বাংলাদেশ ১০:১১ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৫ মে ২০২৬
শিরোনামঃ
Logo উচ্ছ্বাস থেকে নস্টালজিয়া, বদলে যাওয়া ঈদের গল্প Logo নীলফামারীর পশুর হাটে অতিরিক্ত হাসিল আদায়, ইজারাদারকে জরিমানা Logo নালিতাবাড়ীতে ধর্ষণের প্রতিবাদে জামায়াতের মানববন্ধন, শরিয়াহভিত্তিক বিচারের দাবি Logo রাঙ্গামাটি কোতয়ালী থানার বার্ষিক পরিদর্শনে পুলিশ সুপার Logo লালপুরে ভ্যান ছিনতাইয়ের চেষ্টা, গণধোলাই শেষে পুলিশের কাছে সোপর্দ Logo নবীনগর পৌরসভা নির্বাচনে মেয়র পদে লড়বেন বিএনপি নেতা মাসুদ রানা Logo বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের নতুন সচিব আতাউর রহমান খান Logo জুনের শুরুতেই মোংলায় চালু হচ্ছে ২৪ ঘণ্টার ফেরি সার্ভিস Logo বাগেরহাটের কোরবানির হাটে আকর্ষণের কেন্দ্র ‘ধলু মিয়া’ Logo জলবায়ু সহনশীল কৃষিতে নারীদের স্বাবলম্বী করতে মোংলায় প্রশিক্ষণ কর্মশালা

সাবেক আইজিপি বাহারুল আলম: পুলিশ সংস্কার না হলে জন–আস্থা ফিরবে না

ছবিঃসংগৃহীত

প্রায় দুই দশক ধরে পুলিশ সংস্কারের দাবি উচ্চারণ করা হলেও তা কার্যকর রূপ পায়নি। ২০০৭ সাল থেকে বিভিন্ন সময়ে উদ্যোগ নেওয়া হলেও বাস্তবায়নের পর্যায়ে পৌঁছায়নি। অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে একটি সম্ভাবনা তৈরি হয়েছিল, কিন্তু নানা পক্ষের স্বার্থ রক্ষা করতে গিয়ে সেটিও কাজে লাগানো যায়নি।

সাবেক আইজিপি বাহারুল আলম বলেন, পুলিশ সংস্কারের মূল প্রশ্ন হলো পেশাগত স্বাধীনতা নিশ্চিত করা। মামলা তদন্ত ও পরিচালনায় রাজনৈতিক বা প্রশাসনিক নির্দেশনার প্রভাব থাকলে পুলিশের প্রতি জন–আস্থা তৈরি হবে না। পুলিশের বিশ্বাসযোগ্যতা নির্ভর করে তাদের নিরপেক্ষতার ওপর, যা কার্যকর ‘ফাংশনাল ইনডিপেনডেন্স’-এর মাধ্যমে অর্জিত হয়।

ঊর্ধ্বতন পদে নিয়োগ, পদায়ন ও পদোন্নতির ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অতীতে এই প্রক্রিয়ায় বিভিন্ন পক্ষের প্রভাব লক্ষ্য করা গেছে। অন্তর্বর্তী সরকারের সময় পরিদর্শক থেকে পুলিশ সুপার পর্যন্ত নিয়োগ ও বদলির নীতিমালা প্রণীত হয়েছিল, কিন্তু তা যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়নি। বাহিরি গোষ্ঠীস্বার্থ কমাতে ফিট লিস্ট প্রণয়ন করে একটি স্বাধীন কমিশনের মাধ্যমে নিয়োগ কার্যকর করা যেতে পারত।

পুলিশের জবাবদিহি নিশ্চিত করতে পুলিশ কমিশনের অধীনে সাধারণ মানুষের অভিযোগ জানানোর ব্যবস্থা রাখা হয়েছিল। একইভাবে পুলিশের মধ্যে নিজেদের অধিকার সুরক্ষিত রাখতে সদস্যদেরও অভিযোগ জানানোর সুযোগ থাকা জরুরি।

আইজিপি নিয়োগে স্বচ্ছতা আনার জন্য বাহারুল আলম প্রস্তাব করেছেন একটি বহুমাত্রিক পুলিশ কমিশন গঠন করা হোক, যেখানে বিচার বিভাগ, সরকার, বিরোধী দল, নাগরিক সমাজ ও সমাজতত্ত্ববিদদের প্রতিনিধিত্ব থাকবে। এতে পক্ষপাত ও প্রভাব কমানো সম্ভব হবে।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, পুলিশের নিজস্ব ভেতর থেকে দীর্ঘদিন ধরেই পেশাগত স্বাধীনতার দাবি উঠে এসেছে। জুলাই গণ–অভ্যুত্থানের পর রাজারবাগের কনস্টেবলরা বলেছিলেন, তারা আর রাজনৈতিক স্বার্থ আদায়ের ঘুঁটি হিসেবে ব্যবহার হতে চায় না। অর্থাৎ সংস্কারের দাবি পুলিশের ভেতর থেকেই এসেছে।

বাহারুল আলম বলেন, পুলিশ কমিশন গঠনের পাশাপাশি তাকে কার্যকর ক্ষমতা দিতে হবে। শুধুমাত্র প্রতীকী কাঠামো হলে পুলিশ প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত হবে না। পুলিশ সংস্কার এখনো অসম্পূর্ণ এজেন্ডা, যা বাস্তবায়নের জন্য সুস্পষ্ট নীতিমালা, প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো ও রাজনৈতিক সদিচ্ছা প্রয়োজন। তা না হলে আলোচনা আগের মতোই অনিশ্চয়তার চক্রে আটকে থাকবে।

kalprakash.com/SS

ট্যাগ সমূহ:
জনপ্রিয় সংবাদ

উচ্ছ্বাস থেকে নস্টালজিয়া, বদলে যাওয়া ঈদের গল্প

সাবেক আইজিপি বাহারুল আলম: পুলিশ সংস্কার না হলে জন–আস্থা ফিরবে না

প্রকাশিত: ১২:৫১:৫৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৭ এপ্রিল ২০২৬

প্রায় দুই দশক ধরে পুলিশ সংস্কারের দাবি উচ্চারণ করা হলেও তা কার্যকর রূপ পায়নি। ২০০৭ সাল থেকে বিভিন্ন সময়ে উদ্যোগ নেওয়া হলেও বাস্তবায়নের পর্যায়ে পৌঁছায়নি। অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে একটি সম্ভাবনা তৈরি হয়েছিল, কিন্তু নানা পক্ষের স্বার্থ রক্ষা করতে গিয়ে সেটিও কাজে লাগানো যায়নি।

সাবেক আইজিপি বাহারুল আলম বলেন, পুলিশ সংস্কারের মূল প্রশ্ন হলো পেশাগত স্বাধীনতা নিশ্চিত করা। মামলা তদন্ত ও পরিচালনায় রাজনৈতিক বা প্রশাসনিক নির্দেশনার প্রভাব থাকলে পুলিশের প্রতি জন–আস্থা তৈরি হবে না। পুলিশের বিশ্বাসযোগ্যতা নির্ভর করে তাদের নিরপেক্ষতার ওপর, যা কার্যকর ‘ফাংশনাল ইনডিপেনডেন্স’-এর মাধ্যমে অর্জিত হয়।

ঊর্ধ্বতন পদে নিয়োগ, পদায়ন ও পদোন্নতির ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অতীতে এই প্রক্রিয়ায় বিভিন্ন পক্ষের প্রভাব লক্ষ্য করা গেছে। অন্তর্বর্তী সরকারের সময় পরিদর্শক থেকে পুলিশ সুপার পর্যন্ত নিয়োগ ও বদলির নীতিমালা প্রণীত হয়েছিল, কিন্তু তা যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়নি। বাহিরি গোষ্ঠীস্বার্থ কমাতে ফিট লিস্ট প্রণয়ন করে একটি স্বাধীন কমিশনের মাধ্যমে নিয়োগ কার্যকর করা যেতে পারত।

পুলিশের জবাবদিহি নিশ্চিত করতে পুলিশ কমিশনের অধীনে সাধারণ মানুষের অভিযোগ জানানোর ব্যবস্থা রাখা হয়েছিল। একইভাবে পুলিশের মধ্যে নিজেদের অধিকার সুরক্ষিত রাখতে সদস্যদেরও অভিযোগ জানানোর সুযোগ থাকা জরুরি।

আইজিপি নিয়োগে স্বচ্ছতা আনার জন্য বাহারুল আলম প্রস্তাব করেছেন একটি বহুমাত্রিক পুলিশ কমিশন গঠন করা হোক, যেখানে বিচার বিভাগ, সরকার, বিরোধী দল, নাগরিক সমাজ ও সমাজতত্ত্ববিদদের প্রতিনিধিত্ব থাকবে। এতে পক্ষপাত ও প্রভাব কমানো সম্ভব হবে।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, পুলিশের নিজস্ব ভেতর থেকে দীর্ঘদিন ধরেই পেশাগত স্বাধীনতার দাবি উঠে এসেছে। জুলাই গণ–অভ্যুত্থানের পর রাজারবাগের কনস্টেবলরা বলেছিলেন, তারা আর রাজনৈতিক স্বার্থ আদায়ের ঘুঁটি হিসেবে ব্যবহার হতে চায় না। অর্থাৎ সংস্কারের দাবি পুলিশের ভেতর থেকেই এসেছে।

বাহারুল আলম বলেন, পুলিশ কমিশন গঠনের পাশাপাশি তাকে কার্যকর ক্ষমতা দিতে হবে। শুধুমাত্র প্রতীকী কাঠামো হলে পুলিশ প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত হবে না। পুলিশ সংস্কার এখনো অসম্পূর্ণ এজেন্ডা, যা বাস্তবায়নের জন্য সুস্পষ্ট নীতিমালা, প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো ও রাজনৈতিক সদিচ্ছা প্রয়োজন। তা না হলে আলোচনা আগের মতোই অনিশ্চয়তার চক্রে আটকে থাকবে।

kalprakash.com/SS