সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নতুন পে স্কেল বাস্তবায়নের ধাপ নিয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়নি সচিব কমিটি। এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে মন্ত্রিসভা। তবে নতুন বেতনকাঠামো চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছর থেকেই কার্যকর করার সিদ্ধান্তে সরকার অটল। নতুন পে স্কেলে মূল বেতন সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর বিষয়টি আলোচনায় এসেছে। তবে বেতন ও ভাতা একসঙ্গে কার্যকর হবে, নাকি ধাপে ধাপে দেওয়া হবে, তা এখনো চূড়ান্ত হয়নি।
আগামী আগস্টের প্রথম সপ্তাহে নতুন বেতনকাঠামোর গেজেট প্রকাশের লক্ষ্য নিয়ে কাজ চলছে। বুধবার সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনির সভাপতিত্বে পে স্কেল পর্যালোচনা কমিটির ষষ্ঠ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় নবম জাতীয় বেতন কমিশনের সুপারিশ এবং আগের বেতনকাঠামোর বিভিন্ন ত্রুটি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
বৈঠক সূত্রে জানা যায়, নতুন পে স্কেল বিষয়ে সরকারের নীতিগত সিদ্ধান্ত প্রায় চূড়ান্ত। সচিব কমিটি আরও দুই থেকে তিন দিন কারিগরি বিভিন্ন দিক বিশ্লেষণ করবে। এরপর চলতি মাসের শেষ সপ্তাহে অথবা আগস্টের প্রথম সপ্তাহে সুপারিশ মন্ত্রিসভার বৈঠকে উপস্থাপন করা হতে পারে। মন্ত্রিসভায় নতুন পে স্কেল বাস্তবায়নের ধাপসহ গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোতে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। এরপর প্রস্তাবটি আইনি পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে। ভেটিং শেষে প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদন পাওয়ার পর গেজেট প্রকাশ করা হবে।
অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী গত ১১ জুন জাতীয় সংসদে বাজেট উপস্থাপনের সময় জানান, ২০২৬-২৭ অর্থবছর থেকেই সরকারি কর্মচারীদের নতুন বেতনকাঠামো বাস্তবায়ন করা হবে। ১ জুলাই থেকে ধাপে ধাপে এটি কার্যকর করার কথা বলা হয়।
অর্থ বিভাগ সূত্রে জানা যায়, শুরুতে নতুন বেতনকাঠামো তিন ধাপে বাস্তবায়নের সুপারিশ করা হয়েছিল। পরে দুই ধাপে বাস্তবায়নের প্রস্তাব আসে। তবে সর্বশেষ সভায় এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত মন্ত্রিসভার ওপর ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, বর্তমানে ১৪ লাখ সরকারি কর্মচারী ও ৯ লাখ পেনশনভোগীর জন্য সরকারের বছরে প্রায় ১ লাখ ৩১ হাজার কোটি টাকা ব্যয় হয়। নতুন বেতনকাঠামো বাস্তবায়নে এর চেয়ে অতিরিক্ত অর্থের প্রয়োজন হবে। এই অর্থ কীভাবে জোগান দেওয়া হবে, সে বিষয়ে মন্ত্রিসভায় সিদ্ধান্ত হওয়া উচিত বলে মনে করছেন সচিব কমিটির সদস্যরা।
বৈঠক শেষে কমিটির এক সদস্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, সরকারি চাকরিজীবীদের প্রায় ১১ বছর ধরে বেতন বাড়েনি। তাই নতুন পে স্কেলে যেন কারও বঞ্চনা বা ক্ষোভ না থাকে, সে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে পর্যালোচনা করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, এ বিষয়ে আরও দুই থেকে তিনটি সভা হতে পারে। এরপর আগস্টের শুরুতে গেজেট প্রকাশের লক্ষ্য রয়েছে। বাড়তি বেতন-ভাতা দেওয়ার সঙ্গে বড় অঙ্কের অর্থের সংশ্লেষ রয়েছে। এর সঙ্গে সরকারের আর্থিক সক্ষমতার বিষয়টিও জড়িত। তাই পে স্কেল কয় ধাপে বাস্তবায়ন হবে, সে বিষয়ে সচিব কমিটি কোনো মতামত দেবে না। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে মন্ত্রিসভা।
নতুন বেতনকাঠামোতে শুধু মূল বেতন নয়, বাড়িভাড়া, চিকিৎসা, শিক্ষা ও যাতায়াতসহ বিভিন্ন ভাতাও পুনর্বিন্যাসের প্রস্তাব রয়েছে। এসব সুবিধা কার্যকর করতে একাধিক বিধিবদ্ধ নিয়ন্ত্রক আদেশ (এসআরও) জারি করতে হবে।
অর্থ বিভাগ সূত্রে জানা যায়, বুধবারের বৈঠকের পর নতুন পে স্কেল বাস্তবায়নসংক্রান্ত এসআরও ও বিধিবিধানের খসড়া তৈরির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কিছু ক্ষেত্রে আগের পে স্কেলের চিত্রও তুলে ধরতে বলা হয়েছে। কমিটির নির্দেশনা অনুযায়ী অর্থ বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা কাজ করছেন।
এদিকে সম্প্রতি একটি সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, পে স্কেল বাস্তবায়নের সিদ্ধান্তে সরকার অটল। তবে দেশের বর্তমান আর্থিক পরিস্থিতি বিবেচনায় এটি ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করা হবে।
তিনি বলেন, পে স্কেলের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে এবং এটি বাস্তবায়ন করা হবে। তবে দেশের বর্তমান আর্থিক পরিস্থিতি ও কঠিন সময় বিবেচনায় নিয়ে তা ক্রমান্বয়ে বাস্তবায়ন করা হবে।
kalprakash.com/IM
অনলাইন ডেস্ক 






















