বাংলাদেশ ০৭:৪৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬
শিরোনামঃ
Logo পাবনায় রিয়া হত্যা মামলার ৩ অভিযুক্ত গ্রেপ্তার: গুম করার কাজে ব্যবহৃত প্রাইভেটকার জব্দ Logo শেষ মুহূর্তের গোলে নেপালকে হারিয়ে টানা তৃতীয়বার সাফের ফাইনালে বাংলাদেশ Logo ইরানের বিরুদ্ধে উপসাগরীয় দেশগুলোর ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান আমিরাতের Logo অর্থনৈতিক সংস্কারে নতুন সহায়তা চেয়ে আইএমএফের দ্বারস্থ বাংলাদেশ Logo মমতা ব্যানার্জীর দল তৃণমূল কংগ্রেস কি ভাঙনের দিকে এগোচ্ছে? Logo অ্যাটর্নি জেনারেলের সঙ্গে দেখা করলেন সাগর-রুনির সন্তান মেঘ Logo গ্রাহক পর্যায়ে প্রতি ইউনিটে কত বাড়ল বিদ্যুতের দাম? Logo যুগ্মসচিবের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার ইঙ্গিত Logo নড়বড়ে কাঠের সাঁকোই ভরসা, দুর্ভোগে চরাঞ্চলের ২০ হাজার মানুষ Logo খানজাহান আলীর দিঘির শেষ কুমির অপসারণ, সাড়ে ৬শ বছরের ঐতিহ্যের অবসান

বাংলাদেশে রোহিঙ্গাদের সংকট ভুলে না যাওয়ার আহ্বান ইউএনএইচসিআরের

সংগৃহীত ছবি

বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া প্রায় ১২ লাখ রোহিঙ্গা শরণার্থীর সংকটকে বিশ্ব সম্প্রদায়ের সামনে আরও গুরুত্ব দিয়ে তুলে ধরার আহ্বান জানিয়েছে জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা UNHCR এবং তাদের মানবিক অংশীদাররা।

মঙ্গলবার জেনেভার পালে দে নাসিওঁ-এ আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে সংস্থাটির মুখপাত্র বাবর বালোচ বলেন, ২০১৭ সালে মিয়ানমার থেকে সবচেয়ে বড় রোহিঙ্গা ঢলের পর বাংলাদেশে এখনো লক্ষাধিক মানুষ শরণার্থী হিসেবে বসবাস করছে। অধিকাংশই কক্সবাজারের শরণার্থী ক্যাম্পে অবস্থান করছে।

ইউএনএইচসিআর জানায়, কয়েক দশক ধরেই মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্য থেকে রোহিঙ্গাদের বাস্তুচ্যুতি চলছে। তবে ২০১৭ সালের আগস্টে প্রায় ৭ লাখ ৫০ হাজার রোহিঙ্গা সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নিতে বাধ্য হলে সংকট ভয়াবহ রূপ নেয়। সে সময় বাংলাদেশ ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতার মাধ্যমে তাদের জরুরি মানবিক সহায়তা নিশ্চিত করা হয়।

সংস্থাটি আরও জানায়, বৈশ্বিক অস্থিতিশীলতা ও মানবিক সংকট বাড়তে থাকায় তহবিল সংকট তৈরি হয়েছে, যা ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর জন্য জরুরি সেবা ব্যাহত করছে। চলতি বছর রোহিঙ্গা ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জন্য ৭১০ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের সহায়তা আবেদন জানানো হলেও এটি গত বছরের তুলনায় ২৬ শতাংশ কম।

২০১৭ সাল থেকে পাওয়া মানবিক সহায়তায় রোহিঙ্গাদের শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও সুরক্ষায় অগ্রগতি হলেও এখনো বড় ধরনের চাহিদা রয়ে গেছে বলে জানায় সংস্থাটি। পর্যাপ্ত আন্তর্জাতিক সহায়তা ছাড়া পরিস্থিতি আরও অবনতির আশঙ্কা রয়েছে।

ইউএনএইচসিআর সতর্ক করে বলেছে, নারী, শিশু, প্রতিবন্ধী এবং নতুন করে আসা প্রায় দেড় লাখ রোহিঙ্গা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে। রাখাইনে চলমান সংঘাত ও সহিংসতার কারণে নিরাপদ প্রত্যাবাসনের সম্ভাবনা আরও কমে যাচ্ছে।

এদিকে ঝুঁকিপূর্ণ সমুদ্রপথে অন্য দেশে যাওয়ার প্রবণতা বাড়ছে। ২০২৫ সালে আন্দামান ও বঙ্গোপসাগরে প্রায় ৯০০ রোহিঙ্গা নিখোঁজ বা নিহত হয়েছে বলে জানানো হয়।

বর্তমানে আন্তর্জাতিক সহায়তা আহ্বানের প্রায় ৬০ শতাংশ অর্থ পাওয়া গেছে। তবে ইউএনএইচসিআর বলছে, ন্যূনতম সহায়তা দিয়ে এই সংকট মোকাবিলা সম্ভব নয়। দীর্ঘমেয়াদে কার্যকর সমাধান না হলে পরিস্থিতি আরও জটিল হবে।

সংস্থাটি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেছে, রোহিঙ্গা সংকট মোকাবিলায় সহায়তা অব্যাহত রাখতে হবে এবং একই সঙ্গে তাদের নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের পরিবেশ তৈরি করতে হবে।

kalprakash.com/SS
মঙ্গলবার, ২ জুন ২০২৬
বাংলাদেশে রোহিঙ্গাদের সংকট ভুলে না যাওয়ার আহ্বান ইউএনএইচসিআরের
জনপ্রিয় সংবাদ

পাবনায় রিয়া হত্যা মামলার ৩ অভিযুক্ত গ্রেপ্তার: গুম করার কাজে ব্যবহৃত প্রাইভেটকার জব্দ

বাংলাদেশে রোহিঙ্গাদের সংকট ভুলে না যাওয়ার আহ্বান ইউএনএইচসিআরের

প্রকাশিত: ০৬:৪৩:০৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২ জুন ২০২৬

বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া প্রায় ১২ লাখ রোহিঙ্গা শরণার্থীর সংকটকে বিশ্ব সম্প্রদায়ের সামনে আরও গুরুত্ব দিয়ে তুলে ধরার আহ্বান জানিয়েছে জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা UNHCR এবং তাদের মানবিক অংশীদাররা।

মঙ্গলবার জেনেভার পালে দে নাসিওঁ-এ আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে সংস্থাটির মুখপাত্র বাবর বালোচ বলেন, ২০১৭ সালে মিয়ানমার থেকে সবচেয়ে বড় রোহিঙ্গা ঢলের পর বাংলাদেশে এখনো লক্ষাধিক মানুষ শরণার্থী হিসেবে বসবাস করছে। অধিকাংশই কক্সবাজারের শরণার্থী ক্যাম্পে অবস্থান করছে।

ইউএনএইচসিআর জানায়, কয়েক দশক ধরেই মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্য থেকে রোহিঙ্গাদের বাস্তুচ্যুতি চলছে। তবে ২০১৭ সালের আগস্টে প্রায় ৭ লাখ ৫০ হাজার রোহিঙ্গা সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নিতে বাধ্য হলে সংকট ভয়াবহ রূপ নেয়। সে সময় বাংলাদেশ ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতার মাধ্যমে তাদের জরুরি মানবিক সহায়তা নিশ্চিত করা হয়।

সংস্থাটি আরও জানায়, বৈশ্বিক অস্থিতিশীলতা ও মানবিক সংকট বাড়তে থাকায় তহবিল সংকট তৈরি হয়েছে, যা ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর জন্য জরুরি সেবা ব্যাহত করছে। চলতি বছর রোহিঙ্গা ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জন্য ৭১০ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের সহায়তা আবেদন জানানো হলেও এটি গত বছরের তুলনায় ২৬ শতাংশ কম।

২০১৭ সাল থেকে পাওয়া মানবিক সহায়তায় রোহিঙ্গাদের শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও সুরক্ষায় অগ্রগতি হলেও এখনো বড় ধরনের চাহিদা রয়ে গেছে বলে জানায় সংস্থাটি। পর্যাপ্ত আন্তর্জাতিক সহায়তা ছাড়া পরিস্থিতি আরও অবনতির আশঙ্কা রয়েছে।

ইউএনএইচসিআর সতর্ক করে বলেছে, নারী, শিশু, প্রতিবন্ধী এবং নতুন করে আসা প্রায় দেড় লাখ রোহিঙ্গা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে। রাখাইনে চলমান সংঘাত ও সহিংসতার কারণে নিরাপদ প্রত্যাবাসনের সম্ভাবনা আরও কমে যাচ্ছে।

এদিকে ঝুঁকিপূর্ণ সমুদ্রপথে অন্য দেশে যাওয়ার প্রবণতা বাড়ছে। ২০২৫ সালে আন্দামান ও বঙ্গোপসাগরে প্রায় ৯০০ রোহিঙ্গা নিখোঁজ বা নিহত হয়েছে বলে জানানো হয়।

বর্তমানে আন্তর্জাতিক সহায়তা আহ্বানের প্রায় ৬০ শতাংশ অর্থ পাওয়া গেছে। তবে ইউএনএইচসিআর বলছে, ন্যূনতম সহায়তা দিয়ে এই সংকট মোকাবিলা সম্ভব নয়। দীর্ঘমেয়াদে কার্যকর সমাধান না হলে পরিস্থিতি আরও জটিল হবে।

সংস্থাটি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেছে, রোহিঙ্গা সংকট মোকাবিলায় সহায়তা অব্যাহত রাখতে হবে এবং একই সঙ্গে তাদের নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের পরিবেশ তৈরি করতে হবে।

kalprakash.com/SS
মঙ্গলবার, ২ জুন ২০২৬
বাংলাদেশে রোহিঙ্গাদের সংকট ভুলে না যাওয়ার আহ্বান ইউএনএইচসিআরের