টানা কয়েক দিনের মুষলধারে বৃষ্টিতে ক্ষেতজুড়ে হেলে পড়েছে পাট, অনেক জমিতে জমেছে হাঁটু থেকে কোমরসমান পানি। বাধ্য হয়ে পানির মধ্যেই পাট কাটতে নেমেছেন মানিকগঞ্জের কৃষকরা। তবে এ মুহূর্তে তাঁদের সবচেয়ে বড় দুশ্চিন্তা হয়ে দাঁড়িয়েছে তীব্র শ্রমিক সংকট।
পানিতে নেমে কাজ করার অনিচ্ছা ও দক্ষ শ্রমিকের অভাবে বর্তমানে এক একজন শ্রমিকের দৈনিক মজুরি গিয়ে ঠেকেছে ১ হাজার টাকায়। ফলে পাট কাটার অতিরিক্ত উৎপাদন ব্যয় মেটাতে গিয়ে লাভের মুখ দেখা নিয়ে ঘোর অনিশ্চয়তায় পড়েছেন চাষিরা।
সম্প্রতি মানিকগঞ্জের ঘিওর, হরিরামপুর, শিবালয় ও সদর উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, প্রতিকূল আবহাওয়ার মধ্যেও পানিতে দাঁড়িয়ে চলছে পাট কাটার ব্যস্ততা। অতিরিক্ত মজুরি ও শ্রমিকের সংকট সামাল দিতে অনেক পরিবারেই নারী সদস্যরা পুরুষদের সঙ্গে সরাসরি পাট জাগ দেওয়া ও আঁশ ছাড়ানোর কাজে হাত লাগিয়েছেন।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, পাটের সন্তোষজনক দাম মেলায় জেলায় চাষের পরিধি বাড়ছে। বিগত অর্থবছরে ৪ হাজার ২৭৬ হেক্টর জমিতে পাটের আবাদ হলেও চলতি অর্থবছরে লক্ষ্যমাত্রা (৪,৫৩০ হেক্টর) ছাড়িয়ে ৪,৫৭৬ হেক্টর জমিতে আবাদ হয়েছে। চলতি মৌসুমে ১৩ হাজার ৪৭৩ টন পাট উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে, যার মধ্যে ইতোমধ্যে ৭৮২ হেক্টর জমির পাট কাটা সম্পন্ন হয়েছে।
ঘিওর উপজেলার নালী ইউনিয়নের কৃষক মাইনুদ্দিন গাজী হতাশা প্রকাশ করে বলেন, “বৃষ্টিতে পাট নুয়ে পড়ায় বাধ্য হয়ে কাটতে হচ্ছে। কিন্তু পানিতে নেমে কাজ করতে অনেকেই রাজি হন না। যারা পারেন, তাঁরা এক হাজার টাকা দিনমজুরি নিচ্ছেন। এতে আবাদের খরচের অনুপাতে লাভ থাকা দায়।”
কৃষকদের দাবি—শ্রমিক সংকট মোকাবিলায় কৃষি যান্ত্রিকীকরণ বৃদ্ধি এবং বাজারে চাষিদের সুরক্ষা দিতে পাটের ন্যূনতম দর নির্ধারণ করা জরুরি।
এ বিষয়ে মানিকগঞ্জ জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোহাম্মদ শাজাহান সিরাজ জানান, “কৃষি বিভাগের পরামর্শ ও পাটের বাজারমূল্য ভালো থাকায় জেলায় ধারাবাহিকভাবে চাষ বাড়ছে। আশা করছি এবারও কৃষকরা লাভবান হবেন। দুর্যোগ বা প্রতিকূলতায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের সরকারি প্রণোদনা ও সহায়তা দিয়ে পাশে থাকবে কৃষি বিভাগ।”
kalprakash.com/IM