শুক্রবার, ২১ আগস্ট, ২০২৬ | ৫ ভাদ্র, ১৪৩৩ | ৭ রবিউল আউয়াল, ১৪৪৮ | রাত ১:১২:০৭

খাদ্যের নিয়ামত সংরক্ষণ ও অপচয় রোধে ইসলামের নির্দেশনা

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ২০ আগস্ট, ২০২৬, ৬:০২
শেয়ার: mail
খাদ্যের নিয়ামত সংরক্ষণ ও অপচয় রোধে ইসলামের নির্দেশনা

কাল প্রকাশ। ছবি: সংগৃহীত

মহান আল্লাহ আমাদের অসংখ্য নিয়ামত দান করেছেন। এসব নিয়ামতের মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ নিয়ামত হলো খাদ্য। খাদ্য মানুষের জীবনধারণের ভিত্তি, শরীরের পুষ্টির উপায় এবং শক্তি ও সামর্থ্যের উৎস। আল্লাহ তাআলা এই খাদ্য কীভাবে সৃষ্টি হয় এবং এর বিভিন্ন পর্যায় নিয়ে আমাদের চিন্তা করতে বলেছেন। তিনি বলেন, অতএব, মানুষ যেন তার খাদ্যের দিকে লক্ষ্য করে। আমিই প্রচুর পরিমাণে পানি বর্ষণ করেছি। তারপর ভূমিকে যথাযথভাবে বিদীর্ণ করেছি। অতঃপর তাতে উৎপন্ন করেছি শস্য, আঙুর, তাজা ঘাস, জলপাই, খেজুর, ঘন উদ্যান, ফলমূল ও ঘাস—তোমাদের ও তোমাদের গবাদি পশুর উপকারের জন্য। (সুরা: আবাসা, আয়াত: ২৪-৩২)

এই নিয়ামত সম্পর্কে সবাইকে জিজ্ঞাসা করা হবে এবং এর হিসাব দিতে হবে। তাই যিনি এই নিয়ামত দান করেছেন, সেই আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা কর্তব্য।

খাদ্যের নিয়ামত সংরক্ষণ ও অপচয় রোধ

আল্লাহ তাআলা খাদ্যের নিয়ামত সংরক্ষণ করতে এবং অপচয় না করতে নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি বলেন, তোমরা খাও ও পান করো, কিন্তু অপচয় কোরো না। নিশ্চয়ই তিনি অপচয়কারীদের ভালোবাসেন না। (সুরা: আল-আরাফ, আয়াত: ৩১)

মহানবী (সা.) নিয়ামতের সম্মান করা এবং এর অপব্যবহার থেকে বেঁচে থাকার ব্যাপারে বিশেষভাবে উপদেশ দিয়েছেন। আনাস (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, মহানবী (সা.) পথে একটি খেজুর দেখতে পেলেন। তিনি বলেন, যদি আমার আশঙ্কা না হতো যে এটি সদকার খেজুর, তাহলে আমি এটি খেয়ে নিতাম। (বুখারি ও মুসলিম)

খাদ্যের প্রতি নবীজির বিশেষ যত্ন

খাদ্যের নিয়ামতের প্রতি রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর গভীর যত্ন ছিল। তিনি যখন খাবার খেতেন, তখন তাঁর তিনটি আঙুল চেটে নিতেন। তিনি আরও বলেন, তোমাদের কারও লোকমা যদি পড়ে যায়, তবে সে যেন তা থেকে ময়লা দূর করে খেয়ে নেয় এবং শয়তানের জন্য তা ফেলে না রাখে। এছাড়া তিনি পাত্রটিও ভালোভাবে পরিষ্কার করার নির্দেশ দিয়ে বলেছেন, তোমরা জানো না, তোমাদের কোন খাবারের মধ্যে বরকত রয়েছে। (তিরমিজি, হাদিস: ১৮০৩)

এ থেকে বোঝা যায়, খাবারের সামান্য অংশকেও অবহেলা করা উচিত নয়; কারণ কোন অংশে আল্লাহ বরকত রেখেছেন, তা মানুষের অজানা।

অপচয় ও অপব্যয় একটি মারাত্মক রোগ

ইসরাফ বা অতিরিক্ত ব্যয় এবং তাবজির বা অপচয় অত্যন্ত ক্ষতিকর। এটি একটি ধ্বংসাত্মক ব্যাধি। এর ফলে অসৎ চরিত্রের সৃষ্টি হয়, সুখী ও সমৃদ্ধ পরিবার ধ্বংসের মুখে পড়ে এবং সমাজে লাঞ্ছনা নেমে আসে। আল-কোরআন ও রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর সুন্নাহে এ ব্যাপারে কঠোর সতর্কতা এসেছে। ফেরাউন সম্পর্কে আল্লাহ বলেন, নিশ্চয়ই সে ছিল অহংকারী ও সীমা লঙ্ঘনকারীদের একজন। (সুরা: আদ-দুখান, আয়াত: ৩১)

আল্লাহ আরও বলেন, নিশ্চয়ই অপচয়কারীরা শয়তানের ভাই। আর শয়তান তার রবের প্রতি অত্যন্ত অকৃতজ্ঞ। (সুরা: আল-ইসরা/বনি ইসরাঈল, আয়াত: ২৬-২৭)

নিয়ামতের সম্মানই আল্লাহর শুকরিয়া

নিয়ামতের মর্যাদা দেওয়া এবং তা সংরক্ষণ করা আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞতার অন্তর্ভুক্ত। আল্লাহ তাআলা বলেন, তোমরা যদি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করো, তবে অবশ্যই আমি তোমাদের আরও বাড়িয়ে দেব। (সুরা: ইবরাহিম, আয়াত: ৭)

অতএব, একজন মুসলিমের উচিত আল্লাহর দেওয়া খাদ্য ও সম্পদের নিয়ামতের মূল্য বোঝা, শুকরিয়া আদায় করা, পরিমিত ব্যবহার করা, অন্যকে দান করা এবং যেকোনো ধরনের অপচয় ও লোক-দেখানো মনোভাব থেকে বেঁচে থাকা।

kalprakash.com/IM

এই সম্পর্কিত আরও সংবাদ

সব দেখুন arrow_forward
Logo
বৃহস্পতিবার, ২০ আগস্ট ২০২৬ | Globe kalprakash.com

খাদ্যের নিয়ামত সংরক্ষণ ও অপচয় রোধে ইসলামের নির্দেশনা

বিস্তারিত কমেন্টে