বাংলাদেশ ১০:১১ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৫ মে ২০২৬
শিরোনামঃ
Logo উচ্ছ্বাস থেকে নস্টালজিয়া, বদলে যাওয়া ঈদের গল্প Logo নীলফামারীর পশুর হাটে অতিরিক্ত হাসিল আদায়, ইজারাদারকে জরিমানা Logo নালিতাবাড়ীতে ধর্ষণের প্রতিবাদে জামায়াতের মানববন্ধন, শরিয়াহভিত্তিক বিচারের দাবি Logo রাঙ্গামাটি কোতয়ালী থানার বার্ষিক পরিদর্শনে পুলিশ সুপার Logo লালপুরে ভ্যান ছিনতাইয়ের চেষ্টা, গণধোলাই শেষে পুলিশের কাছে সোপর্দ Logo নবীনগর পৌরসভা নির্বাচনে মেয়র পদে লড়বেন বিএনপি নেতা মাসুদ রানা Logo বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের নতুন সচিব আতাউর রহমান খান Logo জুনের শুরুতেই মোংলায় চালু হচ্ছে ২৪ ঘণ্টার ফেরি সার্ভিস Logo বাগেরহাটের কোরবানির হাটে আকর্ষণের কেন্দ্র ‘ধলু মিয়া’ Logo জলবায়ু সহনশীল কৃষিতে নারীদের স্বাবলম্বী করতে মোংলায় প্রশিক্ষণ কর্মশালা

বান্দরবানে ঐতিহ্যবাহী সাংগ্রাই উদযাপন, সব শঙ্কা কাটিয়ে চলছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি

আর ক’দিন পরেই শুরু হচ্ছে পাহাড়ি সম্প্রদায়ের বর্ষবরণ উৎসব বৈসাবি। চাকমা ও তঞ্চঙ্গ্যা সম্প্রদায়ের বিজু ও বিসু, মারমাদের সাংগ্রাই, ত্রিপুরাদের বৈসু আর ম্রোদের চাংক্রানকে ঘিরে উৎসবমুখর বান্দরবান পার্বত্য জেলা।

প্রধান এই সামাজিক উৎসবকে কেন্দ্র করে পাহাড়ি এলাকাগুলোতে বইছে উৎসবের হাওয়া। প্রতিটি পল্লিতে চলছে জোর প্রস্তুতি। গ্রামগুলোতে এখন ব্যস্ততা চোখে পড়ার মতো—ঘরে ঘরে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, নতুন পোশাক তৈরি এবং ঐতিহ্যবাহী খাবার প্রস্তুতের তোড়জোড় চলছে। তরুণ-তরুণীরা নাচ-গানের মহড়ায় ব্যস্ত, আর বয়োজ্যেষ্ঠরা আচার-অনুষ্ঠান সুষ্ঠুভাবে সম্পন্নের প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

সাংগ্রাই উৎসবের সবচেয়ে আকর্ষণীয় অংশ হলো পানি খেলা বা জলকেলি। এই আয়োজনে একে অপরকে পানি ছিটিয়ে শুভেচ্ছা জানানো হয়। এতে পুরোনো বছরের দুঃখ-কষ্ট ধুয়ে যায় এবং নতুন বছর আসে নির্মল আনন্দের বার্তা নিয়ে—এমনটাই বিশ্বাস স্থানীয়দের।

মারমা সম্প্রদায়ের মতে, সাংগ্রাই এখন আর শুধু তাদের নিজস্ব উৎসব নয়; এটি পার্বত্য অঞ্চলের সার্বজনীন উৎসবে পরিণত হয়েছে। বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর মানুষের অংশগ্রহণে এটি সম্প্রীতি ও সহাবস্থানের এক অনন্য উদাহরণ হয়ে উঠেছে। পাহাড়ের নীরব প্রকৃতির মাঝে সাংগ্রাই যেন এক রঙিন জাগরণ—পুরোনোকে বিদায় আর নতুনকে স্বাগত জানানোর এক আনন্দঘন উপলক্ষ।

স্থানীয় বাজারগুলোতেও উৎসবের ছোঁয়া লেগেছে। জমে উঠেছে কেনাবেচা—হাতে তৈরি অলংকার, ঐতিহ্যবাহী থামি পোশাক এবং বিভিন্ন হস্তশিল্পের চাহিদা বেড়েছে। বৌদ্ধবিহারগুলোতে চলছে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা।

এদিকে জেলা শহরে শুভযাপন নিয়ে দুই কমিটির মধ্যে দ্বন্দ্ব থাকায় অনেকটা অনিশ্চিত হয়ে পড়েছিল শহরের উৎসব। তবে শুক্রবার (১০ এপ্রিল) এ বিষয়ে বিশেষ সিদ্ধান্ত হওয়ায় শঙ্কা এখন অনেকটাই কেটেছে। পুরোনো কমিটি শহরের উজানীপাড়া সাঙ্গু নদীর চরে এবং নতুন কমিটি শহরের রাজার মাঠে আলাদাভাবে জলকেলি উৎসবের আয়োজন করেছে।

উৎসব উদযাপন পরিষদের সভাপতি উ চথুইপ্রু বলেন, ১৩ থেকে ১৬ এপ্রিল পর্যন্ত সাংগ্রাই উৎসব পালন করা হবে। এ উপলক্ষে ১৩ তারিখ সকাল ১০টায় মঙ্গল শোভাযাত্রার মাধ্যমে এর সূচনা হবে। পরে ১৪ তারিখ বুদ্ধমূর্তি স্নানের মাধ্যমে ধর্মীয় কার্যক্রম শেষে ১৫ ও ১৬ এপ্রিল আলোকচিত্র প্রদর্শনী, মৈত্রী পানি বর্ষণ এবং খেলাধুলার মাধ্যমে উৎসবের সমাপ্তি করা হবে। পুলিশ প্রশাসন ও সাংবাদিকসহ সবার সহযোগিতায় এ উৎসব উদযাপন করা হবে।

জেলা পুলিশ সুপার আব্দুর রহমান জানিয়েছেন, উৎসবকে কেন্দ্র করে বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। সাদা পোশাকের পুলিশ, বডি-ওর্ন ক্যামেরা এবং ড্রোন নজরদারির মাধ্যমে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, সবার অংশগ্রহণে শান্তিপূর্ণ ও নির্বিঘ্ন পরিবেশে এবারের সাংগ্রাই উৎসব সম্পন্ন হবে।

ট্যাগ সমূহ:
জনপ্রিয় সংবাদ

উচ্ছ্বাস থেকে নস্টালজিয়া, বদলে যাওয়া ঈদের গল্প

বান্দরবানে ঐতিহ্যবাহী সাংগ্রাই উদযাপন, সব শঙ্কা কাটিয়ে চলছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি

প্রকাশিত: ০৪:৩৯:২০ অপরাহ্ন, শনিবার, ১১ এপ্রিল ২০২৬

আর ক’দিন পরেই শুরু হচ্ছে পাহাড়ি সম্প্রদায়ের বর্ষবরণ উৎসব বৈসাবি। চাকমা ও তঞ্চঙ্গ্যা সম্প্রদায়ের বিজু ও বিসু, মারমাদের সাংগ্রাই, ত্রিপুরাদের বৈসু আর ম্রোদের চাংক্রানকে ঘিরে উৎসবমুখর বান্দরবান পার্বত্য জেলা।

প্রধান এই সামাজিক উৎসবকে কেন্দ্র করে পাহাড়ি এলাকাগুলোতে বইছে উৎসবের হাওয়া। প্রতিটি পল্লিতে চলছে জোর প্রস্তুতি। গ্রামগুলোতে এখন ব্যস্ততা চোখে পড়ার মতো—ঘরে ঘরে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, নতুন পোশাক তৈরি এবং ঐতিহ্যবাহী খাবার প্রস্তুতের তোড়জোড় চলছে। তরুণ-তরুণীরা নাচ-গানের মহড়ায় ব্যস্ত, আর বয়োজ্যেষ্ঠরা আচার-অনুষ্ঠান সুষ্ঠুভাবে সম্পন্নের প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

সাংগ্রাই উৎসবের সবচেয়ে আকর্ষণীয় অংশ হলো পানি খেলা বা জলকেলি। এই আয়োজনে একে অপরকে পানি ছিটিয়ে শুভেচ্ছা জানানো হয়। এতে পুরোনো বছরের দুঃখ-কষ্ট ধুয়ে যায় এবং নতুন বছর আসে নির্মল আনন্দের বার্তা নিয়ে—এমনটাই বিশ্বাস স্থানীয়দের।

মারমা সম্প্রদায়ের মতে, সাংগ্রাই এখন আর শুধু তাদের নিজস্ব উৎসব নয়; এটি পার্বত্য অঞ্চলের সার্বজনীন উৎসবে পরিণত হয়েছে। বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর মানুষের অংশগ্রহণে এটি সম্প্রীতি ও সহাবস্থানের এক অনন্য উদাহরণ হয়ে উঠেছে। পাহাড়ের নীরব প্রকৃতির মাঝে সাংগ্রাই যেন এক রঙিন জাগরণ—পুরোনোকে বিদায় আর নতুনকে স্বাগত জানানোর এক আনন্দঘন উপলক্ষ।

স্থানীয় বাজারগুলোতেও উৎসবের ছোঁয়া লেগেছে। জমে উঠেছে কেনাবেচা—হাতে তৈরি অলংকার, ঐতিহ্যবাহী থামি পোশাক এবং বিভিন্ন হস্তশিল্পের চাহিদা বেড়েছে। বৌদ্ধবিহারগুলোতে চলছে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা।

এদিকে জেলা শহরে শুভযাপন নিয়ে দুই কমিটির মধ্যে দ্বন্দ্ব থাকায় অনেকটা অনিশ্চিত হয়ে পড়েছিল শহরের উৎসব। তবে শুক্রবার (১০ এপ্রিল) এ বিষয়ে বিশেষ সিদ্ধান্ত হওয়ায় শঙ্কা এখন অনেকটাই কেটেছে। পুরোনো কমিটি শহরের উজানীপাড়া সাঙ্গু নদীর চরে এবং নতুন কমিটি শহরের রাজার মাঠে আলাদাভাবে জলকেলি উৎসবের আয়োজন করেছে।

উৎসব উদযাপন পরিষদের সভাপতি উ চথুইপ্রু বলেন, ১৩ থেকে ১৬ এপ্রিল পর্যন্ত সাংগ্রাই উৎসব পালন করা হবে। এ উপলক্ষে ১৩ তারিখ সকাল ১০টায় মঙ্গল শোভাযাত্রার মাধ্যমে এর সূচনা হবে। পরে ১৪ তারিখ বুদ্ধমূর্তি স্নানের মাধ্যমে ধর্মীয় কার্যক্রম শেষে ১৫ ও ১৬ এপ্রিল আলোকচিত্র প্রদর্শনী, মৈত্রী পানি বর্ষণ এবং খেলাধুলার মাধ্যমে উৎসবের সমাপ্তি করা হবে। পুলিশ প্রশাসন ও সাংবাদিকসহ সবার সহযোগিতায় এ উৎসব উদযাপন করা হবে।

জেলা পুলিশ সুপার আব্দুর রহমান জানিয়েছেন, উৎসবকে কেন্দ্র করে বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। সাদা পোশাকের পুলিশ, বডি-ওর্ন ক্যামেরা এবং ড্রোন নজরদারির মাধ্যমে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, সবার অংশগ্রহণে শান্তিপূর্ণ ও নির্বিঘ্ন পরিবেশে এবারের সাংগ্রাই উৎসব সম্পন্ন হবে।