হরমুজ প্রণালিতে চলমান নিরাপত্তা সংকট ও জাহাজ চলাচলে বাধার কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম এখনো উচ্চ পর্যায়ে রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের নতুন উদ্যোগ ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’ ঘোষণার পরও বাজারে তেমন আস্থা ফিরতে দেখা যায়নি।
সোমবার (৪ মে) আন্তর্জাতিক মানদণ্ড ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০৮.২৫ ডলারে পৌঁছায়, যা আগের দিনের তুলনায় সামান্য বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, সরবরাহ ঘাটতি ও মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা বাজারে চাপ সৃষ্টি করছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি ঘোষণা দেন যে উপসাগরে আটকে পড়া জাহাজগুলোকে নিরাপদে চলাচলে সহায়তা করা হবে। তবে ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’ নিয়ে বিস্তারিত পরিকল্পনা না থাকায় বাজারে স্থায়ী স্বস্তি তৈরি হয়নি।
অন্যদিকে ইরান এ উদ্যোগের বিরোধিতা করেছে এবং হুঁশিয়ারি দিয়েছে যে হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন হস্তক্ষেপকে তারা যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন হিসেবে দেখবে। ফলে পরিস্থিতি আরও জটিল আকার নিয়েছে।
এদিকে সংযুক্ত আরব আমিরাতের উপকূলে একটি তেলবাহী জাহাজে অজ্ঞাত হামলার ঘটনা এবং ইরান উপকূলের কাছেও আরেকটি হামলার খবর সামুদ্রিক নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ আরও বাড়িয়েছে। যদিও এসব ঘটনায় কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে, যা বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের প্রভাব ফেলছে। জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধ-পূর্ব সময়ে যেখানে প্রতিদিন প্রায় ১২৯টি জাহাজ চলাচল করত, বর্তমানে তা নেমে এসেছে প্রায় ২০টিতে।
গোল্ডম্যান স্যাকসের বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, এই পরিস্থিতিতে বৈশ্বিক দৈনিক তেল উৎপাদন প্রায় ১ কোটি ৪৫ লাখ ব্যারেল পর্যন্ত কমে গেছে, যা দীর্ঘমেয়াদে বাজারে বড় ধরনের চাপ তৈরি করতে পারে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, কেবল সাময়িক সামরিক সহায়তা নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তা ও অবকাঠামোগত সমাধান ছাড়া তেলবাজারে স্থিতিশীলতা ফেরানো কঠিন হবে।
kalprakash.com/SS
অনলাইন ডেস্ক 






















