ভারতের পশ্চিমবঙ্গের আসন্ন নির্বাচনকে ঘিরে খাদ্যাভ্যাসের প্রশ্নে রাজনৈতিক বিতর্ক নতুন মাত্রা পেয়েছে। আসামের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা মন্তব্য করেছেন, ভারতীয় জনতা পার্টি ক্ষমতায় এলে পশ্চিমবঙ্গে গোমাংস খাওয়া বন্ধ করা হবে। তার এ বক্তব্যে রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে।
কোচবিহারের নির্বাচনি জনসভায় তিনি বলেন, বাংলায় বিজেপি ক্ষমতায় এলে গরুর মাংস খাওয়া চলবে না। বিশ্লেষকদের একাংশ মনে করছেন, মেরুকরণের রাজনীতিকে আরও জোরদার করতেই গরুর মাংস ইস্যু সামনে আনা হচ্ছে।
অন্যদিকে পশ্চিমবঙ্গের ক্ষমতাসীন তৃণমূল কংগ্রেস দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ করে আসছে, বিজেপি ক্ষমতায় এলে বাঙালির খাদ্যসংস্কৃতিতে হস্তক্ষেপ করা হতে পারে। এ বিষয়ে দলটির নেতারা বিভিন্ন সময় সতর্কবার্তাও দিয়েছেন।
হিমন্ত শর্মা দাবি করেন, তৃণমূল এ নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে। তিনি বলেন, আসামে বিজেপি দীর্ঘদিন ধরে ক্ষমতায় থাকলেও সাধারণ মাছ-মাংস খাওয়ার ওপর কোনো নিষেধাজ্ঞা নেই। তবে হিন্দু ধর্মীয় বিশ্বাসে গরুকে পবিত্র হিসেবে বিবেচনা করা হয়। তাই বাংলায় ক্ষমতার পরিবর্তন হলে গোমাংস ভক্ষণ ও গরু পাচার—উভয়ই কঠোরভাবে বন্ধ করা হবে।
তিনি আরও বলেন, সাধারণ মাংস খাওয়া বন্ধ হবে না, কেবল গোমাংসের কারবার বন্ধ হবে—এ কারণেই দিদি উদ্বিগ্ন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই বক্তব্যে একদিকে বাঙালির আমিষভোজী সংস্কৃতিকে সরাসরি আঘাত না করে, অন্যদিকে ধর্মীয় অনুভূতিকে সামনে আনার কৌশল রয়েছে। ফলে নির্বাচনকে ঘিরে উন্নয়ন, কর্মসংস্থানসহ অন্যান্য ইস্যুর পাশাপাশি খাদ্যাভ্যাসও গুরুত্বপূর্ণ আলোচ্য বিষয় হয়ে উঠছে।
এছাড়া গরু পাচার নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, এ ধরনের কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
সূত্র: ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস
kalprakash.com/SS
আন্তর্জাতিক ডেস্ক 






















