বাংলাদেশে প্রতি এক হাজার কিলোমিটার সড়কে বছরে প্রায় ৬৭ জন মানুষের মৃত্যু হয় বলে জানিয়েছে এশিয়ান ট্রান্সপোর্ট অবজারভেটরি। সংস্থাটির ২০২৫ সালের রোড সেফটি প্রোফাইলে এ তথ্য উঠে এসেছে।
এ ছাড়া বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ২০২১ সালের হিসাব অনুযায়ী, বাংলাদেশে প্রতিবছর সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হন ৩১ হাজার ৫৭৮ জন মানুষ।
বুধবার (২৯ এপ্রিল) সকালে ঢাকা আহ্ছানিয়া মিশনের আয়োজনে ‘সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিতে গণমাধ্যমের ভূমিকা—গতি নিয়ন্ত্রণে গতিসীমা নির্দেশিকা ম্যানুয়াল প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন’ শীর্ষক মতবিনিময় সভায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনকালে এসব তথ্য জানান মিশনের রোড সেফটি প্রকল্প সমন্বয়কারী শারমিন রহমান।
তিনি বলেন, বিশ্বব্যাপী সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যুর প্রায় ৫৪ শতাংশের জন্য অতিরিক্ত গতি দায়ী। বাংলাদেশেও বেপরোয়া ও অতিরিক্ত গতিতে যান চালানো দুর্ঘটনার অন্যতম প্রধান কারণ।
তিনি জানান, ১৯৯৮ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত পুলিশের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, প্রায় ৮২ শতাংশ সড়ক দুর্ঘটনা অতিরিক্ত গতি ও বেপরোয়া যান চালানোর কারণে ঘটেছে।
শারমিন রহমান আরও বলেন, দুর্ঘটনায় নিহতদের অর্ধেকের বেশি পথচারী, সাইকেল আরোহী এবং মোটরসাইকেলচালক, যারা উচ্চগতির দুর্ঘটনায় সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে থাকেন।
সভায় বক্তারা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার গ্লোবাল স্ট্যাটাস রিপোর্ট অন রোড সেফটি ২০২১-এর তথ্য তুলে ধরে জানান, ২০২১ সালে বিশ্বে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রায় ১১ লাখ ৯০ হাজার মানুষ নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে ৯২ শতাংশ মৃত্যু ঘটেছে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের দেশগুলোতে।
এ ছাড়া মোট মৃত্যুর প্রায় দুই-তৃতীয়াংশই ১৮ থেকে ৫৯ বছর বয়সী কর্মক্ষম মানুষের মধ্যে হয়েছে। ৫ থেকে ২৯ বছর বয়সীদের মৃত্যুর প্রধান কারণ এখন সড়ক দুর্ঘটনা।
সড়ক দুর্ঘটনা ও প্রাণহানি কমাতে সভায় বেশ কিছু সুপারিশ তুলে ধরা হয়। এর মধ্যে রয়েছে—যানবাহনের গতি নিয়ন্ত্রণে কার্যকর নির্দেশিকা ও ম্যানুয়াল প্রণয়ন, আইন প্রয়োগকারী সংস্থার কঠোর নজরদারি, যানবাহনে বাধ্যতামূলক স্পিড গভর্নর সিল স্থাপন এবং দ্রুত সড়ক নিরাপত্তা আইন প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন।
নিজস্ব প্রতিবেদক 























