বাংলাদেশ ১১:৫৫ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৫ মে ২০২৬
শিরোনামঃ
Logo ‘প্রধানমন্ত্রী স্বর্ণপদক’ পাচ্ছেন কুবির ১৬ শিক্ষার্থী Logo আজকের উল্লেখযোগ্য কর্মসূচি Logo টানা দুই দফা বৃদ্ধির পর কমলো স্বর্ণের দাম, ভরিতে কমেছে ২ হাজার ২১৬ টাকা Logo বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমানের সঙ্গে ইইউ রাষ্ট্রদূতের বৈঠক Logo ২২ বছর পর চাঁদপুরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, জেলাজুড়ে উৎসবের আমেজ Logo যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে জ্বালানি সহযোগিতায় নতুন অধ্যায়, সই হলো সমঝোতা স্মারক Logo বেরোবির নতুন উপাচার্য ঢাবির মার্কেটিং বিভাগের অধ্যাপক ড. আনিসুর রহমান Logo নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন ভিসি ড. মোহাম্মদ মোশাররফ হোসেন Logo কুবির নতুন উপাচার্য অধ্যাপক ড. শরীফুল করীম Logo আড়াই মাস পর খুলল হরমুজ প্রণালি, চীনের জাহাজগুলোকে সীমিত অনুমতি দিল ইরান

নাটোরে ২১ বছর বয়স দেখিয়ে ৭ বছরের শিশুর নামে মামলা, আদালতে জামিন

নাটোরের গুরুদাসপুরে নবম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে কুপিয়ে জখমের ঘটনায় সাত বছর বয়সী এক শিশুকে আসামি করা হয়েছে। মামলার এজাহারে শিশুটির বয়স ২১ বছর দেখিয়ে তাকে আসামি করা হয়।

রোববার (২৬ এপ্রিল) শিশুটি তার বাবার সঙ্গে আদালতে হাজির হয়ে জামিন চাইলে বিচারক বিস্ময় প্রকাশ করেন এবং তার জামিন মঞ্জুর করেন।

আদালত ও মামলার বিবরণ সূত্রে জানা যায়, গত ৯ এপ্রিল ধারাবারিষা শাহ উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে গুরুদাসপুর সরকারি মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী শ্রাবণ সরকারকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে জখম করা হয়। এ ঘটনায় ১০ এপ্রিল শ্রাবণের বাবা শাহানুর রহমান বাদী হয়ে গুরুদাসপুর থানায় পাঁচজনের নাম উল্লেখ করে একটি মামলা দায়ের করেন। সেই মামলার তিন নম্বর আসামি করা হয় হোসেন আলীকে। অথচ মামলার আসামি হোসেন আলী ধারাবারিষা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রথম শ্রেণির ছাত্র, জন্মসনদ অনুযায়ী যার বয়স মাত্র সাত বছর।

রোববার দুপুরে বাবা শাহজাহান আলীর হাত ধরে আদালতে হাজির হয় শিশু হোসেন আলী। মামলার এজাহারে বয়সের এই বিশাল গরমিল দেখে নাটোর শিশু আদালতের বিচারক মুহাম্মদ রফিকুল ইসলাম বিস্ময় প্রকাশ করেন। আদালতে উপস্থিত আইনজীবী ও সাধারণ মানুষও এ ঘটনায় হতবাক হন। শুনানি শেষে বিচারক শিশুটির জামিন মঞ্জুর করেন এবং মামলার বাদী শাহানুর রহমানকে আদালতে হাজির হতে নোটিশ জারির নির্দেশ দেন।

শিশু হোসেন আলীর আইনজীবী শামীম হোসেন বলেন, ঘটনার দিন শিশু হোসেন আলী তার নিজ স্কুল ধারাবারিষা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ক্লাসে উপস্থিত ছিল। শুধুমাত্র প্রতিপক্ষকে ফাঁসানোর উদ্দেশ্যেই বাদী এই হয়রানিমূলক ও মিথ্যা মামলা দায়ের করেছেন। সাত বছরের একটি শিশুকে ২১ বছরের যুবক দেখিয়ে ফৌজদারি মামলায় জড়ানো আইনের অপব্যবহার ছাড়া আর কিছুই নয়।

আদালত চত্বরে শিশু হোসেন আলীর বাবা শাহজাহান আলী বলেন, “আমার অবুঝ শিশুকে নিয়ে আদালতের দ্বারে দ্বারে ঘুরতে হবে, কখনো ভাবিনি। যারা এমন মিথ্যা মামলা দিয়ে আমাদের হয়রানি করছে, আমি তাদের বিচার চাই।”

আইনজীবীরা বলছেন, ফৌজদারি মামলায় অনেক সময় প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করতে পরিবারের সবাইকে আসামি করার প্রবণতা দেখা যায়। তবে কোনো শিশুর নাম অন্তর্ভুক্ত হলে পুলিশের তদন্ত পর্যায়েই বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে যাচাই করা উচিত ছিল। কীভাবে একটি সাত বছরের শিশুর নাম তদন্ত এড়িয়ে অভিযোগপত্রে অন্তর্ভুক্ত হলো, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অনেকেই।

ট্যাগ সমূহ:
জনপ্রিয় সংবাদ

‘প্রধানমন্ত্রী স্বর্ণপদক’ পাচ্ছেন কুবির ১৬ শিক্ষার্থী

নাটোরে ২১ বছর বয়স দেখিয়ে ৭ বছরের শিশুর নামে মামলা, আদালতে জামিন

প্রকাশিত: ০৯:১৪:২১ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ এপ্রিল ২০২৬

নাটোরের গুরুদাসপুরে নবম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে কুপিয়ে জখমের ঘটনায় সাত বছর বয়সী এক শিশুকে আসামি করা হয়েছে। মামলার এজাহারে শিশুটির বয়স ২১ বছর দেখিয়ে তাকে আসামি করা হয়।

রোববার (২৬ এপ্রিল) শিশুটি তার বাবার সঙ্গে আদালতে হাজির হয়ে জামিন চাইলে বিচারক বিস্ময় প্রকাশ করেন এবং তার জামিন মঞ্জুর করেন।

আদালত ও মামলার বিবরণ সূত্রে জানা যায়, গত ৯ এপ্রিল ধারাবারিষা শাহ উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে গুরুদাসপুর সরকারি মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী শ্রাবণ সরকারকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে জখম করা হয়। এ ঘটনায় ১০ এপ্রিল শ্রাবণের বাবা শাহানুর রহমান বাদী হয়ে গুরুদাসপুর থানায় পাঁচজনের নাম উল্লেখ করে একটি মামলা দায়ের করেন। সেই মামলার তিন নম্বর আসামি করা হয় হোসেন আলীকে। অথচ মামলার আসামি হোসেন আলী ধারাবারিষা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রথম শ্রেণির ছাত্র, জন্মসনদ অনুযায়ী যার বয়স মাত্র সাত বছর।

রোববার দুপুরে বাবা শাহজাহান আলীর হাত ধরে আদালতে হাজির হয় শিশু হোসেন আলী। মামলার এজাহারে বয়সের এই বিশাল গরমিল দেখে নাটোর শিশু আদালতের বিচারক মুহাম্মদ রফিকুল ইসলাম বিস্ময় প্রকাশ করেন। আদালতে উপস্থিত আইনজীবী ও সাধারণ মানুষও এ ঘটনায় হতবাক হন। শুনানি শেষে বিচারক শিশুটির জামিন মঞ্জুর করেন এবং মামলার বাদী শাহানুর রহমানকে আদালতে হাজির হতে নোটিশ জারির নির্দেশ দেন।

শিশু হোসেন আলীর আইনজীবী শামীম হোসেন বলেন, ঘটনার দিন শিশু হোসেন আলী তার নিজ স্কুল ধারাবারিষা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ক্লাসে উপস্থিত ছিল। শুধুমাত্র প্রতিপক্ষকে ফাঁসানোর উদ্দেশ্যেই বাদী এই হয়রানিমূলক ও মিথ্যা মামলা দায়ের করেছেন। সাত বছরের একটি শিশুকে ২১ বছরের যুবক দেখিয়ে ফৌজদারি মামলায় জড়ানো আইনের অপব্যবহার ছাড়া আর কিছুই নয়।

আদালত চত্বরে শিশু হোসেন আলীর বাবা শাহজাহান আলী বলেন, “আমার অবুঝ শিশুকে নিয়ে আদালতের দ্বারে দ্বারে ঘুরতে হবে, কখনো ভাবিনি। যারা এমন মিথ্যা মামলা দিয়ে আমাদের হয়রানি করছে, আমি তাদের বিচার চাই।”

আইনজীবীরা বলছেন, ফৌজদারি মামলায় অনেক সময় প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করতে পরিবারের সবাইকে আসামি করার প্রবণতা দেখা যায়। তবে কোনো শিশুর নাম অন্তর্ভুক্ত হলে পুলিশের তদন্ত পর্যায়েই বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে যাচাই করা উচিত ছিল। কীভাবে একটি সাত বছরের শিশুর নাম তদন্ত এড়িয়ে অভিযোগপত্রে অন্তর্ভুক্ত হলো, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অনেকেই।