শুক্রবার, ২১ আগস্ট, ২০২৬ | ৫ ভাদ্র, ১৪৩৩ | ৭ রবিউল আউয়াল, ১৪৪৮ | রাত ১:১২:৫০

মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর পবিত্র জন্ম, অলৌকিক নিদর্শন ও শৈশব

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ২০ আগস্ট, ২০২৬, ৬:০৫
শেয়ার: mail
মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর পবিত্র জন্ম, অলৌকিক নিদর্শন ও শৈশব

কাল প্রকাশ। ছবি: সংগৃহীত

মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) ৫৭০ খ্রিস্টাব্দের ১২ রবিউল আউয়াল মতান্তরে ৯ রবিউল আউয়াল সোমবার বিখ্যাত হাতির বছরের (সুরা ফিল) ঘটনার কিছুদিন পর পবিত্র মক্কা নগরীতে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতার নাম আবদুল্লাহ এবং মাতার নাম আমিনা। জন্মের আগেই তিনি পিতৃহারা হন এবং দাদা আবদুল মুত্তালিব ও চাচা আবু তালেবের আশ্রয়ে বেড়ে ওঠেন।

আল্লাহ তাআলা তাঁকে সমগ্র মানবজাতির নিয়ামত ও করুণাস্বরূপ প্রেরণ করেছেন। পবিত্র কোরআনে ইরশাদ করা হয়েছে, আর আমি তো আপনাকে বিশ্ববাসীর জন্য কেবল রহমতস্বরূপ প্রেরণ করেছি। (সুরা আম্বিয়া: ১০৭)। রাসুলুল্লাহ (সা.) সোমবার জন্মগ্রহণ করেন; এর প্রমাণ তিনি সপ্তাহের এই দিনে সিয়াম পালন করতেন। তাঁকে এই দিনে সিয়াম পালনের কারণ জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন, এটি এমন একটি দিন যেদিন আমি জন্মগ্রহণ করেছি এবং যেদিন আমার ওপর প্রথম ওহি অবতীর্ণ হয়েছে। (সহিহ মুসলিম)। কাজেই তিনি সিয়াম পালন করে আল্লাহর দরবারে শুকরিয়া আদায় করতেন।

মহানবী (সা.)-এর জন্ম ও অলৌকিক নিদর্শন

সিরাত ও হাদিসের বিভিন্ন বর্ণনায় এসেছে, মহানবী (সা.)-এর মুহতারামা জননী বিবি আমিনা বলেন, যখন মহানবী (সা.) তাঁর গর্ভে স্থিতি লাভ করলেন তখন তাঁকে স্বপ্নে সুসংবাদ দেওয়া হয় যে, তোমার গর্ভে যে সন্তানটি রয়েছে তিনি এই উম্মতের সরদার। তিনি যখন ভূমিষ্ঠ হবেন, তখন তুমি এভাবে প্রার্থনা করবে—আমি তাঁকে এক আল্লাহর আশ্রয়ে সমর্পণ করলাম। আর তাঁর নাম রাখবে মুহাম্মদ। (সিরাতে ইবনে হিশাম)। বিবি আমিনা আরও বলেন, মুহাম্মদ আমার গর্ভে আসার পর আমি একটি উজ্জ্বল জ্যোতি দেখতে পেলাম, যার ফলে বসরা নগরী ও সিরিয়ার প্রাসাদগুলো আমার দৃষ্টিগোচর হয়। (সিরাতে ইবনে হিশাম)।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, নারীদের গর্ভাবস্থায় সাধারণত যে অবসাদ বা বমি বমি ভাব হয়, মুহাম্মদের ক্ষেত্রে তেমন কিছুই অনুভূত হয়নি। এছাড়া মহানবী (সা.)-এর জন্মের সময় পারস্যের রাজপ্রাসাদের ১৪টি মতান্তরে ১৭টি গম্বুজ ভূমিকম্পে ধসে পড়ে। পারস্যের শ্বেত উপসাগর শুকিয়ে যায় এবং হাজার বছর ধরে প্রজ্বলিত পারস্যের অগ্নিকুণ্ড নিজে থেকেই নিভে যায়। (সিরাতে মোগলতাই, পৃ.-৫)। বস্তুত এটি ছিল অগ্নি উপাসনা ও যাবতীয় গোমরাহির পরিসমাপ্তির বার্তা এবং পারস্য ও রোম সাম্রাজ্যের পতনের সুস্পষ্ট ইঙ্গিত। সহিহ হাদিসে বর্ণিত আছে, মহানবী (সা.) ভূমিষ্ঠ হওয়ার সময় তাঁর জননীর উদর থেকে এমন এক নূর প্রকাশিত হয়, যার আলোয় পূর্ব ও পশ্চিম দিগন্ত আলোকিত হয়ে ওঠে। কোনো কোনো বর্ণনায় এসেছে, মহানবী (সা.) ভূমিষ্ঠ হওয়ার পর উভয় হাতের ওপর ভর দিয়ে এক মুষ্টি মাটি তুলে নেন এবং আকাশের দিকে দৃষ্টি দেন। (মাওয়াহিবে লাদুন্নিয়া)।

দুগ্ধপান ও শৈশব

শিশু মুহাম্মদ (সা.)-কে প্রথমে তাঁর জননী, এরপর আবু লাহাবের দাসী সুয়াইবা এবং পরবর্তীতে বিবি হালিমা সাদিয়া স্তন্যদান করেন। (সিরাতে মোগলতাই)। পরবর্তী দুই বছর হালিমা সাদিয়া তাঁকে লালন-পালন ও দুগ্ধপান করান। (আস-সালিহাত)।

বিবি হালিমা বর্ণনা করেন, শিশু মুহাম্মদ (সা.)-এর দুধ ছাড়ানোর সময় তাঁর মুখ থেকে উচ্চারিত হয়েছিল—আল্লাহু আকবার কাবিরা ওয়াল হামদুলিল্লাহি কাসিরা ওয়া সুবহানাল্লাহি বুকরাতাও ওয়া আসিলা। এটিই ছিল তাঁর জীবনের প্রথম বাক্য। (বায়হাকি, খাসায়েসুল কুবরা)।

আবু উমামা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি একবার রাসুল (সা.)-কে জিজ্ঞাসা করলেন, হে আল্লাহর রাসুল, আপনার নবুয়তের সূচনা কীভাবে হয়েছিল? জবাবে তিনি বললেন, আমি আমার পিতা ইব্রাহিম (আ.)-এর দোয়া—হে আমাদের প্রতিপালক, তাদের মধ্য থেকেই তাদের কাছে এক রাসুল প্রেরণ করুন, যিনি আপনার আয়াতসমূহ তাদের তিলাওয়াত করে শোনাবেন এবং কিতাব ও হিকমত শিক্ষা দেবেন ও তাদের পবিত্র করবেন। (সুরা বাকারা: ১২৯)। এবং আমার ভাই ঈসা (আ.)-এর সুসংবাদ—আমার পরে আহমদ নামে যে রাসুল আসবেন, আমি তাঁর সুসংবাদদাতা। (সুরা সফ: ৬)।

অগণিত সালাত ও সালাম বর্ষিত হোক বিশ্বনবী মুহাম্মদ (সা.)-এর ওপর। মহান আল্লাহ সবাইকে পবিত্র কোরআন ও রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর সুন্নাহ অনুসরণে জীবন পরিচালনার তাওফিক দান করুন।

kalprakash.com/IM

এই সম্পর্কিত আরও সংবাদ

সব দেখুন arrow_forward
Logo
বৃহস্পতিবার, ২০ আগস্ট ২০২৬ | Globe kalprakash.com

মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর পবিত্র জন্ম, অলৌকিক নিদর্শন ও শৈশব

বিস্তারিত কমেন্টে