জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসন-২৮-এর সংসদ সদস্য এবং গাইবান্ধা-১, ২, ৩ ও ৫ আসনের দায়িত্বপ্রাপ্ত মমতাজ আলো বলেছেন, “যারা সরকারি ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি নিয়ে নানা ঘৃণা ছড়িয়েছে ও কুৎসা রটিয়েছে, তারা যেন কোনো সুবিধা না পায়। তবে সাধারণ প্রকৃত সুবিধাভোগীরা যেন কোনোভাবেই বঞ্চিত না হন। আমাদের স্থানীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে প্রকৃত দাবিদারদের তালিকা নিশ্চিত করতে হবে।”
বুধবার (২৯ জুলাই) দুপুরে গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে উপজেলা পরিষদ সম্মেলন কক্ষে সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
সংসদ সদস্য মমতাজ আলো বলেন, “গত ১৭ বছর আমাদের নেতাকর্মীরা চরম প্রতিকূল পরিস্থিতিতে দিন কাটিয়েছেন। তাঁরা মামলা-হামলা ও জেল-জুলুমের শিকার হয়েছেন; তাঁদের পরিবারও নানা নির্যাতনের মুখে পড়েছে। সরকার দেশ গড়ার যে পরিকল্পনা নিয়েছে, সেখানে যোগ্যতা অনুযায়ী তাঁদের কাজের সুযোগ তৈরি করে দিতে হবে। কারণ অনেকেই এখনও বেকার, হতাশাগ্রস্ত এবং যথাযথ মূল্যায়ন পাননি।”
তিনি আরও বলেন, “আমরা অতীতের মতো প্রশাসনকে অযাচিতভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে চাই না। আমরা চাই গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় যেন কেউ বৈষম্যের শিকার না হন। আমাদের নেতাকর্মীদের আন্দোলনের ফলেই আজ আপনারা এখানে স্বস্তিতে দায়িত্ব পালন করতে পারছেন, তাই তাঁদের মূল্যায়ন করবেন।”
নিয়োগপ্রক্রিয়া প্রসঙ্গে সংসদ সদস্য বলেন, “ছাত্রদল, যুবদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের মধ্য থেকে যোগ্যতার ভিত্তিতে সুপারভাইজার ও তথ্য সংগ্রহকারী নিয়োগ দেওয়ার অনুরোধ করছি। যাদের ন্যূনতম যোগ্যতা রয়েছে, তাঁদের সুযোগ দিলে দীর্ঘ আন্দোলনের কিছুটা হলেও মূল্যায়ন হয়েছে বলে তাঁরা অনুভব করবেন।”
উপজেলায় গভীর নলকূপ (ডিপ টিউবওয়েল) বরাদ্দ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “উপজেলায় যেসব বরাদ্দ এসেছে, সেখানে আমাদের স্থানীয় নেতাকর্মীরা যে তালিকা দেবেন, তা বিবেচনায় নেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি। অতীতে যেভাবে স্বৈরাচার সরকার একপাক্ষিক সুবিধা নিয়েছে, এখন যেন তেমনটি আর না হয়।”
দুর্নীতির বিরুদ্ধে নিজ অবস্থানের কথা জানিয়ে মমতাজ আলো কড়া হুঁশিয়ারি দেন। তিনি বলেন, “আমি খুব সহজ-সরল মানুষ। ভালো মানুষের জন্য আমি অনেক ভালো, আর অন্যায়ের বিরুদ্ধে অনেক কঠিন। যে-ই অন্যায় ও দুর্নীতি করবে, সে আমার দলের হলেও তাঁর বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নিতে হবে। প্রশাসনের কোনো কর্মকর্তা অন্যায় বা বৈষম্য করলে তাঁর শাস্তিও নিশ্চিত করা হবে। আপনারা আমাকে সহযোগিতা করবেন, আমিও আপনাদের সঙ্গে নিয়ে গাইবান্ধার টেকসই উন্নয়নে কাজ করে যাব।”
সুন্দরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ঈফফাত জাহান তুলির সভাপতিত্বে মতবিনিময় সভায় বক্তব্য দেন গাইবান্ধা জেলা বিএনপির সভাপতি ও জেলা পরিষদের প্রশাসক অধ্যাপক ডা. সৈয়দ মইনুল হাসান সাদিক, জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি অধ্যাপক ডা. খন্দকার জিয়াউল ইসলাম মোহাম্মদ আলী, জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মাহমুদুন্নবী টিটুল, হরিপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান ও জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি মো. মোজাহারুল ইসলাম, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. কামরুল হাসান মিঠু এবং উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. কাইয়ুম চৌধুরীসহ সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তারা।
সভা শেষে সংসদ সদস্য উপজেলা পরিষদ চত্বরে একটি নিমগাছের চারা রোপণ করেন। পরবর্তীতে তিনি উপজেলার হরিপুর, কাপাসিয়া ও বেলকা ইউনিয়নের নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত দুস্থ মানুষের মাঝে ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করেন।
বিকেলে উপজেলা পরিষদ হলরুমে সুন্দরগঞ্জ উপজেলা বিএনপি ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের সঙ্গে পৃথক এক মতবিনিময় সভায় অংশ নেন সংরক্ষিত আসনের এই সংসদ সদস্য।
উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক মো. বাবুল আহমেদের সভাপতিত্বে এবং সদস্য সচিব মো. মাহমুদুল ইসলাম প্রামানিকের সঞ্চালনায় এ সভায় জেলা ও উপজেলার শীর্ষ রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দসহ ১৫টি ইউনিয়ন ও পৌর বিএনপির বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।
kalprakash.com/IM