পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে পরিচালিত বিশেষ পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমের আওতায় তিন দিনে মোট ১৮ হাজার ৩৪৪ টন কোরবানির বর্জ্য অপসারণ করেছে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি)। এর মধ্যে ঈদের তৃতীয় দিন শনিবার সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত ৮২৭টি ট্রিপের মাধ্যমে ৩ হাজার ৫৫৩ টন বর্জ্য সরানো হয়েছে।
শনিবার সন্ধ্যায় রাজধানীর গুলশানে ডিএনসিসি কার্যালয়ে আয়োজিত কোরবানির বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিষয়ক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান ডিএনসিসি প্রশাসক মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম খান।
তিনি বলেন, ৭২ ঘণ্টার সমন্বিত অ্যাকশন প্ল্যানের আওতায় নগরবাসী, সাংবাদিক এবং সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সহযোগিতায় উত্তর সিটির অধিকাংশ এলাকার কোরবানির বর্জ্য অপসারণ করা সম্ভব হয়েছে।
প্রশাসক জানান, ডিএনসিসির ইজারাকৃত ১০টি পশুর হাটের মধ্যে চারটির বর্জ্য পুরোপুরি পরিষ্কার করা হয়েছে। বাকি ছয়টির বর্জ্য অপসারণ কার্যক্রমও দ্রুত এগিয়ে চলছে। ঈদের তৃতীয় দিনেও বিভিন্ন স্থানে কোরবানি হওয়ায় বর্জ্য তৈরি হচ্ছে, তবে তা দ্রুত অপসারণে কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, সাংবাদিকদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বিভিন্ন পাড়া-মহল্লায় ছড়িয়ে থাকা বর্জ্য দ্রুত সরিয়ে ফেলা হয়েছে। এজন্য গণমাধ্যমকর্মীদের ধন্যবাদ জানিয়ে ইতিবাচক ও যাচাইকৃত সংবাদ প্রচারের আহ্বান জানান তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে প্রশাসক অভিযোগ করেন, মেট্রোরেলকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো হচ্ছে। মেট্রোরেলের গ্রিল ভেঙে যাওয়া বা লিফট অচল হওয়ার মতো তথ্যকে তিনি ভিত্তিহীন বলে উল্লেখ করেন এবং এ ধরনের তথ্য প্রচারের আগে সত্যতা যাচাইয়ের আহ্বান জানান।
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, কোরবানির বর্জ্য অপসারণে ডিএনসিসির ৭৫২টি যানবাহন কাজ করেছে। কিছু যানবাহনে সাময়িক যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দিলেও বিকল্প ব্যবস্থায় কার্যক্রম অব্যাহত রাখা হয়েছে।
ডিএনসিসির দুই কর্মকর্তাকে সাময়িক বরখাস্তের বিষয়ে তিনি বলেন, এ সিদ্ধান্ত কোরবানির বর্জ্য নয়; বরং নিয়মিত গৃহস্থালি বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় অনিয়মের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে নেওয়া হয়েছে। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
তিনি জানান, ৭২ ঘণ্টার পরিকল্পনা শেষ হওয়ার পর রোববার সকাল থেকে আরও ৪৮ ঘণ্টার বিশেষ পরিচ্ছন্নতা অভিযান শুরু হবে। প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তার নেতৃত্বে গঠিত কমিটি এ কার্যক্রম পরিচালনা করবে।
সংবাদ সম্মেলনে প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা কমোডর মোহাম্মদ হুমায়ুন কবীর, প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইমরুল কায়েস চৌধুরীসহ ডিএনসিসির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। সাংবাদিকদের মতে, উত্তর সিটির অধিকাংশ রাস্তা, অলিগলি ও পাড়া-মহল্লা বর্তমানে পরিচ্ছন্ন অবস্থায় রয়েছে।
অনলাইন ডেস্ক 





















