জ্বালানি তেল ও এলপিজির পর এবার বিদ্যুতের দামও বাড়তে পারে। পাইকারি ও খুচরা পর্যায়ে ইউনিটপ্রতি সর্বোচ্চ ১.৫০ টাকা পর্যন্ত দাম বাড়ানোর প্রস্তাব বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনে (বিইআরসি) পাঠিয়েছে বিদ্যুৎ বিভাগ।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, জ্বালানি আমদানির ব্যয় বৃদ্ধি, উৎপাদন খরচের ঊর্ধ্বগতি এবং ভর্তুকির চাপ সামাল দিতেই এই প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। অর্থমন্ত্রীর নেতৃত্বাধীন উচ্চপর্যায়ের কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে গত সোমবার এটি বিইআরসিতে পাঠানো হয়।
সাধারণত বিদ্যুৎ বিতরণ কোম্পানিগুলো সরাসরি কমিশনে মূল্যবৃদ্ধির আবেদন করে থাকে। তবে এবার বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডসহ সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো আলাদা প্রস্তাব তৈরি করছে, যা শিগগিরই জমা দেওয়া হতে পারে।
বিইআরসি চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ জানিয়েছেন, প্রস্তাব পেলে তা নিয়ম অনুযায়ী পর্যালোচনা করা হবে এবং গণশুনানির পর নতুন দাম নির্ধারণ করা হবে।
প্রাথমিক পরিকল্পনা অনুযায়ী, লাইফলাইন গ্রাহক—যারা মাসে ৭০ ইউনিট পর্যন্ত বিদ্যুৎ ব্যবহার করেন—তাদের এই মূল্যবৃদ্ধির বাইরে রাখা হতে পারে। তবে ব্যবহারভেদে খুচরা পর্যায়ে আলাদা হারে দাম সমন্বয় করা হবে।
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে প্রতি ইউনিট বিদ্যুৎ উৎপাদনের গড় খরচ গ্রাহকদের কাছ থেকে নেওয়া দামের তুলনায় প্রায় ৫.৫০ টাকা বেশি। ফলে বড় অঙ্কের ভর্তুকি দিতে হচ্ছে সরকারকে।
চলতি অর্থবছরে বিদ্যুৎ খাতে ঘাটতি প্রায় ৫৬ হাজার কোটি টাকায় পৌঁছাতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দাম বাড়লে এই চাপ আরও বাড়তে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রস্তাবিত মূল্যবৃদ্ধি ভর্তুকির চাপ কিছুটা কমাবে, তবে একই সঙ্গে শিল্প উৎপাদন খরচ ও সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়াতে পারে।
এর আগে ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে বিদ্যুতের খুচরা দাম গড়ে ৮.৫০ শতাংশ বাড়ানো হয়েছিল।
kalprakash.com/SS
নিজস্ব প্রতিবেদক 






















