বাংলাদেশ ০৬:৩৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৫ মে ২০২৬

রক্তে ক্যালসিয়াম বেড়ে গেলে শরীরে কী কী সমস্যা হয়

  • কাল প্রকাশ
  • প্রকাশিত: ০৬:৩০:০৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৬
  • 27

সংগৃহীত ছবি

শরীরের হাড় ও দাঁত মজবুত রাখতে ক্যালসিয়াম অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তবে রক্তে ক্যালসিয়ামের মাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে বেড়ে গেলে তা শরীরের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। চিকিৎসাবিজ্ঞানে এই অবস্থাকে বলা হয় হাইপারক্যালসেমিয়া। এটি দীর্ঘমেয়াদে কিডনি, হৃদযন্ত্র, মস্তিষ্ক এবং হাড়ের ওপর গুরুতর প্রভাব ফেলতে পারে।

কেন হয় এই সমস্যা

হাইপারক্যালসেমিয়ার প্রধান কারণ হলো গলার পাশে থাকা প্যারাথাইরয়েড গ্রন্থির অতিরিক্ত সক্রিয়তা। এছাড়া আরও কিছু কারণ রয়েছে, যেমন ফুসফুস, স্তন বা রক্তের ক্যান্সার, অতিরিক্ত ভিটামিন ডি বা ক্যালসিয়াম সাপ্লিমেন্ট গ্রহণ এবং কিছু নির্দিষ্ট ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া। দীর্ঘসময় শারীরিক নিষ্ক্রিয়তা বা শুয়ে-বসে থাকা অবস্থায় হাড় থেকে ক্যালসিয়াম রক্তে মিশে যেতে পারে। পাশাপাশি শরীরে পানির অভাব হলে ক্যালসিয়ামের ঘনত্বও বেড়ে যায়।

উপসর্গ বা লক্ষণ

এই সমস্যায় শরীরে বিভিন্ন ধরনের লক্ষণ দেখা দিতে পারে। কিডনির ক্ষেত্রে ঘন ঘন প্রস্রাব এবং অতিরিক্ত তৃষ্ণা অনুভূত হয়। পাকস্থলীতে পেট ব্যথা, বমি ভাব ও কোষ্ঠকাঠিন্য দেখা দিতে পারে। হাড় ও পেশিতে ব্যথা ও দুর্বলতা অনুভূত হয়। মস্তিষ্কে ক্লান্তি, মনোযোগের অভাব, স্মৃতিভ্রম বা বিষণ্ণতা দেখা দিতে পারে। হৃদযন্ত্রেও সমস্যা তৈরি হয়ে অনিয়মিত হৃদস্পন্দন বা বুক ধড়ফড় করার মতো লক্ষণ দেখা দেয়।

সম্ভাব্য জটিলতা

হাইপারক্যালসেমিয়া দীর্ঘদিন চলতে থাকলে অস্টিওপোরোসিস বা হাড় ভঙ্গুর হয়ে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়। কিডনিতে অতিরিক্ত ক্যালসিয়াম জমে পাথর তৈরি হতে পারে এবং গুরুতর ক্ষেত্রে কিডনি বিকল হওয়ার সম্ভাবনাও থাকে। খুব বেশি মাত্রায় হলে স্নায়বিক জটিলতা তৈরি হয়ে রোগী অচেতন বা কোমায় চলে যেতে পারেন।

বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ

বিশেষজ্ঞরা বলেন, পর্যাপ্ত পানি পান করা এবং চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ক্যালসিয়াম বা ভিটামিন ডি সাপ্লিমেন্ট গ্রহণ না করাই নিরাপদ। ক্লান্তি, হাড়ে ব্যথা বা অস্বাভাবিক উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত রক্ত পরীক্ষা করানো উচিত।

সূত্র: মায়ো ক্লিনিক

kalprakash.com/SS

ট্যাগ সমূহ:
জনপ্রিয় সংবাদ

রক্তে ক্যালসিয়াম বেড়ে গেলে শরীরে কী কী সমস্যা হয়

প্রকাশিত: ০৬:৩০:০৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৬

শরীরের হাড় ও দাঁত মজবুত রাখতে ক্যালসিয়াম অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তবে রক্তে ক্যালসিয়ামের মাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে বেড়ে গেলে তা শরীরের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। চিকিৎসাবিজ্ঞানে এই অবস্থাকে বলা হয় হাইপারক্যালসেমিয়া। এটি দীর্ঘমেয়াদে কিডনি, হৃদযন্ত্র, মস্তিষ্ক এবং হাড়ের ওপর গুরুতর প্রভাব ফেলতে পারে।

কেন হয় এই সমস্যা

হাইপারক্যালসেমিয়ার প্রধান কারণ হলো গলার পাশে থাকা প্যারাথাইরয়েড গ্রন্থির অতিরিক্ত সক্রিয়তা। এছাড়া আরও কিছু কারণ রয়েছে, যেমন ফুসফুস, স্তন বা রক্তের ক্যান্সার, অতিরিক্ত ভিটামিন ডি বা ক্যালসিয়াম সাপ্লিমেন্ট গ্রহণ এবং কিছু নির্দিষ্ট ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া। দীর্ঘসময় শারীরিক নিষ্ক্রিয়তা বা শুয়ে-বসে থাকা অবস্থায় হাড় থেকে ক্যালসিয়াম রক্তে মিশে যেতে পারে। পাশাপাশি শরীরে পানির অভাব হলে ক্যালসিয়ামের ঘনত্বও বেড়ে যায়।

উপসর্গ বা লক্ষণ

এই সমস্যায় শরীরে বিভিন্ন ধরনের লক্ষণ দেখা দিতে পারে। কিডনির ক্ষেত্রে ঘন ঘন প্রস্রাব এবং অতিরিক্ত তৃষ্ণা অনুভূত হয়। পাকস্থলীতে পেট ব্যথা, বমি ভাব ও কোষ্ঠকাঠিন্য দেখা দিতে পারে। হাড় ও পেশিতে ব্যথা ও দুর্বলতা অনুভূত হয়। মস্তিষ্কে ক্লান্তি, মনোযোগের অভাব, স্মৃতিভ্রম বা বিষণ্ণতা দেখা দিতে পারে। হৃদযন্ত্রেও সমস্যা তৈরি হয়ে অনিয়মিত হৃদস্পন্দন বা বুক ধড়ফড় করার মতো লক্ষণ দেখা দেয়।

সম্ভাব্য জটিলতা

হাইপারক্যালসেমিয়া দীর্ঘদিন চলতে থাকলে অস্টিওপোরোসিস বা হাড় ভঙ্গুর হয়ে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়। কিডনিতে অতিরিক্ত ক্যালসিয়াম জমে পাথর তৈরি হতে পারে এবং গুরুতর ক্ষেত্রে কিডনি বিকল হওয়ার সম্ভাবনাও থাকে। খুব বেশি মাত্রায় হলে স্নায়বিক জটিলতা তৈরি হয়ে রোগী অচেতন বা কোমায় চলে যেতে পারেন।

বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ

বিশেষজ্ঞরা বলেন, পর্যাপ্ত পানি পান করা এবং চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ক্যালসিয়াম বা ভিটামিন ডি সাপ্লিমেন্ট গ্রহণ না করাই নিরাপদ। ক্লান্তি, হাড়ে ব্যথা বা অস্বাভাবিক উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত রক্ত পরীক্ষা করানো উচিত।

সূত্র: মায়ো ক্লিনিক

kalprakash.com/SS