নারীদের নিয়ে অপতথ্য বাড়ছে উদ্বেগজনক হারে, দ্রুত বিচার না হওয়ায় বাড়ছে সাইবার অপরাধ
দেশে চলতি বছরের প্রথম তিন মাসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ১ হাজার ৯৭৪টি ভুল ও বিভ্রান্তিকর তথ্য শনাক্ত করা হয়েছে। যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ১৩৬ শতাংশ বেশি। সবচেয়ে বেশি ভুয়া তথ্য ছড়িয়েছে ফেসবুকে। পাশাপাশি টিকটক, ইউটিউব, ইনস্টাগ্রাম ও থ্রেডসেও উদ্বেগজনক হারে অপতথ্য ছড়ানোর প্রমাণ মিলেছে।
ফ্যাক্ট-চেকিং প্রতিষ্ঠান রিউমর স্ক্যানার-এর প্রকাশিত পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত শুধু ফেসবুকেই শনাক্ত হয়েছে ১ হাজার ৭৩২টি ভুল তথ্য। অর্থাৎ প্রতিদিন গড়ে ১৯টির বেশি ভুয়া তথ্য ছড়িয়েছে মেটার এই প্ল্যাটফর্মে।
একক প্ল্যাটফর্ম হিসেবে টিকটকে শনাক্ত হয়েছে ৩৬৮টি ভুল তথ্য। এছাড়া ইউটিউবে ১১৫টি, ইনস্টাগ্রামে ২৬৪টি এবং থ্রেডসে ৫১টি অপতথ্য শনাক্ত করা হয়েছে।
রিউমর স্ক্যানার জানিয়েছে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন, জাতীয় রাজনীতি এবং বৈশ্বিক বিভিন্ন ইস্যুকে কেন্দ্র করে এসব ভুল তথ্য ব্যাপকভাবে ছড়ানো হয়েছে।
এদিকে গত বছরের ডিসেম্বর থেকে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত নারীদের কেন্দ্র করে ৪৭২টি ভুল তথ্য ছড়ানোর তথ্যও উঠে এসেছে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই নারীদের নেতিবাচকভাবে উপস্থাপনের চেষ্টা করা হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এই প্রবণতা শুধু নারীদের ব্যক্তিগত সুনাম ক্ষুণ্ণ করছে না, বরং জনপরিসরে নারীদের অংশগ্রহণকেও প্রশ্নবিদ্ধ করছে।
সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ তানভীর হাসান জোহা বলেন, সাইবার অপরাধের ক্ষেত্রে বিচার প্রতিষ্ঠা না হওয়ায় অপরাধ বাড়ছে। তার ভাষ্য, ছয় মাসের মধ্যে সাইবার মামলার বিচার শেষ হওয়ার কথা থাকলেও ২০১২ সালের মামলাও এখনো ট্রাইব্যুনালে বিচারাধীন। অনেকেই মামলা করেও পরে তা প্রত্যাহার করে নিচ্ছেন।
তিনি মনে করেন, দক্ষ তদন্ত কর্মকর্তা নিয়োগ এবং দ্রুত বিচার নিশ্চিত করা গেলে সাইবার অপরাধ অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হবে।
তথ্যপ্রযুক্তি ডেস্ক 























