পুষ্টিগুণে ভরপুর মৌসুমি ফল জাম্বুরা শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানোসহ নানা স্বাস্থ্য সুরক্ষায় অত্যন্ত কার্যকর। সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে থাকা এই ফল গ্রাম ও শহর সবখানেই বেশ জনপ্রিয়। তবে স্বাস্থ্যগুণের পাশাপাশি কিছু নির্দিষ্ট শারীরিক জটিলতা ও নিয়মিত ওষুধ সেবনের ক্ষেত্রে জাম্বুরা খাওয়ার ব্যাপারে সতর্কতা অবলম্বন করা জরুরি।
পুষ্টি বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রতি ৬০০ গ্রাম ওজনের একটি জাম্বুরায় প্রায় ২৩০ কিলোক্যালোরি, ১৩০০ মিলিগ্রাম পটাশিয়াম এবং ৬০ গ্রাম কার্বোহাইড্রেট থাকে। এ ছাড়া এতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি, থায়ামিন, রিবোফ্ল্যাভিন, কপার ও ডায়েটরি ফাইবার। জাম্বুরার উচ্চ অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট কোষের ক্ষয়রোধ ও দীর্ঘমেয়াদি প্রদাহ কমিয়ে ক্যানসারের ঝুঁকি কমায় এবং হজমশক্তি উন্নত করতে সহায়তা করে।
তবে কিছু ক্ষেত্রে জাম্বুরা পরিহার করার পরামর্শ দেন চিকিৎসকরা:
-
নির্দিষ্ট ওষুধ সেবনকারী: রক্তে কোলেস্টেরল কমানোর স্ট্যাটিন জাতীয় ওষুধ (যেমন- সিমভাস্ট্যাটিন, অ্যাটোরভাস্ট্যাটিন) এবং উচ্চ রক্তচাপের ওষুধ (যেমন- নিফেডিপাইন) সেবনকারীদের জাম্বুরা এড়িয়ে চলা উচিত। কারণ জাম্বুরার কিছু উপাদান যকৃতে এসব ওষুধের স্বাভাবিক বিপাকপ্রক্রিয়ায় বিঘ্ন ঘটিয়ে কার্যকারিতা প্রভাবিত করে।
-
কিডনি রোগী: জাম্বুরায় প্রচুর পটাশিয়াম থাকায় ক্রনিক কিডনি রোগে আক্রান্ত রোগী, বিশেষ করে যাদের রক্তে পটাশিয়ামের মাত্রা বেশি (হাইপারক্যালেমিয়া), তাদের এটি খাওয়া নিষেধ।
-
হৃদরোগী (অ্যারিদমিয়া): অনিয়মিত হৃদস্পন্দনের সমস্যা বা কার্ডিয়াক অ্যারিদমিয়ায় ভোগা ব্যক্তিদের জাম্বুরা খাওয়া থেকে বিরত থাকা উচিত।
-
মেনোপজ-পরবর্তী নারী: মেনোপজ-পরবর্তী নারীদের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত মাত্রায় জাম্বুরা গ্রহণ পরিহার করার পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞরা।
kalprakash.com/IM