বাংলাদেশ ০৬:৩১ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০৫ জুলাই ২০২৬
শিরোনামঃ
Logo ‘১৩ মিনিট শ্বাস আটকে রেখেও বেঁচে থাকতে পারি’ Logo নিয়োগ ও পদোন্নতি কার্যক্রমে সম্মানি ও পারিতোষিকের হার পুনর্নির্ধারণ Logo ইউএইর ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন, পর্যটক ও প্রবাসীদের জন্য এলো ৬ নতুন সুবিধা Logo বদর যুদ্ধের আয়াত তেলাওয়াত, আলোচনা কূটনৈতিক বার্তা Logo ওমানে প্রবাসী বাংলাদেশি প্রকৌশলীদের সঙ্গে দূতাবাসের মতবিনিময় সভা Logo হাওরের জন্য আগাম ধানের জাত উদ্ভাবনের কাজ চলছে: কৃষিমন্ত্রী Logo সার্টিফিকেটে নাম ও জন্ম তারিখ সংশোধন নিয়ে জরুরি নির্দেশনা বোর্ডের Logo সীমান্তে কথিত পুশ-ইনের চেষ্টা, বিজিবি ও গ্রামবাসীর তৎপরতায় ব্যর্থ Logo প্রাকৃতিক দুর্যোগে ভেঙে গেছে ব্রিজের সংযোগ সড়ক, স্থায়ী সমাধানে কাজ করছে পিআইও Logo মোংলায় এনটিভির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন

ইরান যুদ্ধ বদলে দিয়েছে বৈশ্বিক জ্বালানি শিল্প: আইইএ প্রধান

সংগৃহীত ছবি

আমেরিকা ও ইসরাইলের ইরানে আগ্রাসনের ফলে বৈশ্বিক জীবাশ্ম জ্বালানি শিল্পে স্থায়ী পরিবর্তন এসেছে বলে মন্তব্য করেছেন আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা আইইএর নির্বাহী পরিচালক ফাতিহ বিরল। তিনি বলেন, এই সংঘাতের পর বিশ্ব এখন আরও বেশি নিরাপদ ও বিকল্প জ্বালানি উৎসের দিকে ঝুঁকছে।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম গার্ডিয়ানকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ফাতিহ বিরল বলেন, ইরানকে ঘিরে সৃষ্ট সংকটের পর জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর বৈশ্বিক আস্থা কমে গেছে। এর ফলে তেল-গ্যাসের ভবিষ্যৎ চাহিদাও প্রভাবিত হবে।

তিনি বলেন, বিভিন্ন দেশের সরকার এখন নিজেদের জ্বালানি কৌশল নতুনভাবে মূল্যায়ন করছে। নবায়নযোগ্য জ্বালানি, পরমাণু শক্তি এবং বিদ্যুচ্চালিত ব্যবস্থার প্রতি আগ্রহ বাড়ছে। এর প্রভাব তেলের বাজারেও পড়বে।

আইইএ প্রধানের ভাষায়, এই সংকট থেকে ফিরে যাওয়ার সুযোগ নেই। একবার যে পরিবর্তন শুরু হয়েছে, তা ভবিষ্যতের বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে স্থায়ী প্রভাব ফেলবে।

তিনি বিশ্বজুড়ে নতুন জীবাশ্ম জ্বালানির অনুসন্ধান ও বাণিজ্যিক উৎপাদনে সতর্কতা অবলম্বনের আহ্বান জানান। বিশেষ করে উত্তর সাগরে নতুন খনিজসম্পদ অনুসন্ধান পরিকল্পনা নিয়ে ব্রিটেনকে ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, এসব প্রকল্প জ্বালানি নিরাপত্তায় বড় পরিবর্তন আনবে না।

ফাতিহ বিরল বলেন, বহু বছর পরও এসব উৎস থেকে পর্যাপ্ত তেল-গ্যাস উত্তোলন সম্ভব হবে না এবং আন্তর্জাতিক বাজারে দামের ওপরও উল্লেখযোগ্য প্রভাব পড়বে না। তার মতে, বাণিজ্যিক দৃষ্টিকোণ থেকেও এমন বিনিয়োগের যৌক্তিকতা কম।

তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, তেল-গ্যাসের উচ্চমূল্যের কারণে উন্নয়নশীল দেশগুলো আবারও সস্তা কয়লার দিকে ঝুঁকতে পারে, যা জলবায়ু অগ্রগতির জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। যদিও সৌরশক্তি দ্রুত প্রতিযোগিতামূলক হয়ে উঠছে এবং এর ব্যবহার বাড়বে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

নবায়নযোগ্য জ্বালানির পক্ষে অবস্থান নিয়ে ফাতিহ বিরল বলেন, এ ধরনের জ্বালানির কোনো নেতিবাচক প্রভাব নেই এবং এটি ভবিষ্যতের সবচেয়ে সম্ভাবনাময় খাতগুলোর একটি।

হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে চলমান সংকট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বৈশ্বিক অর্থনীতি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি সরু নৌপথের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে, যা বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করছে।

তার মতে, হরমুজ প্রণালি খুলে গেলেও এই সংকটের প্রভাব শুধু জ্বালানি খাতেই সীমাবদ্ধ থাকবে না; সার, খাদ্য, সফটওয়্যারসহ বিভিন্ন শিল্পেও এর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব পড়বে।

সূত্র: ইঙ্কেল

kalprakash.com/SS

রবিবার, ২৬ এপ্রিল ২০২৬
ইরান যুদ্ধ বদলে দিয়েছে বৈশ্বিক জ্বালানি শিল্প: আইইএ প্রধান
ট্যাগ সমূহ:
জনপ্রিয় সংবাদ

‘১৩ মিনিট শ্বাস আটকে রেখেও বেঁচে থাকতে পারি’

ইরান যুদ্ধ বদলে দিয়েছে বৈশ্বিক জ্বালানি শিল্প: আইইএ প্রধান

প্রকাশিত: ১১:০৯:৫৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৬ এপ্রিল ২০২৬

আমেরিকা ও ইসরাইলের ইরানে আগ্রাসনের ফলে বৈশ্বিক জীবাশ্ম জ্বালানি শিল্পে স্থায়ী পরিবর্তন এসেছে বলে মন্তব্য করেছেন আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা আইইএর নির্বাহী পরিচালক ফাতিহ বিরল। তিনি বলেন, এই সংঘাতের পর বিশ্ব এখন আরও বেশি নিরাপদ ও বিকল্প জ্বালানি উৎসের দিকে ঝুঁকছে।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম গার্ডিয়ানকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ফাতিহ বিরল বলেন, ইরানকে ঘিরে সৃষ্ট সংকটের পর জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর বৈশ্বিক আস্থা কমে গেছে। এর ফলে তেল-গ্যাসের ভবিষ্যৎ চাহিদাও প্রভাবিত হবে।

তিনি বলেন, বিভিন্ন দেশের সরকার এখন নিজেদের জ্বালানি কৌশল নতুনভাবে মূল্যায়ন করছে। নবায়নযোগ্য জ্বালানি, পরমাণু শক্তি এবং বিদ্যুচ্চালিত ব্যবস্থার প্রতি আগ্রহ বাড়ছে। এর প্রভাব তেলের বাজারেও পড়বে।

আইইএ প্রধানের ভাষায়, এই সংকট থেকে ফিরে যাওয়ার সুযোগ নেই। একবার যে পরিবর্তন শুরু হয়েছে, তা ভবিষ্যতের বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে স্থায়ী প্রভাব ফেলবে।

তিনি বিশ্বজুড়ে নতুন জীবাশ্ম জ্বালানির অনুসন্ধান ও বাণিজ্যিক উৎপাদনে সতর্কতা অবলম্বনের আহ্বান জানান। বিশেষ করে উত্তর সাগরে নতুন খনিজসম্পদ অনুসন্ধান পরিকল্পনা নিয়ে ব্রিটেনকে ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, এসব প্রকল্প জ্বালানি নিরাপত্তায় বড় পরিবর্তন আনবে না।

ফাতিহ বিরল বলেন, বহু বছর পরও এসব উৎস থেকে পর্যাপ্ত তেল-গ্যাস উত্তোলন সম্ভব হবে না এবং আন্তর্জাতিক বাজারে দামের ওপরও উল্লেখযোগ্য প্রভাব পড়বে না। তার মতে, বাণিজ্যিক দৃষ্টিকোণ থেকেও এমন বিনিয়োগের যৌক্তিকতা কম।

তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, তেল-গ্যাসের উচ্চমূল্যের কারণে উন্নয়নশীল দেশগুলো আবারও সস্তা কয়লার দিকে ঝুঁকতে পারে, যা জলবায়ু অগ্রগতির জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। যদিও সৌরশক্তি দ্রুত প্রতিযোগিতামূলক হয়ে উঠছে এবং এর ব্যবহার বাড়বে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

নবায়নযোগ্য জ্বালানির পক্ষে অবস্থান নিয়ে ফাতিহ বিরল বলেন, এ ধরনের জ্বালানির কোনো নেতিবাচক প্রভাব নেই এবং এটি ভবিষ্যতের সবচেয়ে সম্ভাবনাময় খাতগুলোর একটি।

হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে চলমান সংকট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বৈশ্বিক অর্থনীতি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি সরু নৌপথের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে, যা বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করছে।

তার মতে, হরমুজ প্রণালি খুলে গেলেও এই সংকটের প্রভাব শুধু জ্বালানি খাতেই সীমাবদ্ধ থাকবে না; সার, খাদ্য, সফটওয়্যারসহ বিভিন্ন শিল্পেও এর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব পড়বে।

সূত্র: ইঙ্কেল

kalprakash.com/SS

রবিবার, ২৬ এপ্রিল ২০২৬
ইরান যুদ্ধ বদলে দিয়েছে বৈশ্বিক জ্বালানি শিল্প: আইইএ প্রধান