বাংলাদেশ ১০:৪৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০২ এপ্রিল ২০২৬
শিরোনামঃ
Logo বাংলাদেশ জয় দিয়ে এশিয়ান গেমস হকি বাছাইপর্ব শুরু Logo সিমরিন লুবাবার নতুন অধ্যায়: ‘উই হ্যাভ অ্যা প্ল্যান’, বাগদান সম্পন্ন Logo ‘প্রিন্স’ প্রিমিয়ারে শাকিবের আচরণে বিতর্ক, মুখ খুললেন জ্যোতির্ময়ী Logo ডোনাল্ড ট্রাম্পের হুঁশিয়ারির পর বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম হু হু করে নেমেছে Logo মৃত শাবককে পাহারা দিল হাতি দম্পতি Logo এপ্রিল থেকে অটোগ্যাসের দাম ১৭.৯৪ টাকা বেড়েছে, ১২ কেজি এলপিজিও দার বাড়ল Logo ইসলামী অর্থনীতির শীর্ষ ১০ বিদ্যাপীঠ Logo ফিরে আসো রবের আহ্বানে: তওবা, দোয়া ও আশার বার্তা Logo লক্ষ্মীপুরে ইটভাটায় বিদ্যুৎস্পৃষ্টে দুই শ্রমিকের মৃত্যু Logo নবনিযুক্ত উপাচার্যের সঙ্গে জকসু প্রতিনিধিদের সৌজন্য সাক্ষাৎ

আজ জেনারেল ওসমানীর মৃত্যুবার্ষিকী

  • কাল প্রকাশ ডেস্ক
  • প্রকাশিত: ১১:০৪:৫২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ৬৮ বার দেখা হয়েছে

মহান মুক্তিযুদ্ধে মুক্তিবাহিনীর সর্বাধিনায়ক মুহম্মদ আতাউল গণি ওসমানী–এর ৪২তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ। ১৯৮৪ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি ৬৫ বছর বয়সে তিনি ইন্তেকাল করেন। সিলেটে হযরত শাহজালাল রহ.–এর মাজারসংলগ্ন কবরস্থানে তাকে সমাহিত করা হয়। দিনটি উপলক্ষে তার জন্মস্থান সিলেট ও রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে নানা কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে। এর অংশ হিসেবে সকাল ১১টায় ঢাকায় রাওয়ার হেলমেট হলে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হবে।

১৯১৮ সালের ১ সেপ্টেম্বর জন্ম নেওয়া ওসমানী ১৯৩৯ সালে ভূগোলে এমএ প্রথম পর্বে পড়ার সময় ব্রিটিশ ভারতীয় সেনাবাহিনীতে যোগ দেন। ১৯৪০ সালের ৫ অক্টোবর দেরাদুন সামরিক একাডেমি থেকে সাফল্যের সঙ্গে উত্তীর্ণ হয়ে তিনি কমিশন লাভ করেন। ১৯৪১ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি ক্যাপ্টেন পদে পদোন্নতি পান এবং ১৯৪২ সালের ফেব্রুয়ারিতে ব্রিটিশ সেনাবাহিনীর সর্বকনিষ্ঠ মেজর হিসেবে ইতিহাস গড়েন। মাত্র ২৩ বছর বয়সে একটি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক হয়ে তিনি নজিরবিহীন রেকর্ড সৃষ্টি করেন।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় ১৯৪৩ থেকে ১৯৪৫ সাল পর্যন্ত মিয়ানমার রণাঙ্গনে স্বতন্ত্র যান্ত্রিক পরিবহন ইউনিটের প্রধান হিসেবে তিনি দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৪৫ সালে আইসিএস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার পরও সামরিক জীবনেই সক্রিয় থাকেন। ভারতবর্ষ বিভক্তির পর ১৯৪৭ সালের ৭ অক্টোবর তিনি পাকিস্তান সেনাবাহিনীতে লেফটেন্যান্ট কর্নেল হিসেবে যোগ দেন এবং ১৯৪৮ সালে কোয়েটা স্টাফ কলেজ থেকে পিএসসি ডিগ্রি অর্জন করেন।

১৯৫৫ সালে তাকে পাকিস্তান সেনাসদরের অপারেশন পরিদপ্তরে জেনারেল স্টাফ অফিসার হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। পরের বছর কর্নেল পদে উন্নীত হয়ে ডেপুটি ডাইরেক্টরের দায়িত্ব নেন। এ সময় তিনি আন্তর্জাতিক জোট সিয়াটো ও সেন্টোতে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর প্রতিনিধি হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৬৫ সালের পাক–ভারত যুদ্ধে তিনি ডেপুটি ডাইরেক্টর অব মিলিটারি অপারেশনের দায়িত্বে থেকে দক্ষতার পরিচয় দেন। স্বাধীনচেতা বাঙালি সেনা কর্মকর্তা হিসেবে পরিচিত ওসমানী ১৯৬৭ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি কর্নেল পদে অবসর নেন।

পরবর্তী সময়ে ১৯৭০ সালে আওয়ামী লীগে যোগ দিয়ে তিনি ফেঞ্চুগঞ্জ–বালাগঞ্জ–বিশ্বনাথ আসন থেকে পাকিস্তান জাতীয় পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হন। মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে মুক্তিবাহিনীর সর্বাধিনায়ক হিসেবে তিনি অসামান্য নেতৃত্ব দেন এবং স্বাধীনতা সংগ্রামে অতুলনীয় ভূমিকা রাখেন। বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর নতুন সরকারের মন্ত্রিসভায় গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন এই বীর সেনানায়ক।

জনপ্রিয় সংবাদ

বাংলাদেশ জয় দিয়ে এশিয়ান গেমস হকি বাছাইপর্ব শুরু

আজ জেনারেল ওসমানীর মৃত্যুবার্ষিকী

প্রকাশিত: ১১:০৪:৫২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

মহান মুক্তিযুদ্ধে মুক্তিবাহিনীর সর্বাধিনায়ক মুহম্মদ আতাউল গণি ওসমানী–এর ৪২তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ। ১৯৮৪ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি ৬৫ বছর বয়সে তিনি ইন্তেকাল করেন। সিলেটে হযরত শাহজালাল রহ.–এর মাজারসংলগ্ন কবরস্থানে তাকে সমাহিত করা হয়। দিনটি উপলক্ষে তার জন্মস্থান সিলেট ও রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে নানা কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে। এর অংশ হিসেবে সকাল ১১টায় ঢাকায় রাওয়ার হেলমেট হলে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হবে।

১৯১৮ সালের ১ সেপ্টেম্বর জন্ম নেওয়া ওসমানী ১৯৩৯ সালে ভূগোলে এমএ প্রথম পর্বে পড়ার সময় ব্রিটিশ ভারতীয় সেনাবাহিনীতে যোগ দেন। ১৯৪০ সালের ৫ অক্টোবর দেরাদুন সামরিক একাডেমি থেকে সাফল্যের সঙ্গে উত্তীর্ণ হয়ে তিনি কমিশন লাভ করেন। ১৯৪১ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি ক্যাপ্টেন পদে পদোন্নতি পান এবং ১৯৪২ সালের ফেব্রুয়ারিতে ব্রিটিশ সেনাবাহিনীর সর্বকনিষ্ঠ মেজর হিসেবে ইতিহাস গড়েন। মাত্র ২৩ বছর বয়সে একটি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক হয়ে তিনি নজিরবিহীন রেকর্ড সৃষ্টি করেন।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় ১৯৪৩ থেকে ১৯৪৫ সাল পর্যন্ত মিয়ানমার রণাঙ্গনে স্বতন্ত্র যান্ত্রিক পরিবহন ইউনিটের প্রধান হিসেবে তিনি দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৪৫ সালে আইসিএস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার পরও সামরিক জীবনেই সক্রিয় থাকেন। ভারতবর্ষ বিভক্তির পর ১৯৪৭ সালের ৭ অক্টোবর তিনি পাকিস্তান সেনাবাহিনীতে লেফটেন্যান্ট কর্নেল হিসেবে যোগ দেন এবং ১৯৪৮ সালে কোয়েটা স্টাফ কলেজ থেকে পিএসসি ডিগ্রি অর্জন করেন।

১৯৫৫ সালে তাকে পাকিস্তান সেনাসদরের অপারেশন পরিদপ্তরে জেনারেল স্টাফ অফিসার হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। পরের বছর কর্নেল পদে উন্নীত হয়ে ডেপুটি ডাইরেক্টরের দায়িত্ব নেন। এ সময় তিনি আন্তর্জাতিক জোট সিয়াটো ও সেন্টোতে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর প্রতিনিধি হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৬৫ সালের পাক–ভারত যুদ্ধে তিনি ডেপুটি ডাইরেক্টর অব মিলিটারি অপারেশনের দায়িত্বে থেকে দক্ষতার পরিচয় দেন। স্বাধীনচেতা বাঙালি সেনা কর্মকর্তা হিসেবে পরিচিত ওসমানী ১৯৬৭ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি কর্নেল পদে অবসর নেন।

পরবর্তী সময়ে ১৯৭০ সালে আওয়ামী লীগে যোগ দিয়ে তিনি ফেঞ্চুগঞ্জ–বালাগঞ্জ–বিশ্বনাথ আসন থেকে পাকিস্তান জাতীয় পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হন। মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে মুক্তিবাহিনীর সর্বাধিনায়ক হিসেবে তিনি অসামান্য নেতৃত্ব দেন এবং স্বাধীনতা সংগ্রামে অতুলনীয় ভূমিকা রাখেন। বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর নতুন সরকারের মন্ত্রিসভায় গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন এই বীর সেনানায়ক।