বাংলাদেশ ০১:১৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৫ মে ২০২৬
শিরোনামঃ
Logo পাবিপ্রবির নতুন ভিসি ড. আবুল হাসনাত মোহা. শামীম Logo স্বর্ণের চেইন ও নগদ টাকা ছিনতাইয়ের অভিযোগ, দম্পতির ওপর হামলা Logo চিতলমারীতে বোরো ধান সংগ্রহ কার্যক্রমের উদ্বোধন, কৃষকের ধান কিনছে সরকার Logo তৃণমূল সাংবাদিকদের সংগঠন এসএসপির নেতৃত্বে মজনু-আবিদ Logo যোগদানের আগেই বেরোবির নতুন উপাচার্যের নিয়োগ বাতিল Logo ‘প্রধানমন্ত্রী স্বর্ণপদক’ পাচ্ছেন কুবির ১৬ শিক্ষার্থী Logo আজকের উল্লেখযোগ্য কর্মসূচি Logo টানা দুই দফা বৃদ্ধির পর কমলো স্বর্ণের দাম, ভরিতে কমেছে ২ হাজার ২১৬ টাকা Logo বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমানের সঙ্গে ইইউ রাষ্ট্রদূতের বৈঠক Logo ২২ বছর পর চাঁদপুরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, জেলাজুড়ে উৎসবের আমেজ

চীনা কোম্পানির ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা ‘অবৈধ’, পাল্টা ব্যবস্থার হুঁশিয়ারি বেইজিংয়ের

ডোনাল্ড ট্রাম্প ও শি জিনপিং

চীনা কোম্পানিগুলোর ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নতুন নিষেধাজ্ঞাকে ‘অবৈধ’ ও ‘ক্ষমতার অপব্যবহার’ বলে তীব্র সমালোচনা করেছে চীন। একই সঙ্গে নিজেদের প্রতিষ্ঠানগুলোর স্বার্থ রক্ষায় প্রয়োজনীয় সব ধরনের পদক্ষেপ নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে বেইজিং।

সোমবার (২৭ এপ্রিল) বেইজিংয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র লিন জিয়ান বলেন, আন্তর্জাতিক আইনের তোয়াক্কা না করে ওয়াশিংটন একতরফাভাবে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করছে, যার বিরোধিতা চীন সবসময় করে এসেছে।

এর আগে শুক্রবার মার্কিন ট্রেজারি বিভাগ ইরান সংশ্লিষ্ট নতুন নিষেধাজ্ঞার ঘোষণা দেয়। এতে চীনের একটি বড় স্বাধীন তেল শোধনাগারসহ প্রায় ৪০টি প্রতিষ্ঠানকে কালো তালিকাভুক্ত করা হয়। যুক্তরাষ্ট্রের অভিযোগ, এসব প্রতিষ্ঠান ইরানের সঙ্গে অবৈধ তেল বাণিজ্যে জড়িত।

বিশেষ করে শানডং প্রদেশের কয়েকটি ‘টি-পট’ রিফাইনারি এবং হেংলি পেট্রোকেমিক্যাল রিফাইনারি কোম্পানির বিরুদ্ধে ইরানি তেল আমদানির অভিযোগ এনেছে ওয়াশিংটন। মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্টের মুখপাত্র টমি পিগট দাবি করেন, ইরানের তেল বাণিজ্য সীমিত করতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

চীনের ভাষ্য, যুক্তরাষ্ট্র ‘লং-আর্ম জুরিসডিকশন’ প্রয়োগ করে নিজেদের আইনি এখতিয়ারের বাইরে গিয়ে অন্য দেশের প্রতিষ্ঠানের ওপর চাপ সৃষ্টি করছে। লিন জিয়ান যুক্তরাষ্ট্রকে এই নীতি থেকে সরে আসার আহ্বান জানিয়ে বলেন, চীন তার কোম্পানিগুলোর বৈধ অধিকার ও স্বার্থ রক্ষায় দৃঢ় অবস্থানে রয়েছে।

বেইজিংয়ের অভিযোগ, আন্তর্জাতিক বাজারে নিজেদের প্রভাব ধরে রাখতে যুক্তরাষ্ট্র বারবার চীনা প্রতিষ্ঠানগুলোকে লক্ষ্যবস্তু বানাচ্ছে। এতে বৈশ্বিক বাণিজ্য ও জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় অস্থিরতা তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশ্লেষকরা।

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা এবং ইরান ইস্যুকে ঘিরে নতুন এই নিষেধাজ্ঞা বেইজিং-ওয়াশিংটন সম্পর্ককে আরও জটিল করে তুলেছে। চীন স্পষ্ট করে জানিয়েছে, তারা এ ধরনের আচরণ মেনে নেবে না এবং প্রয়োজন হলে পাল্টা আইনি বা অর্থনৈতিক ব্যবস্থা নেবে।

বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের অন্যতম বড় তেল ক্রেতা হিসেবে চীনের ওপর চাপ বাড়াতেই ট্রাম্প প্রশাসন এই কৌশল নিয়েছে। এখন নজর রয়েছে আগামী ১৪ মে চীনের প্রেসিডেন্ট Xi Jinping এবং যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট Donald Trump–এর নির্ধারিত বৈঠকের দিকে। সেখানে নিষেধাজ্ঞা ও জ্বালানি বাণিজ্য ইস্যু গুরুত্বপূর্ণ আলোচনায় উঠে আসতে পারে।

kalprakash.com/SS

ট্যাগ সমূহ:
জনপ্রিয় সংবাদ

পাবিপ্রবির নতুন ভিসি ড. আবুল হাসনাত মোহা. শামীম

চীনা কোম্পানির ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা ‘অবৈধ’, পাল্টা ব্যবস্থার হুঁশিয়ারি বেইজিংয়ের

প্রকাশিত: ০৪:০০:৫৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৭ এপ্রিল ২০২৬

চীনা কোম্পানিগুলোর ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নতুন নিষেধাজ্ঞাকে ‘অবৈধ’ ও ‘ক্ষমতার অপব্যবহার’ বলে তীব্র সমালোচনা করেছে চীন। একই সঙ্গে নিজেদের প্রতিষ্ঠানগুলোর স্বার্থ রক্ষায় প্রয়োজনীয় সব ধরনের পদক্ষেপ নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে বেইজিং।

সোমবার (২৭ এপ্রিল) বেইজিংয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র লিন জিয়ান বলেন, আন্তর্জাতিক আইনের তোয়াক্কা না করে ওয়াশিংটন একতরফাভাবে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করছে, যার বিরোধিতা চীন সবসময় করে এসেছে।

এর আগে শুক্রবার মার্কিন ট্রেজারি বিভাগ ইরান সংশ্লিষ্ট নতুন নিষেধাজ্ঞার ঘোষণা দেয়। এতে চীনের একটি বড় স্বাধীন তেল শোধনাগারসহ প্রায় ৪০টি প্রতিষ্ঠানকে কালো তালিকাভুক্ত করা হয়। যুক্তরাষ্ট্রের অভিযোগ, এসব প্রতিষ্ঠান ইরানের সঙ্গে অবৈধ তেল বাণিজ্যে জড়িত।

বিশেষ করে শানডং প্রদেশের কয়েকটি ‘টি-পট’ রিফাইনারি এবং হেংলি পেট্রোকেমিক্যাল রিফাইনারি কোম্পানির বিরুদ্ধে ইরানি তেল আমদানির অভিযোগ এনেছে ওয়াশিংটন। মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্টের মুখপাত্র টমি পিগট দাবি করেন, ইরানের তেল বাণিজ্য সীমিত করতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

চীনের ভাষ্য, যুক্তরাষ্ট্র ‘লং-আর্ম জুরিসডিকশন’ প্রয়োগ করে নিজেদের আইনি এখতিয়ারের বাইরে গিয়ে অন্য দেশের প্রতিষ্ঠানের ওপর চাপ সৃষ্টি করছে। লিন জিয়ান যুক্তরাষ্ট্রকে এই নীতি থেকে সরে আসার আহ্বান জানিয়ে বলেন, চীন তার কোম্পানিগুলোর বৈধ অধিকার ও স্বার্থ রক্ষায় দৃঢ় অবস্থানে রয়েছে।

বেইজিংয়ের অভিযোগ, আন্তর্জাতিক বাজারে নিজেদের প্রভাব ধরে রাখতে যুক্তরাষ্ট্র বারবার চীনা প্রতিষ্ঠানগুলোকে লক্ষ্যবস্তু বানাচ্ছে। এতে বৈশ্বিক বাণিজ্য ও জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় অস্থিরতা তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশ্লেষকরা।

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা এবং ইরান ইস্যুকে ঘিরে নতুন এই নিষেধাজ্ঞা বেইজিং-ওয়াশিংটন সম্পর্ককে আরও জটিল করে তুলেছে। চীন স্পষ্ট করে জানিয়েছে, তারা এ ধরনের আচরণ মেনে নেবে না এবং প্রয়োজন হলে পাল্টা আইনি বা অর্থনৈতিক ব্যবস্থা নেবে।

বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের অন্যতম বড় তেল ক্রেতা হিসেবে চীনের ওপর চাপ বাড়াতেই ট্রাম্প প্রশাসন এই কৌশল নিয়েছে। এখন নজর রয়েছে আগামী ১৪ মে চীনের প্রেসিডেন্ট Xi Jinping এবং যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট Donald Trump–এর নির্ধারিত বৈঠকের দিকে। সেখানে নিষেধাজ্ঞা ও জ্বালানি বাণিজ্য ইস্যু গুরুত্বপূর্ণ আলোচনায় উঠে আসতে পারে।

kalprakash.com/SS