মঙ্গলবার, ৪ আগস্ট, ২০২৬ | ১৯ শ্রাবণ, ১৪৩৩ | ১৯ সফর, ১৪৪৮ | সকাল ১০:৪৭:০৭

ঠাকুরগাঁওয়ে স্কুলছাত্রী ধর্ষণ মামলায় ৩ জনের আমৃত্যু ও ৩ জনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

কাল প্রকাশ
প্রকাশ: রবিবার, ১৯ জুলাই, ২০২৬, ১১:৩৩
শেয়ার: mail
ঠাকুরগাঁওয়ে স্কুলছাত্রী ধর্ষণ মামলায় ৩ জনের আমৃত্যু ও ৩ জনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

কাল প্রকাশ। ছবি: সংগৃহীত

ঠাকুরগাঁওয়ে ১৪ বছর আগে এক স্কুলছাত্রীকে অপহরণের পর দলবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনায় দায়ের করা মামলায় তিন আসামিকে আমৃত্যু কারাদণ্ড এবং অপর তিন আসামিকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।

রোববার ঠাকুরগাঁও নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক (জেলা ও দায়রা জজ) আলী মনসুর আসামিদের উপস্থিতিতে এ রায় ঘোষণা করেন।

আদালতের রায়ে আমৃত্যু কারাদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন সদর উপজেলার গোয়ালপাড়া গ্রামের ইউনুস কসাইয়ের ছেলে মো. আনিস রানা (৩৫), মুসলিমনগর গ্রামের মাইরুদ্দিনের ছেলে মো. সাইফুল ইসলাম (৪০) এবং একই গ্রামের ভোট কসাইয়ের ছেলে মো. দুলাল (৪৮)। রায় ঘোষণার সময় আনিস রানা পলাতক থাকায় তাঁর বিরুদ্ধে সাজা পরোয়ানাসহ গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

অন্যদিকে, যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন মুসলিমনগর গ্রামের মো. সেলিমের ছেলে মো. আনিছুর (২৯), বাংরু মোহাম্মদের ছেলে মো. খতিবুর ওরফে খতু (৩২) এবং বজলুর ছেলে মো. লালু (২৬)।

আদালতের রায় অনুযায়ী, আমৃত্যু কারাদণ্ডপ্রাপ্ত তিন আসামির প্রত্যেককে ২ লাখ টাকা এবং যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত তিন আসামির প্রত্যেককে ১ লাখ টাকা অর্থদণ্ড করা হয়েছে। অর্থদণ্ড অনাদায়ে যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্তদের আরও এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।

এ ছাড়া আদালত উল্লেখ করেন, আমৃত্যু কারাদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৫(এ) ধারা বা জেল কোডের বিধান অনুযায়ী কোনো ধরনের সাজা মওকুফ বা রেমিশনের সুবিধা পাবেন না। আদায়কৃত অর্থ ভুক্তভোগীর ক্ষতিপূরণ হিসেবে গণ্য হবে। নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ১৬ ধারা অনুযায়ী ঠাকুরগাঁও জেলা প্রশাসককে দণ্ডিতদের স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি নিলামে বিক্রি করে সেই অর্থ ট্রাইব্যুনালে জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

মামলার সংক্ষিপ্ত বিবরণে জানা যায়, ২০১১ সালের ২১ অক্টোবর বিকেলে ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার দক্ষিণ সালন্দর গ্রামে এক বান্ধবীর বাড়ি থেকে ফেরার পথে ১৪ বছর বয়সী এক স্কুলছাত্রীকে এনামুল পেট্রোল পাম্পের পেছন থেকে অপহরণ করা হয়। পরে তাঁকে একটি মোবাইল টাওয়ারের নিচে নিয়ে গিয়ে সংঘবদ্ধভাবে ধর্ষণ করা হয় বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়। ভুক্তভোগীর চিৎকারে স্থানীয় ব্যবসায়ীরা এগিয়ে এলে আসামিরা পালিয়ে যায়। গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় তাঁকে ঠাকুরগাঁও আধুনিক সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ঘটনার তিন দিন পর, ২৪ অক্টোবর ভুক্তভোগীর বাবা বাদী হয়ে ঠাকুরগাঁও সদর থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করেন। দীর্ঘ তদন্ত ও সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে আদালত এ রায় দেন।

রায়ের পর রাষ্ট্রপক্ষের স্পেশাল পিপি অ্যাডভোকেট মো. বদিউজ্জামান চৌধুরী বাদল সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, দীর্ঘ প্রায় ১৪ বছর পর ভুক্তভোগী ও তাঁর পরিবার ন্যায়বিচার পেয়েছেন। এটি একটি দৃষ্টান্তমূলক রায়, যা সমাজে এ ধরনের অপরাধ দমনে কঠোর বার্তা দেবে। তিনি বলেন, আমৃত্যু কারাদণ্ডপ্রাপ্তরা কোনো ধরনের রেমিশন সুবিধা পাবেন না এবং আসামিদের সম্পত্তি নিলামে বিক্রি করে ভুক্তভোগীকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার আদালতের নির্দেশও গুরুত্বপূর্ণ।

রায়ের কার্যকরী অংশ পরবর্তী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য ইতোমধ্যে চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট, ঠাকুরগাঁও বরাবর পাঠানো হয়েছে। আদালত প্রাঙ্গণে আসামিপক্ষের আইনজীবী হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অ্যাডভোকেট মো. মেহেদী হাসান ও মো. দিদার আলী।

kalprakash.com/IM

এই সম্পর্কিত আরও সংবাদ

সব দেখুন arrow_forward