বাগেরহাটের মোল্লাহাট উপজেলায় ধর্মীয় পরিচয় নিয়ে দ্বন্দ্বের জেরে এক ব্যক্তির মরদেহ সৎকার নিয়ে চরম বিভ্রান্তি দেখা দিয়েছে।
মৃত ব্যক্তির নাম সুব্রত পোদ্দার ওরফে সোহাগ। তিনি গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার তেঘড়িয়া গ্রামের বাসিন্দা এবং পিতা সুকলাল পোদ্দার। জানা যায়, গত বুধবার (১৫ এপ্রিল) রাত আনুমানিক ৯টার দিকে দত্তডাঙ্গা এলাকার রাইরসরাজ সেবা আশ্রমে অবস্থানকালে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন তিনি। পরে তাকে মোল্লাহাট উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
স্থানীয়দের তথ্যমতে, প্রায় ২১ বছর আগে সুব্রত আদালতের এফিডেভিটের মাধ্যমে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন এবং মুসলিম রীতি অনুযায়ী জীবনযাপন শুরু করেন। তিনি দুই দফা মুসলিম নারীকে বিয়ে করেন। দ্বিতীয় সংসারে তার একটি ১২ বছর বয়সী ছেলে রয়েছে।
তবে এ ঘটনায় নতুন করে জটিলতা তৈরি হয় তার মৃত্যুর পর। নিহতের মা দাবি করেন, তার ছেলে ধর্মান্তরিত হয়েছেন—এ তথ্য তিনি জানতেন না। অপরদিকে, নিহতের স্ত্রী দাবি করেন, তার স্বামীকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে ইসলামী নিয়মে দাফন করতে হবে।
এদিকে, স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজন মরদেহটি শ্মশানে নিয়ে গিয়ে দাহ করার প্রস্তুতি নেন। কিন্তু নিহতের স্ত্রী সেখানে উপস্থিত হয়ে দাফনের দাবি জানালে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং দাহ কার্যক্রম বন্ধ থাকে।
মোল্লাহাট থানার ওসি মো. রমজানুল হক জানান, আইনি প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে সুরতহাল শেষে মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য বাগেরহাট সদর হাসপাতালে পাঠানো হবে।
এ ঘটনায় এখনো পর্যন্ত থানায় কোনো মামলা দায়ের হয়নি। তবে ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার জন্ম দিয়েছে।
প্রিন্স মন্ডল অলিফ, বাগেরহাট প্রতিনিধি 





















