগী ঢাকায় চিকিৎসাধীন থাকাকালীন এবং মৃত্যুর আগেই কীভাবে এলাকায় মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ল এবং কাদের ইন্ধনে এই পরিকল্পিত হামলা চালানো হলো? স্থানীয়ভাবে হাসপাতালটির চাকরিচ্যুত দুই কর্মচারীর নাম এ ঘটনার নেপথ্যে উঠে আসছে।
খবর পেয়ে মনোহরদী থানা পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসন দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। ঘটনার প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে নরসিংদীর সিভিল সার্জন ডা. মো. বুলবুল কবিরের নেতৃত্বে ৫ সদস্যের একটি বিশেষজ্ঞ টিম শনিবার সরেজমিনে হাসপাতালটি পরিদর্শন করেছে।
এ বিষয়ে নরসিংদীর সিভিল সার্জন ডা. মো. বুলবুল কবিরের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি তদন্তের স্বার্থে এখনই কোনো মন্তব্য করতে অপারগতা প্রকাশ করেন। এলাকাবাসী ও সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ইন্ধনদাতা ও হামলাকারীদের চিহ্নিত করে দ্রুত আইনের আওতায় আনা জরুরি।
kalprakash.com/IM