আগামী ২৯ অক্টোবর অনুষ্ঠেয় ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত ১১ দলীয় ঐক্যের প্রার্থী দেলোয়ার হোসেন রুহিয়া উপজেলা প্রেস ক্লাবের সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা করেছেন।
১২ অক্টোবর, সোমবার সন্ধ্যায় রুহিয়া উপজেলা প্রেস ক্লাব কার্যালয়ে এ সভার আয়োজন করা হয়। রুহিয়া উপজেলা প্রেস ক্লাবের সভাপতি মজহারুল ইসলাম বাদলের সভাপতিত্বে সভায় উপস্থিত ছিলেন সহসাধারণ সম্পাদক আলমগীর হুসেন, কোষাধ্যক্ষ মোস্তাফিজুর রহমান আকাশ, কার্যনির্বাহী সদস্য কুদরতি আলি, আহসান হাবীব রুবেন, মাসুদুর রহমান মাসুদ ও বেলালসহ প্রেস ক্লাবের অন্য সাংবাদিকেরা এবং দলীয় নেতারা।
মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে জামায়াত প্রার্থী দেলোয়ার হোসেন বলেন, ‘সাংবাদিকেরাই জাতির জাগ্রত বিবেক এবং সংবাদমাধ্যমগুলো জাতির দর্পণ। সাংবাদিকেরা যত দিন জাগ্রত বিবেক হিসেবে কাজ করেন, তত দিন জাতি সঠিক পথে থাকে। রুহিয়া একটি নবগঠিত উপজেলা; এই থানাধীন রুহিয়া ও রুহিয়া পশ্চিম—এই দুই ইউনিয়নে আগামী উপনির্বাচনে আমি ১১ দলীয় ঐক্যের প্রতীক দাঁড়িপাল্লা নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছি।
এলাকার সার্বিক উন্নয়নে গণমাধ্যমকর্মীরা দর্পণ ও বিবেক হিসেবে জোরালো ভূমিকা পালন করবেন বলে আমি আশাবাদী। কোনো অন্যায়ের কাছে মাথা নত না করে সাহসিকতার সঙ্গে সত্যের পথে অবিচল থাকার জন্য আমি সাংবাদিকদের প্রতি আহ্বান জানাই। আপনাদের সাহসী পদক্ষেপ রুহিয়াবাসীর জন্য অনেক বড় কল্যাণ বয়ে আনবে।’
এলাকার সার্বিক উন্নয়নের রূপরেখা তুলে ধরে দেলোয়ার হোসেন রুহিয়াবাসীর জন্য দুটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিশ্রুতির কথা ঘোষণা করেন।
নবগঠিত এই উপজেলায় ভালো মানের কোনো হাসপাতাল না থাকায় তিনি নির্বাচিত হলে রুহিয়ায় একটি আধুনিক মা ও শিশু হাসপাতাল স্থাপনের জন্য সর্বাত্মক চেষ্টা করবেন। এ ছাড়া স্থানীয়দের দীর্ঘদিনের দাবির প্রেক্ষিতে রুহিয়া রেলস্টেশনে রোদ-বৃষ্টি থেকে যাত্রীদের সুরক্ষায় একটি মানসম্মত যাত্রীছাউনি বা ওয়েটিং রুম নির্মাণ করবেন। তিনি বলেন, বিজয় না পেলেও এই দুটি কাজ বাস্তবায়নে তাঁর ব্যক্তিগত উদ্যোগ ও প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে।
ভোটারদের উদ্দেশে দেলোয়ার হোসেন আরও বলেন, ‘আগামী ২৯ অক্টোবর সততা, ন্যায় ও দুর্নীতির বিপক্ষে আপনারা আপনাদের মূল্যবান ভোট দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে দিন। ঠাকুরগাঁও যত দিন দুর্নীতিমুক্ত না হবে, তত দিন এ অঞ্চলের মানুষ তাদের ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত থাকবে। নির্বাচিত হলে সরকারি বরাদ্দ করা সব ত্রাণ বা উন্নয়ন তহবিল ডিজিটাল বোর্ডের মাধ্যমে প্রতিটি এলাকায় স্বচ্ছতার সঙ্গে জনগণের সামনে প্রকাশ করা হবে, যাতে কোনো ধরনের দুর্নীতি বা লুটপাটের সুযোগ না থাকে।’
সভা শেষে তিনি রুহিয়া প্রেস ক্লাবকে আরও সুসংগঠিত ও শক্তিশালী করতে এবং সাংবাদিকদের ন্যায্য অধিকার আদায়ে সব সময় পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি দেন।
kalprakash.com/IM