মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক অবরোধের কারণে ইরানের তেল রপ্তানি মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্ত হয়েছে। এ পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে দেশটি সর্বোচ্চ দুই মাস পর্যন্ত তেল রপ্তানি ছাড়াই টিকে থাকতে পারবে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রতিদিন প্রায় ২০ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল চীনে রপ্তানি ঝুঁকির মুখে পড়েছে। রপ্তানি বন্ধ থাকলে ইরানকে উৎপাদিত তেল স্থলভিত্তিক সংরক্ষণাগারে জমা করতে হবে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, ইরানের মোট তেল সংরক্ষণ সক্ষমতা প্রায় ১২ কোটি ২০ লাখ ব্যারেল হলেও এর বড় অংশ ব্যবহারযোগ্য নয়। ফলে সংরক্ষণাগার দ্রুত পূর্ণ হয়ে গেলে উৎপাদন কমাতে বাধ্য হবে দেশটি।
পরামর্শক প্রতিষ্ঠান এফজিই নেক্সট্যান্টইসিএ’র তথ্য অনুযায়ী, বর্তমান উৎপাদন বজায় থাকলে ইরান প্রায় দুই মাস পর্যন্ত পরিস্থিতি সামাল দিতে পারবে। তবে দৈনিক উৎপাদন কিছুটা কমালে এই সময় তিন মাস পর্যন্ত বাড়তে পারে।
অন্যদিকে, এনার্জি অ্যাসপেক্টস বলছে, বাস্তবে ব্যবহারযোগ্য সংরক্ষণ ক্ষমতা অনেক কম হওয়ায় মাত্র দুই সপ্তাহের মধ্যেই চাপ তৈরি হতে পারে, যদি রপ্তানি স্বাভাবিক না থাকে।
বিশ্লেষকদের মতে, পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হলে ইরানকে উৎপাদন কমাতে হবে। একই সঙ্গে কিছু তেলবাহী জাহাজকে ভাসমান সংরক্ষণাগার হিসেবে ব্যবহার করার সম্ভাবনাও রয়েছে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, অবরোধের অংশ হিসেবে বেশ কয়েকটি ট্যাংকার আটকে দেওয়া হয়েছে, যা বৈশ্বিক তেল সরবরাহ পরিস্থিতিকে আরও অনিশ্চিত করে তুলছে।
বিশ্লেষকরা সতর্ক করে বলেছেন, চলমান সংকট দীর্ঘায়িত হলে বিশ্ববাজারে তেলের দাম আরও বাড়তে পারে।
আন্তর্জাতিক ডেস্ক 
























