বাংলাদেশ ০৫:১৭ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬
শিরোনামঃ
Logo দেবিদ্বারে বিএনপির নবগঠিত কমিটিকে স্বাগত জানিয়ে আনন্দ মিছিল, শহীদদের স্মরণে দোয়া Logo হরমুজ প্রণালিতে চলাচলকারী জাহাজে ভারতীয় নাবিক নিয়োগে নিষেধাজ্ঞা Logo জ্বালানি তেলের কৌশলগত মজুত ৯০ দিনে উন্নীত করতে সরকারের পরিকল্পনা Logo দুই বছরে স্বর্ণের দামে বড় উত্থান, ৯১ বার সমন্বয়ের পর এখন কোন পর্যায়ে বাজার? Logo চেক ডিজঅনার মামলায় জামিন পেলেন সালমান এফ রহমান Logo নতুন পে স্কেল বাস্তবায়নের ধাপ চূড়ান্ত নয়, সিদ্ধান্ত নেবে মন্ত্রিসভা Logo নবম জাতীয় পে স্কেলে ইনক্রিমেন্টে বড় পরিবর্তনের প্রস্তাব, নিম্ন গ্রেডে বাড়তে পারে সুবিধা Logo ইংল্যান্ডকে হারিয়ে ফাইনালে আর্জেন্টিনা, উৎসবে মেতেছে বুয়েন্স আয়ার্স ও রোজারিও Logo গ্রিন কার্ডে নতুন শর্ত বিবেচনায় ট্রাম্প প্রশাসন, লাগতে পারে জামানত Logo লিওনেল মেসির পুরো নাম কী? জানুন নামের শেষ অংশের ইতিহাস

সাবেক আইজিপি বাহারুল আলম: পুলিশ সংস্কার না হলে জন–আস্থা ফিরবে না

ছবিঃসংগৃহীত

প্রায় দুই দশক ধরে পুলিশ সংস্কারের দাবি উচ্চারণ করা হলেও তা কার্যকর রূপ পায়নি। ২০০৭ সাল থেকে বিভিন্ন সময়ে উদ্যোগ নেওয়া হলেও বাস্তবায়নের পর্যায়ে পৌঁছায়নি। অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে একটি সম্ভাবনা তৈরি হয়েছিল, কিন্তু নানা পক্ষের স্বার্থ রক্ষা করতে গিয়ে সেটিও কাজে লাগানো যায়নি।

সাবেক আইজিপি বাহারুল আলম বলেন, পুলিশ সংস্কারের মূল প্রশ্ন হলো পেশাগত স্বাধীনতা নিশ্চিত করা। মামলা তদন্ত ও পরিচালনায় রাজনৈতিক বা প্রশাসনিক নির্দেশনার প্রভাব থাকলে পুলিশের প্রতি জন–আস্থা তৈরি হবে না। পুলিশের বিশ্বাসযোগ্যতা নির্ভর করে তাদের নিরপেক্ষতার ওপর, যা কার্যকর ‘ফাংশনাল ইনডিপেনডেন্স’-এর মাধ্যমে অর্জিত হয়।

ঊর্ধ্বতন পদে নিয়োগ, পদায়ন ও পদোন্নতির ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অতীতে এই প্রক্রিয়ায় বিভিন্ন পক্ষের প্রভাব লক্ষ্য করা গেছে। অন্তর্বর্তী সরকারের সময় পরিদর্শক থেকে পুলিশ সুপার পর্যন্ত নিয়োগ ও বদলির নীতিমালা প্রণীত হয়েছিল, কিন্তু তা যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়নি। বাহিরি গোষ্ঠীস্বার্থ কমাতে ফিট লিস্ট প্রণয়ন করে একটি স্বাধীন কমিশনের মাধ্যমে নিয়োগ কার্যকর করা যেতে পারত।

পুলিশের জবাবদিহি নিশ্চিত করতে পুলিশ কমিশনের অধীনে সাধারণ মানুষের অভিযোগ জানানোর ব্যবস্থা রাখা হয়েছিল। একইভাবে পুলিশের মধ্যে নিজেদের অধিকার সুরক্ষিত রাখতে সদস্যদেরও অভিযোগ জানানোর সুযোগ থাকা জরুরি।

আইজিপি নিয়োগে স্বচ্ছতা আনার জন্য বাহারুল আলম প্রস্তাব করেছেন একটি বহুমাত্রিক পুলিশ কমিশন গঠন করা হোক, যেখানে বিচার বিভাগ, সরকার, বিরোধী দল, নাগরিক সমাজ ও সমাজতত্ত্ববিদদের প্রতিনিধিত্ব থাকবে। এতে পক্ষপাত ও প্রভাব কমানো সম্ভব হবে।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, পুলিশের নিজস্ব ভেতর থেকে দীর্ঘদিন ধরেই পেশাগত স্বাধীনতার দাবি উঠে এসেছে। জুলাই গণ–অভ্যুত্থানের পর রাজারবাগের কনস্টেবলরা বলেছিলেন, তারা আর রাজনৈতিক স্বার্থ আদায়ের ঘুঁটি হিসেবে ব্যবহার হতে চায় না। অর্থাৎ সংস্কারের দাবি পুলিশের ভেতর থেকেই এসেছে।

বাহারুল আলম বলেন, পুলিশ কমিশন গঠনের পাশাপাশি তাকে কার্যকর ক্ষমতা দিতে হবে। শুধুমাত্র প্রতীকী কাঠামো হলে পুলিশ প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত হবে না। পুলিশ সংস্কার এখনো অসম্পূর্ণ এজেন্ডা, যা বাস্তবায়নের জন্য সুস্পষ্ট নীতিমালা, প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো ও রাজনৈতিক সদিচ্ছা প্রয়োজন। তা না হলে আলোচনা আগের মতোই অনিশ্চয়তার চক্রে আটকে থাকবে।

kalprakash.com/SS

ট্যাগ সমূহ:
জনপ্রিয় সংবাদ

দেবিদ্বারে বিএনপির নবগঠিত কমিটিকে স্বাগত জানিয়ে আনন্দ মিছিল, শহীদদের স্মরণে দোয়া

সাবেক আইজিপি বাহারুল আলম: পুলিশ সংস্কার না হলে জন–আস্থা ফিরবে না

প্রকাশিত: ১২:৫১:৫৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৭ এপ্রিল ২০২৬

প্রায় দুই দশক ধরে পুলিশ সংস্কারের দাবি উচ্চারণ করা হলেও তা কার্যকর রূপ পায়নি। ২০০৭ সাল থেকে বিভিন্ন সময়ে উদ্যোগ নেওয়া হলেও বাস্তবায়নের পর্যায়ে পৌঁছায়নি। অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে একটি সম্ভাবনা তৈরি হয়েছিল, কিন্তু নানা পক্ষের স্বার্থ রক্ষা করতে গিয়ে সেটিও কাজে লাগানো যায়নি।

সাবেক আইজিপি বাহারুল আলম বলেন, পুলিশ সংস্কারের মূল প্রশ্ন হলো পেশাগত স্বাধীনতা নিশ্চিত করা। মামলা তদন্ত ও পরিচালনায় রাজনৈতিক বা প্রশাসনিক নির্দেশনার প্রভাব থাকলে পুলিশের প্রতি জন–আস্থা তৈরি হবে না। পুলিশের বিশ্বাসযোগ্যতা নির্ভর করে তাদের নিরপেক্ষতার ওপর, যা কার্যকর ‘ফাংশনাল ইনডিপেনডেন্স’-এর মাধ্যমে অর্জিত হয়।

ঊর্ধ্বতন পদে নিয়োগ, পদায়ন ও পদোন্নতির ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অতীতে এই প্রক্রিয়ায় বিভিন্ন পক্ষের প্রভাব লক্ষ্য করা গেছে। অন্তর্বর্তী সরকারের সময় পরিদর্শক থেকে পুলিশ সুপার পর্যন্ত নিয়োগ ও বদলির নীতিমালা প্রণীত হয়েছিল, কিন্তু তা যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়নি। বাহিরি গোষ্ঠীস্বার্থ কমাতে ফিট লিস্ট প্রণয়ন করে একটি স্বাধীন কমিশনের মাধ্যমে নিয়োগ কার্যকর করা যেতে পারত।

পুলিশের জবাবদিহি নিশ্চিত করতে পুলিশ কমিশনের অধীনে সাধারণ মানুষের অভিযোগ জানানোর ব্যবস্থা রাখা হয়েছিল। একইভাবে পুলিশের মধ্যে নিজেদের অধিকার সুরক্ষিত রাখতে সদস্যদেরও অভিযোগ জানানোর সুযোগ থাকা জরুরি।

আইজিপি নিয়োগে স্বচ্ছতা আনার জন্য বাহারুল আলম প্রস্তাব করেছেন একটি বহুমাত্রিক পুলিশ কমিশন গঠন করা হোক, যেখানে বিচার বিভাগ, সরকার, বিরোধী দল, নাগরিক সমাজ ও সমাজতত্ত্ববিদদের প্রতিনিধিত্ব থাকবে। এতে পক্ষপাত ও প্রভাব কমানো সম্ভব হবে।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, পুলিশের নিজস্ব ভেতর থেকে দীর্ঘদিন ধরেই পেশাগত স্বাধীনতার দাবি উঠে এসেছে। জুলাই গণ–অভ্যুত্থানের পর রাজারবাগের কনস্টেবলরা বলেছিলেন, তারা আর রাজনৈতিক স্বার্থ আদায়ের ঘুঁটি হিসেবে ব্যবহার হতে চায় না। অর্থাৎ সংস্কারের দাবি পুলিশের ভেতর থেকেই এসেছে।

বাহারুল আলম বলেন, পুলিশ কমিশন গঠনের পাশাপাশি তাকে কার্যকর ক্ষমতা দিতে হবে। শুধুমাত্র প্রতীকী কাঠামো হলে পুলিশ প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত হবে না। পুলিশ সংস্কার এখনো অসম্পূর্ণ এজেন্ডা, যা বাস্তবায়নের জন্য সুস্পষ্ট নীতিমালা, প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো ও রাজনৈতিক সদিচ্ছা প্রয়োজন। তা না হলে আলোচনা আগের মতোই অনিশ্চয়তার চক্রে আটকে থাকবে।

kalprakash.com/SS