কুমিল্লার দেবিদ্বারে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি, হামলা, ভাঙচুর ও মারধরের অভিযোগে জাতীয় যুবশক্তির দেবিদ্বার উপজেলা শাখার সদস্য সচিব আলী আরশাদ বাবু ওরফে বাবু মিয়াকে প্রধান আসামি করে আদালতে মামলা দায়ের করা হয়েছে। গত ১২ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে কুমিল্লার বিজ্ঞ সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ৪ নম্বর আমলি আদালতে ভুক্তভোগী নারী শাহিনা আক্তার বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন। মামলাটির নম্বর সি.আর. ৭৯৪/২০২৬।
মামলার অন্য আসামিরা হলেন তারেক মিয়া (৪০), আকলিমা বেগম (৪৫), লিমন মিয়া (৪৫), হাসিনা বেগম (৪০) ও হাসি বেগম (৫৫)। এ ছাড়া অজ্ঞাতনামা আরও দুই থেকে তিনজনকে আসামি করা হয়েছে। তাঁরা সবাই দেবিদ্বার উপজেলার ছোট আলমপুর গ্রামের বাসিন্দা।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ৯ অক্টোবর শুক্রবার বিকেলে শাহিনা আক্তার নিজ বাড়ি থেকে বাজারে যাওয়ার পথে প্রধান আসামি আলী আরশাদ বাবু ও অন্য আসামিরা তাঁর পথরোধ করেন। এ সময় পূর্বের একটি মামলার বিষয় নিয়ে ক্ষিপ্ত হয়ে আসামিরা তাঁর কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। পরবর্তী সময়ে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা সালিশ-বৈঠকের উদ্যোগ নিলেও আসামিরা তা অমান্য করেন বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
এরই ধারাবাহিকতায় গত ১০ অক্টোবর শনিবার বেলা ১১টার দিকে আসামিরা দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে বাদীর বসতবাড়ির উঠান ও ঘরের ভেতরে প্রবেশ করে পুনরায় চাঁদা দাবি করেন। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাঁরা অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন এবং একপর্যায়ে প্রাণনাশের উদ্দেশ্যে হামলা চালান বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
এ ঘটনায় বাদী শাহিনা আক্তার ও ১১ বছর বয়সী শিশু সাদিয়া আক্তারসহ বেশ কয়েকজন গুরুতর আহত হন। যাওয়ার সময় আসামিরা ভবিষ্যতে প্রাণনাশের হুমকিও দেন বলে মামলার এজাহারে উল্লেখ রয়েছে। ঘটনার পর আহতরা স্থানীয়ভাবে প্রাথমিক চিকিৎসা নেন। পরে কুমিল্লা সদর হাসপাতালে গিয়ে চিকিৎসা গ্রহণ করেন।
এদিকে মামলার বাদী শাহিনা আক্তার সাংবাদিকদের কাছে অভিযোগ করে দাবি করেন, স্থানীয় সংসদ সদস্য হাসনাত আব্দুল্লাহর নির্দেশে প্রধান আসামি বাবু এ ধরনের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত হয়েছেন। এ ছাড়া মামলার অন্যতম আসামি আকলিমা বেগম নিজেকে সংসদ সদস্য হাসনাত আব্দুল্লাহর ফুফু পরিচয় দিয়ে নানা ধরনের প্রভাব বিস্তার করে আসছেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
অন্যদিকে, এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন প্রধান অভিযুক্ত ও জাতীয় যুবশক্তির দেবিদ্বার উপজেলা শাখার সদস্য সচিব আলী আরশাদ বাবু। তিনি বলেন, তাঁর ও অন্যদের বিরুদ্ধে শাহিনা আক্তারের দায়ের করা মামলাটি সম্পূর্ণ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।
বাবু বলেন, বসতবাড়ির জায়গা সংক্রান্ত বিরোধ মীমাংসার জন্য স্থানীয় সংসদ সদস্যের নির্দেশে তাঁরা ঘটনাস্থলে যান। বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য দেবিদ্বার থানা-পুলিশ ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের হস্তক্ষেপে দফায় দফায় বৈঠকও হয়। সর্বশেষ উভয় পক্ষের সম্মতিতে স্থানীয়দের অংশগ্রহণে বিরোধ মীমাংসা করা হলেও শাহিনা আক্তার তাতে রাজি হননি। একপর্যায়ে তাঁর সঙ্গে তর্ক-বিতর্কের সৃষ্টি হয়। সেই ঘটনার জের ধরেই তাঁদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা করা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
মামলার বিষয়ে দেবিদ্বার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুজ্জামান বাবুল জানান, বসতবাড়ি নিয়ে বিরোধের বিষয়ে তিনি অবগত থাকলেও আদালতে দায়ের করা মামলাটি সম্পর্কে বর্তমানে পুরোপুরি অবগত নন।
এদিকে আদালত সূত্রে জানা গেছে, মামলাটি বর্তমানে বাংলাদেশ পুলিশের একটি বিশেষ জোনের কুমিল্লা শাখায় তদন্তাধীন রয়েছে।
জাতীয় যুবশক্তির নেতার বিরুদ্ধে চাঁদা দাবি, হামলা ও রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ এবং অভিযুক্তের পাল্টা বক্তব্যকে কেন্দ্র করে স্থানীয় মহলে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
kalprakash.com/IM