শনিবার, ৮ আগস্ট, ২০২৬ | ২৩ শ্রাবণ, ১৪৩৩ | ২৩ সফর, ১৪৪৮ | সন্ধ্যা ৭:২৪:০৬

অপারেশনের অপেক্ষায় ঝরছে প্রাণ

কাল প্রকাশ
প্রকাশ: শনিবার, ২ মে, ২০২৬, ১০:৫৩
শেয়ার: mail
অপারেশনের অপেক্ষায় ঝরছে প্রাণ

ছবিঃ সংগৃহীত

জীবন রক্ষাকারী ওপেন হার্ট সার্জারির জন্য দেড় থেকে দুই মাস অপেক্ষা করতে হচ্ছে রোগীদের। চিকিৎসকদের মতে, গুরুতর ব্লকেজ বা হার্টের ভালভজনিত সমস্যায় এত দীর্ঘ বিলম্ব রোগীদের জন্য হয়ে উঠছে নীরব মৃত্যুফাঁদ। সময়মতো অস্ত্রোপচার না হওয়ায় বাড়ছে হার্ট অ্যাটাক, হার্ট ফেইলিউর ও আকস্মিক মৃত্যুর ঝুঁকি।

রাজধানীর জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে সরেজমিন অনুসন্ধানে দেখা গেছে, জরুরি অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন থাকা রোগীরাও মাসের পর মাস সিরিয়ালের অপেক্ষায় থাকছেন। তবে অভিযোগ রয়েছে, তদবির বা প্রভাব খাটাতে পারলে এক সপ্তাহের মধ্যেই মিলছে অপারেশনের তারিখ।

হাসপাতালের অপারেশন থিয়েটারের বাইরে উদ্বিগ্ন স্বজনদের ভিড় যেন এ বাস্তবতারই প্রতিচ্ছবি। এক রোগীর স্বজন জানান, অপারেশন চলাকালেই বারবার বাইরে থেকে ওষুধ কিনতে বলা হয়েছে। শুধু ওষুধ কিনতেই তাদের খরচ হয়েছে প্রায় ৯৬ হাজার টাকা।

অভিযোগ উঠেছে, সরকারি হাসপাতালেও রোগীদের ওষুধ, পরীক্ষা-নিরীক্ষা, আয়া-বুয়া, ওয়ার্ডবয় এমনকি চিকিৎসকের ব্যক্তিগত কর্মকর্তাদের খুশি করতেও অতিরিক্ত টাকা গুনতে হচ্ছে। অন্যদিকে সামর্থ্যবান রোগীরা দ্রুত চিকিৎসার আশায় ছুটছেন বেসরকারি হাসপাতালে, যেখানে ব্যয় আরও বেশি।

রোগীর স্বজন পরিচয়ে হাসপাতালের ১১৩ নম্বর কক্ষে যোগাযোগ করলে জানানো হয়, ওপেন হার্ট সার্জারির সিরিয়াল পেতে কমপক্ষে দেড় মাস লাগবে। তবে অনুসন্ধানে এমন অনেক রোগীর তথ্য পাওয়া গেছে, যারা প্রভাব বা যোগাযোগ ব্যবহার করে মাত্র এক সপ্তাহেই অপারেশনের তারিখ পেয়েছেন।

এছাড়া অভিযোগ রয়েছে, সিরিয়ালে থাকা কোনো রোগী মারা গেলে বা অন্য হাসপাতালে অস্ত্রোপচার করালে সেই খালি স্লট অপেক্ষমাণ পুরোনো রোগীদের না দিয়ে নতুন রোগীদের কাছে বিক্রি করা হচ্ছে। কিছু স্লট রাজনৈতিক বা প্রশাসনিক তদবিরেও বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

হাসপাতাল সূত্র বলছে, রোগীর চাপ আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে। ২০২৩ সালে হাসপাতালটিতে চিকিৎসা নিয়েছিলেন ৪ লাখ ৪৬ হাজার ৭৭০ জন। ২০২৪ সালে তা বেড়ে প্রায় ৪ লাখ ৮৪ হাজারে পৌঁছায়। আর ২০২৫ সালে চিকিৎসা নিয়েছেন ৫ লাখ ৩৮ হাজার ৫২৮ জন।

হাসপাতালের পরিচালক অধ্যাপক ডা. আবদুল ওয়াদুদ চৌধুরী বলেন, সক্ষমতার তুলনায় কয়েক গুণ বেশি রোগীর চাপ সামলাতে হচ্ছে। তিনি জানান, আগে ওপেন হার্ট সার্জারির জন্য তিন মাস অপেক্ষা করতে হলেও বর্তমানে তা কমিয়ে দেড় মাসে আনা হয়েছে। তবে এই সময়টুকুও রোগীদের জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ।

তিনি আরও বলেন, হৃদরোগ চিকিৎসা ঢাকার বাইরে বিকেন্দ্রীকরণ না করা গেলে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া কঠিন হবে। বাজেট ঘাটতির কারণে প্রয়োজনীয় সংস্কার ও অপারেশন সুবিধা বাড়ানোও সম্ভব হচ্ছে না।

kalprakash.com/SS

এই সম্পর্কিত আরও সংবাদ

সব দেখুন arrow_forward
অপারেশনের অপেক্ষায় ঝরছে প্রাণ
Logo
শনিবার, ২ মে, ২০২৬ | kalprakash.com

অপারেশনের অপেক্ষায় ঝরছে প্রাণ

বিস্তারিত কমেন্টে