বাংলাদেশ ০৭:২০ অপরাহ্ন, রবিবার, ০৭ জুন ২০২৬
শিরোনামঃ
Logo বিশ্বকাপ সামনে রেখে নতুন হেয়ারস্টাইলে নেইমার, ভক্তদের নজর মাঠের ফিটনেসে Logo স্ত্রীকে নিয়ে চলে যাওয়ার অভিযোগে প্রেমিকের স্ত্রীকে বিয়ে, টাঙ্গাইলে চাঞ্চল্য Logo বেটিং প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপনে ছবি ব্যবহার, ফরাসি ফুটবল ফেডারেশনের ওপর ক্ষুব্ধ এমবাপ্পে Logo রাত ১টার মধ্যে ১৮ জেলায় বজ্রসহ ঝড়ের আশঙ্কা, নদীবন্দরে সতর্ক সংকেত Logo বিসিবির পরিচালক নির্বাচিত হলেন তামিম ইকবাল, সর্বোচ্চ ভোটে জয় Logo মতিঝিলে ব্যাংকের সামনে গুলি করে ১৭ লাখ টাকা ছিনতাই, আহত ব্যবসায়ী Logo পাবনায় বিএনপি ও ছাত্রদল নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ তুলে দলীয় নেতাকর্মীদের বিক্ষোভ Logo পচা গরুর মাংস বিক্রির অভিযোগে দুই বিক্রেতাকে কারাদণ্ড ও জরিমানা Logo ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় দোকানের জায়গা নিয়ে সংঘর্ষ, আহত অন্তত ২০ Logo পিসিএনপির মাটিরাঙ্গা উপজেলা ও পৌর শাখার আংশিক কমিটি ঘোষণা

বিশ্বমানের টিস্যুকালচার ল্যাব হচ্ছে বান্দরবানে; পাহাড়ের কৃষিখাতে বৈপ্লবিক পরিবর্তনের আশা

  • কাল প্রকাশ
  • প্রকাশিত: ০৫:৩৩:২০ অপরাহ্ন, রবিবার, ৭ জুন ২০২৬
  • 19

বান্দরবান সদর উপজেলায় নির্মিত হচ্ছে বিশ্বমানের একটি টিস্যুকালচার ল্যাবরেটরি। এর নির্মাণকাজ শেষ হয়ে গবেষণা ও চারা উৎপাদন শুরু হলে রোগমুক্ত ও উন্নতমানের চারার মাধ্যমে পাহাড়ি কৃষিতে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আসবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা। একই সঙ্গে স্থানীয় কৃষকরা সাশ্রয়ী মূল্যে উন্নত জাতের ফল ও ফুলের চারা পাবেন।

সদর উপজেলার বালাঘাটায় নির্মাণাধীন ‘টিস্যুকালচার ল্যাবরেটরি কাম হর্টিকালচার সেন্টার’-এর কাজ এখন শেষ পর্যায়ে। ১৬ কোটি ৪৬ লাখ ১৫ হাজার টাকা ব্যয়ে বাস্তবায়িত এই প্রকল্পটি আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের ‘টিস্যুকালচার ল্যাবরেটরি কাম হর্টিকালচার সেন্টার স্থাপন ও উন্নয়ন’ প্রকল্পের আওতায় নির্মিত ল্যাব ভবন, হার্ডেনিং চেম্বার, নার্সারি শেড ও প্রশিক্ষণ কক্ষের মূল কাঠামোগত কাজ শেষ হয়েছে। বর্তমানে অভ্যন্তরীণ সাজসজ্জা ও আধুনিক যন্ত্রপাতি স্থাপনের কাজ চলছে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর জানায়, ল্যাবটি চালু হলে ফল ও ফুলের বিভিন্ন জাতের জীবাণুমুক্ত চারা স্থানীয়ভাবে উৎপাদন করা সম্ভব হবে। এতে ফলন ২৫ থেকে ৩০ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পাবে এবং রোগবালাইজনিত ক্ষতি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসবে।

বালাঘাটার কৃষক থোয়াইনু অং মারমা বলেন, “আমরা কলার বাগান করি, কিন্তু রোগের কারণে অনেক গাছ নষ্ট হয়ে যায়। ভালো চারা কিনতে অনেক টাকা লাগে। এই ল্যাব চালু হলে আমরা কম খরচে রোগমুক্ত চারা পাব।”

বাগানপাড়ার কৃষক চিংইয়েন ম্রো বলেন, “আমরা সহজে ভালো জাতের চারা পাই না। পেলেও দাম অনেক বেশি। ল্যাব চালু হলে মানসম্মত চারা হাতের কাছেই পাওয়া যাবে। পাহাড়ের জমিতে বিভিন্ন জাতের ফল উৎপাদন করে ঢাকা ও চট্টগ্রামে পাঠানো সম্ভব হবে। এটি পাহাড়ি কৃষিতে বড় ধরনের পরিবর্তন আনবে।”

ডলুপাড়ার নারী কৃষক মাথুই মার্মা বলেন, “আমরা আগে শুধু জুমচাষ করতাম। এখন ল্যাবের চারা ব্যবহার করে বাণিজ্যিক বাগান গড়ে তুলতে পারব। নারীদের প্রশিক্ষণের সুযোগ থাকলে আমরাও চারা উৎপাদনের প্রযুক্তি শিখতে পারব। এতে পরিবারের আয় বাড়বে।”

প্রকল্পের ঠিকাদার মোজাফফর হোসেন বলেন, “বালাঘাটার টিস্যুকালচার ল্যাবরেটরি কাম হর্টিকালচার সেন্টারের কাজ ১৮ মাসের মধ্যে সম্পন্ন করার চুক্তি রয়েছে। সেই অনুযায়ী আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে শতভাগ কাজ শেষ করে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের কাছে হস্তান্তর করা সম্ভব হবে বলে আশা করছি।”

বান্দরবান হর্টিকালচার সেন্টারের উপপরিচালক লিটন দেবনাথ বলেন, “এটি একটি আধুনিক টিস্যুকালচার ল্যাব, যেখানে উদ্ভিদের টিস্যু ব্যবহার করে উন্নতমানের চারা উৎপাদন করা হবে। এই ল্যাব পার্বত্য চট্টগ্রামের কৃষিতে নতুন দিগন্তের সূচনা করবে। সারাদেশে এ ধরনের মাত্র পাঁচটি ল্যাব রয়েছে, যার একটি বান্দরবানে স্থাপিত হচ্ছে।”

তিনি আরও বলেন, “ল্যাবটি চালু হলে অল্প সময়ে ও কম খরচে বিপুল পরিমাণ ফল ও ফুলের চারা উৎপাদন করা যাবে। এসব চারা হবে ভাইরাস ও ব্যাকটেরিয়ামুক্ত। একটি উৎকৃষ্ট গাছ থেকে একই মানের হাজার হাজার চারা উৎপাদন সম্ভব হবে, যা ফলন বৃদ্ধিতেও সহায়ক হবে। ভবিষ্যতে তিন পার্বত্য জেলা ছাড়াও কক্সবাজার ও চট্টগ্রামে এসব চারা সরবরাহ করা যাবে।”

লিটন দেবনাথ জানান, ভবনের পাশাপাশি প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি সংগ্রহের কাজও এগিয়ে চলছে। সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী সম্পন্ন হলে আগস্ট-সেপ্টেম্বরের মধ্যেই ল্যাবের কার্যক্রম শুরু করা সম্ভব হবে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, বালাঘাটার এই টিস্যুকালচার ল্যাব শুধু বান্দরবান নয়, রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি, কক্সবাজার ও চট্টগ্রামের কৃষকদের চাহিদা পূরণ করবে। একই সঙ্গে পাহাড়ি অঞ্চলে ফল ও ফুলের বাণিজ্যিক চাষ সম্প্রসারণ এবং রপ্তানি বাজার তৈরির ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

রবিবার, ৭ জুন ২০২৬
বিশ্বমানের টিস্যুকালচার ল্যাব হচ্ছে বান্দরবানে; পাহাড়ের কৃষিখাতে বৈপ্লবিক পরিবর্তনের আশা
জনপ্রিয় সংবাদ

বিশ্বকাপ সামনে রেখে নতুন হেয়ারস্টাইলে নেইমার, ভক্তদের নজর মাঠের ফিটনেসে

বিশ্বমানের টিস্যুকালচার ল্যাব হচ্ছে বান্দরবানে; পাহাড়ের কৃষিখাতে বৈপ্লবিক পরিবর্তনের আশা

প্রকাশিত: ০৫:৩৩:২০ অপরাহ্ন, রবিবার, ৭ জুন ২০২৬

বান্দরবান সদর উপজেলায় নির্মিত হচ্ছে বিশ্বমানের একটি টিস্যুকালচার ল্যাবরেটরি। এর নির্মাণকাজ শেষ হয়ে গবেষণা ও চারা উৎপাদন শুরু হলে রোগমুক্ত ও উন্নতমানের চারার মাধ্যমে পাহাড়ি কৃষিতে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আসবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা। একই সঙ্গে স্থানীয় কৃষকরা সাশ্রয়ী মূল্যে উন্নত জাতের ফল ও ফুলের চারা পাবেন।

সদর উপজেলার বালাঘাটায় নির্মাণাধীন ‘টিস্যুকালচার ল্যাবরেটরি কাম হর্টিকালচার সেন্টার’-এর কাজ এখন শেষ পর্যায়ে। ১৬ কোটি ৪৬ লাখ ১৫ হাজার টাকা ব্যয়ে বাস্তবায়িত এই প্রকল্পটি আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের ‘টিস্যুকালচার ল্যাবরেটরি কাম হর্টিকালচার সেন্টার স্থাপন ও উন্নয়ন’ প্রকল্পের আওতায় নির্মিত ল্যাব ভবন, হার্ডেনিং চেম্বার, নার্সারি শেড ও প্রশিক্ষণ কক্ষের মূল কাঠামোগত কাজ শেষ হয়েছে। বর্তমানে অভ্যন্তরীণ সাজসজ্জা ও আধুনিক যন্ত্রপাতি স্থাপনের কাজ চলছে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর জানায়, ল্যাবটি চালু হলে ফল ও ফুলের বিভিন্ন জাতের জীবাণুমুক্ত চারা স্থানীয়ভাবে উৎপাদন করা সম্ভব হবে। এতে ফলন ২৫ থেকে ৩০ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পাবে এবং রোগবালাইজনিত ক্ষতি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসবে।

বালাঘাটার কৃষক থোয়াইনু অং মারমা বলেন, “আমরা কলার বাগান করি, কিন্তু রোগের কারণে অনেক গাছ নষ্ট হয়ে যায়। ভালো চারা কিনতে অনেক টাকা লাগে। এই ল্যাব চালু হলে আমরা কম খরচে রোগমুক্ত চারা পাব।”

বাগানপাড়ার কৃষক চিংইয়েন ম্রো বলেন, “আমরা সহজে ভালো জাতের চারা পাই না। পেলেও দাম অনেক বেশি। ল্যাব চালু হলে মানসম্মত চারা হাতের কাছেই পাওয়া যাবে। পাহাড়ের জমিতে বিভিন্ন জাতের ফল উৎপাদন করে ঢাকা ও চট্টগ্রামে পাঠানো সম্ভব হবে। এটি পাহাড়ি কৃষিতে বড় ধরনের পরিবর্তন আনবে।”

ডলুপাড়ার নারী কৃষক মাথুই মার্মা বলেন, “আমরা আগে শুধু জুমচাষ করতাম। এখন ল্যাবের চারা ব্যবহার করে বাণিজ্যিক বাগান গড়ে তুলতে পারব। নারীদের প্রশিক্ষণের সুযোগ থাকলে আমরাও চারা উৎপাদনের প্রযুক্তি শিখতে পারব। এতে পরিবারের আয় বাড়বে।”

প্রকল্পের ঠিকাদার মোজাফফর হোসেন বলেন, “বালাঘাটার টিস্যুকালচার ল্যাবরেটরি কাম হর্টিকালচার সেন্টারের কাজ ১৮ মাসের মধ্যে সম্পন্ন করার চুক্তি রয়েছে। সেই অনুযায়ী আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে শতভাগ কাজ শেষ করে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের কাছে হস্তান্তর করা সম্ভব হবে বলে আশা করছি।”

বান্দরবান হর্টিকালচার সেন্টারের উপপরিচালক লিটন দেবনাথ বলেন, “এটি একটি আধুনিক টিস্যুকালচার ল্যাব, যেখানে উদ্ভিদের টিস্যু ব্যবহার করে উন্নতমানের চারা উৎপাদন করা হবে। এই ল্যাব পার্বত্য চট্টগ্রামের কৃষিতে নতুন দিগন্তের সূচনা করবে। সারাদেশে এ ধরনের মাত্র পাঁচটি ল্যাব রয়েছে, যার একটি বান্দরবানে স্থাপিত হচ্ছে।”

তিনি আরও বলেন, “ল্যাবটি চালু হলে অল্প সময়ে ও কম খরচে বিপুল পরিমাণ ফল ও ফুলের চারা উৎপাদন করা যাবে। এসব চারা হবে ভাইরাস ও ব্যাকটেরিয়ামুক্ত। একটি উৎকৃষ্ট গাছ থেকে একই মানের হাজার হাজার চারা উৎপাদন সম্ভব হবে, যা ফলন বৃদ্ধিতেও সহায়ক হবে। ভবিষ্যতে তিন পার্বত্য জেলা ছাড়াও কক্সবাজার ও চট্টগ্রামে এসব চারা সরবরাহ করা যাবে।”

লিটন দেবনাথ জানান, ভবনের পাশাপাশি প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি সংগ্রহের কাজও এগিয়ে চলছে। সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী সম্পন্ন হলে আগস্ট-সেপ্টেম্বরের মধ্যেই ল্যাবের কার্যক্রম শুরু করা সম্ভব হবে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, বালাঘাটার এই টিস্যুকালচার ল্যাব শুধু বান্দরবান নয়, রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি, কক্সবাজার ও চট্টগ্রামের কৃষকদের চাহিদা পূরণ করবে। একই সঙ্গে পাহাড়ি অঞ্চলে ফল ও ফুলের বাণিজ্যিক চাষ সম্প্রসারণ এবং রপ্তানি বাজার তৈরির ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

রবিবার, ৭ জুন ২০২৬
বিশ্বমানের টিস্যুকালচার ল্যাব হচ্ছে বান্দরবানে; পাহাড়ের কৃষিখাতে বৈপ্লবিক পরিবর্তনের আশা