বাংলাদেশ ১২:২১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২৬
শিরোনামঃ
Logo কুবির ছাত্র পরামর্শক দপ্তরে নতুন পরিচালক ড. মোহাম্মদ জুলহাস উদ্দিন Logo এইচএসসি পরীক্ষা স্থগিতসহ দুই দাবিতে রাবিতে বিক্ষোভ Logo ৬ কেজি গাঁজাসহ দুই যুবক গ্রেপ্তার Logo দরজার সামনে মিলল নবজাতক ছেলে শিশু, স্বজনদের খোঁজে পুলিশ Logo ‘ফার্মের মুরগী’ বিতর্কে আত্মপ্রকাশ করল ‘ব্রয়লার চিকেন পার্টি’ Logo মঠবাড়িয়ার আবাসিক হোটেলে অভিযান, মাদকদ্রব্যসহ আটক ২ Logo যাত্রীসংকটে ১৬ জুলাই থেকে যশোর-ঢাকা রুটে ফ্লাইট বন্ধ করছে ইউএস-বাংলা Logo সুন্দরবনের বনদস্যু ছোট জাহাঙ্গীর বাহিনীর প্রধানসহ ২৭ জনের আত্মসমর্পণ Logo সাঁথিয়ায় সাংবাদিক আব্দুদ দাইন সরকারকে লাঞ্ছিত করার অভিযোগ Logo রুহিয়ায় চুরি হওয়া ষাঁড় গরু উদ্ধার, গ্রেপ্তার ১

আজ জেনারেল ওসমানীর মৃত্যুবার্ষিকী

মহান মুক্তিযুদ্ধে মুক্তিবাহিনীর সর্বাধিনায়ক মুহম্মদ আতাউল গণি ওসমানী–এর ৪২তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ। ১৯৮৪ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি ৬৫ বছর বয়সে তিনি ইন্তেকাল করেন। সিলেটে হযরত শাহজালাল রহ.–এর মাজারসংলগ্ন কবরস্থানে তাকে সমাহিত করা হয়। দিনটি উপলক্ষে তার জন্মস্থান সিলেট ও রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে নানা কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে। এর অংশ হিসেবে সকাল ১১টায় ঢাকায় রাওয়ার হেলমেট হলে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হবে।

১৯১৮ সালের ১ সেপ্টেম্বর জন্ম নেওয়া ওসমানী ১৯৩৯ সালে ভূগোলে এমএ প্রথম পর্বে পড়ার সময় ব্রিটিশ ভারতীয় সেনাবাহিনীতে যোগ দেন। ১৯৪০ সালের ৫ অক্টোবর দেরাদুন সামরিক একাডেমি থেকে সাফল্যের সঙ্গে উত্তীর্ণ হয়ে তিনি কমিশন লাভ করেন। ১৯৪১ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি ক্যাপ্টেন পদে পদোন্নতি পান এবং ১৯৪২ সালের ফেব্রুয়ারিতে ব্রিটিশ সেনাবাহিনীর সর্বকনিষ্ঠ মেজর হিসেবে ইতিহাস গড়েন। মাত্র ২৩ বছর বয়সে একটি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক হয়ে তিনি নজিরবিহীন রেকর্ড সৃষ্টি করেন।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় ১৯৪৩ থেকে ১৯৪৫ সাল পর্যন্ত মিয়ানমার রণাঙ্গনে স্বতন্ত্র যান্ত্রিক পরিবহন ইউনিটের প্রধান হিসেবে তিনি দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৪৫ সালে আইসিএস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার পরও সামরিক জীবনেই সক্রিয় থাকেন। ভারতবর্ষ বিভক্তির পর ১৯৪৭ সালের ৭ অক্টোবর তিনি পাকিস্তান সেনাবাহিনীতে লেফটেন্যান্ট কর্নেল হিসেবে যোগ দেন এবং ১৯৪৮ সালে কোয়েটা স্টাফ কলেজ থেকে পিএসসি ডিগ্রি অর্জন করেন।

১৯৫৫ সালে তাকে পাকিস্তান সেনাসদরের অপারেশন পরিদপ্তরে জেনারেল স্টাফ অফিসার হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। পরের বছর কর্নেল পদে উন্নীত হয়ে ডেপুটি ডাইরেক্টরের দায়িত্ব নেন। এ সময় তিনি আন্তর্জাতিক জোট সিয়াটো ও সেন্টোতে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর প্রতিনিধি হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৬৫ সালের পাক–ভারত যুদ্ধে তিনি ডেপুটি ডাইরেক্টর অব মিলিটারি অপারেশনের দায়িত্বে থেকে দক্ষতার পরিচয় দেন। স্বাধীনচেতা বাঙালি সেনা কর্মকর্তা হিসেবে পরিচিত ওসমানী ১৯৬৭ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি কর্নেল পদে অবসর নেন।

পরবর্তী সময়ে ১৯৭০ সালে আওয়ামী লীগে যোগ দিয়ে তিনি ফেঞ্চুগঞ্জ–বালাগঞ্জ–বিশ্বনাথ আসন থেকে পাকিস্তান জাতীয় পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হন। মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে মুক্তিবাহিনীর সর্বাধিনায়ক হিসেবে তিনি অসামান্য নেতৃত্ব দেন এবং স্বাধীনতা সংগ্রামে অতুলনীয় ভূমিকা রাখেন। বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর নতুন সরকারের মন্ত্রিসভায় গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন এই বীর সেনানায়ক।

জনপ্রিয় সংবাদ

কুবির ছাত্র পরামর্শক দপ্তরে নতুন পরিচালক ড. মোহাম্মদ জুলহাস উদ্দিন

আজ জেনারেল ওসমানীর মৃত্যুবার্ষিকী

প্রকাশিত: ১১:০৪:৫২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

মহান মুক্তিযুদ্ধে মুক্তিবাহিনীর সর্বাধিনায়ক মুহম্মদ আতাউল গণি ওসমানী–এর ৪২তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ। ১৯৮৪ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি ৬৫ বছর বয়সে তিনি ইন্তেকাল করেন। সিলেটে হযরত শাহজালাল রহ.–এর মাজারসংলগ্ন কবরস্থানে তাকে সমাহিত করা হয়। দিনটি উপলক্ষে তার জন্মস্থান সিলেট ও রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে নানা কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে। এর অংশ হিসেবে সকাল ১১টায় ঢাকায় রাওয়ার হেলমেট হলে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হবে।

১৯১৮ সালের ১ সেপ্টেম্বর জন্ম নেওয়া ওসমানী ১৯৩৯ সালে ভূগোলে এমএ প্রথম পর্বে পড়ার সময় ব্রিটিশ ভারতীয় সেনাবাহিনীতে যোগ দেন। ১৯৪০ সালের ৫ অক্টোবর দেরাদুন সামরিক একাডেমি থেকে সাফল্যের সঙ্গে উত্তীর্ণ হয়ে তিনি কমিশন লাভ করেন। ১৯৪১ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি ক্যাপ্টেন পদে পদোন্নতি পান এবং ১৯৪২ সালের ফেব্রুয়ারিতে ব্রিটিশ সেনাবাহিনীর সর্বকনিষ্ঠ মেজর হিসেবে ইতিহাস গড়েন। মাত্র ২৩ বছর বয়সে একটি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক হয়ে তিনি নজিরবিহীন রেকর্ড সৃষ্টি করেন।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় ১৯৪৩ থেকে ১৯৪৫ সাল পর্যন্ত মিয়ানমার রণাঙ্গনে স্বতন্ত্র যান্ত্রিক পরিবহন ইউনিটের প্রধান হিসেবে তিনি দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৪৫ সালে আইসিএস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার পরও সামরিক জীবনেই সক্রিয় থাকেন। ভারতবর্ষ বিভক্তির পর ১৯৪৭ সালের ৭ অক্টোবর তিনি পাকিস্তান সেনাবাহিনীতে লেফটেন্যান্ট কর্নেল হিসেবে যোগ দেন এবং ১৯৪৮ সালে কোয়েটা স্টাফ কলেজ থেকে পিএসসি ডিগ্রি অর্জন করেন।

১৯৫৫ সালে তাকে পাকিস্তান সেনাসদরের অপারেশন পরিদপ্তরে জেনারেল স্টাফ অফিসার হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। পরের বছর কর্নেল পদে উন্নীত হয়ে ডেপুটি ডাইরেক্টরের দায়িত্ব নেন। এ সময় তিনি আন্তর্জাতিক জোট সিয়াটো ও সেন্টোতে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর প্রতিনিধি হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৬৫ সালের পাক–ভারত যুদ্ধে তিনি ডেপুটি ডাইরেক্টর অব মিলিটারি অপারেশনের দায়িত্বে থেকে দক্ষতার পরিচয় দেন। স্বাধীনচেতা বাঙালি সেনা কর্মকর্তা হিসেবে পরিচিত ওসমানী ১৯৬৭ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি কর্নেল পদে অবসর নেন।

পরবর্তী সময়ে ১৯৭০ সালে আওয়ামী লীগে যোগ দিয়ে তিনি ফেঞ্চুগঞ্জ–বালাগঞ্জ–বিশ্বনাথ আসন থেকে পাকিস্তান জাতীয় পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হন। মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে মুক্তিবাহিনীর সর্বাধিনায়ক হিসেবে তিনি অসামান্য নেতৃত্ব দেন এবং স্বাধীনতা সংগ্রামে অতুলনীয় ভূমিকা রাখেন। বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর নতুন সরকারের মন্ত্রিসভায় গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন এই বীর সেনানায়ক।