বাংলাদেশ ০৭:১৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৫ মে ২০২৬

বিশ্ববাজারে তেলের দামে চরম অস্থিরতা: সপ্তাহ শেষে বাড়ল ব্রেন্ট ক্রুডের দর

সংগৃহীত ছবি

সরবরাহ সংকটের আশঙ্কা এবং ভূ-রাজনৈতিক টানাপোড়েনে বিশ্ববাজারে তেলের দামে অস্থিরতা কাটছেই না। গত শুক্রবার দিনভর দর ওঠানামার পর সপ্তাহ শেষে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম সার্বিকভাবে বেড়েছে। গত এক সপ্তাহে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম প্রায় ১৬ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে; একই সময়ে মার্কিন তেলের দাম বেড়েছে ১৩ শতাংশ।

বাজার বিশ্লেষণে দেখা যায়, শুক্রবার লেনদেন শেষে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড ব্রেন্ট ক্রুড ফিউচারের দাম প্রতি ব্যারেলে ২৬ সেন্ট বা শূন্য দশমিক ৩ শতাংশ বেড়ে ১০৫ দশমিক ৩৩ ডলারে থিতু হয়েছে। তবে উল্টো চিত্র দেখা গেছে মার্কিন ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েটে (WTI)। এর দাম ব্যারেলে ১ দশমিক ৪৫ ডলার বা ১ দশমিক ৫ শতাংশ কমে ৯৪ দশমিক ৪০ ডলারে দাঁড়িয়েছে।

দিনের শুরুতে তেলের দাম প্রায় ২ শতাংশ বাড়লেও পরে কিছুটা কমে আসে। বাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সম্ভাব্য শান্তি আলোচনার খবরে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে কিছুটা স্বস্তি ফিরে এসেছে। রয়টার্স ও সিএনএনের তথ্যমতে, আলোচনার উদ্দেশ্যে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি এবং মার্কিন বিশেষ প্রতিনিধি দল বর্তমানে ইসলামাবাদে অবস্থান করছেন। একই সঙ্গে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও ইরানের পক্ষ থেকে নতুন প্রস্তাব আসার ইঙ্গিত দিয়েছেন।

তবে কূটনৈতিক তৎপরতা চললেও হরমুজ প্রণালির পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ কমছে না। বৈশ্বিক তেল সরবরাহের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথ বর্তমানে প্রায় অচলাবস্থার মধ্যে রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় মাত্র পাঁচটি জাহাজ এই পথ অতিক্রম করতে পেরেছে। সম্প্রতি ইরানের কমান্ডোদের হাতে দুটি জাহাজ জব্দ হওয়ার পর অঞ্চলটিতে উত্তেজনা আরও বেড়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, চলতি এপ্রিলের মধ্যে শান্তি আলোচনায় উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি না হলে তেলের বাজার আরও অস্থিতিশীল হয়ে উঠতে পারে। এমনকি দাম এ বছরের সর্বোচ্চ রেকর্ডও ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

এদিকে জ্বালানির এই মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব ইতোমধ্যে বৈশ্বিক ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলোতে পড়তে শুরু করেছে। বহুজাতিক কোম্পানি প্রক্টর অ্যান্ড গ্যাম্বল (P&G) জানিয়েছে, তেলের উচ্চমূল্যের কারণে আগামী অর্থবছরে তাদের মুনাফা প্রায় ১০০ কোটি ডলার কমে যেতে পারে।

kalprakash.com/SS

ট্যাগ সমূহ:
জনপ্রিয় সংবাদ

বিশ্ববাজারে তেলের দামে চরম অস্থিরতা: সপ্তাহ শেষে বাড়ল ব্রেন্ট ক্রুডের দর

প্রকাশিত: ০১:৩৮:৩৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৫ এপ্রিল ২০২৬

সরবরাহ সংকটের আশঙ্কা এবং ভূ-রাজনৈতিক টানাপোড়েনে বিশ্ববাজারে তেলের দামে অস্থিরতা কাটছেই না। গত শুক্রবার দিনভর দর ওঠানামার পর সপ্তাহ শেষে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম সার্বিকভাবে বেড়েছে। গত এক সপ্তাহে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম প্রায় ১৬ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে; একই সময়ে মার্কিন তেলের দাম বেড়েছে ১৩ শতাংশ।

বাজার বিশ্লেষণে দেখা যায়, শুক্রবার লেনদেন শেষে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড ব্রেন্ট ক্রুড ফিউচারের দাম প্রতি ব্যারেলে ২৬ সেন্ট বা শূন্য দশমিক ৩ শতাংশ বেড়ে ১০৫ দশমিক ৩৩ ডলারে থিতু হয়েছে। তবে উল্টো চিত্র দেখা গেছে মার্কিন ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েটে (WTI)। এর দাম ব্যারেলে ১ দশমিক ৪৫ ডলার বা ১ দশমিক ৫ শতাংশ কমে ৯৪ দশমিক ৪০ ডলারে দাঁড়িয়েছে।

দিনের শুরুতে তেলের দাম প্রায় ২ শতাংশ বাড়লেও পরে কিছুটা কমে আসে। বাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সম্ভাব্য শান্তি আলোচনার খবরে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে কিছুটা স্বস্তি ফিরে এসেছে। রয়টার্স ও সিএনএনের তথ্যমতে, আলোচনার উদ্দেশ্যে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি এবং মার্কিন বিশেষ প্রতিনিধি দল বর্তমানে ইসলামাবাদে অবস্থান করছেন। একই সঙ্গে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও ইরানের পক্ষ থেকে নতুন প্রস্তাব আসার ইঙ্গিত দিয়েছেন।

তবে কূটনৈতিক তৎপরতা চললেও হরমুজ প্রণালির পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ কমছে না। বৈশ্বিক তেল সরবরাহের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথ বর্তমানে প্রায় অচলাবস্থার মধ্যে রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় মাত্র পাঁচটি জাহাজ এই পথ অতিক্রম করতে পেরেছে। সম্প্রতি ইরানের কমান্ডোদের হাতে দুটি জাহাজ জব্দ হওয়ার পর অঞ্চলটিতে উত্তেজনা আরও বেড়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, চলতি এপ্রিলের মধ্যে শান্তি আলোচনায় উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি না হলে তেলের বাজার আরও অস্থিতিশীল হয়ে উঠতে পারে। এমনকি দাম এ বছরের সর্বোচ্চ রেকর্ডও ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

এদিকে জ্বালানির এই মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব ইতোমধ্যে বৈশ্বিক ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলোতে পড়তে শুরু করেছে। বহুজাতিক কোম্পানি প্রক্টর অ্যান্ড গ্যাম্বল (P&G) জানিয়েছে, তেলের উচ্চমূল্যের কারণে আগামী অর্থবছরে তাদের মুনাফা প্রায় ১০০ কোটি ডলার কমে যেতে পারে।

kalprakash.com/SS