দুর্যোগের ঝুঁকি হ্রাস, পারিবারিক পর্যায়ে আগাম প্রস্তুতি জোরদার এবং দুর্যোগ মোকাবিলায় জনসচেতনতা বৃদ্ধির আহ্বানের মধ্য দিয়ে রাঙামাটির বাঘাইছড়িতে আন্তর্জাতিক দুর্যোগ প্রশমন দিবস ২০২৬ উদ্যাপিত হয়েছে। দিবসটি উপলক্ষে মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সকালে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে র্যালি ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় দুর্গম ও বিস্তীর্ণ জনপদ বাঘাইছড়িতে অগ্নিকাণ্ডসহ বিভিন্ন দুর্যোগে ক্ষয়ক্ষতি কমাতে একটি ফায়ার সার্ভিস স্টেশন স্থাপনের দাবি জানান বক্তারা।
চলতি বছর দিবসটির প্রতিপাদ্য ছিল ‘ঘর থেকে শুরু করি, দুর্যোগ সহনশীল দেশ গড়ি’। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের বাস্তবায়নে এবং বাঘাইছড়ি উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে সকাল সাড়ে ১০টায় উপজেলা পরিষদের মিনি সম্মেলনকক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আমেনা মারজানের সভাপতিত্বে সভায় সঞ্চালনা করেন উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা সুপ্তশ্রী সাহা।
সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা নূর আলম, বাঘাইছড়ি থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) নাসির উদ্দীন মজুমদার, পৌর বিএনপির সভাপতি নিজাম উদ্দীন বাবু এবং সাধারণ সম্পাদক রহমতুল্লাহ খাজা। এ সময় উপজেলার বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান, স্থানীয় সাংবাদিক, পেশাজীবী ও গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
আলোচনা সভায় বাঘাইছড়িতে ফায়ার সার্ভিস স্টেশন না থাকার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে উঠে আসে। বক্তারা বলেন, ভৌগোলিক অবস্থান ও দুর্গম যোগাযোগব্যবস্থার কারণে বাঘাইছড়িতে দুর্যোগ মোকাবিলা একটি বড় চ্যালেঞ্জ। বর্ষা মৌসুমে পাহাড়ধস ও আকস্মিক বন্যার ঝুঁকির পাশাপাশি শুষ্ক মৌসুমে বসতবাড়ি ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটলে দ্রুত উদ্ধার ও আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা কঠিন হয়ে পড়ে।
স্থানীয়ভাবে ফায়ার সার্ভিস স্টেশন না থাকায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় দূরবর্তী এলাকা থেকে উদ্ধারকারী দল পৌঁছাতে বিলম্ব হয়, এতে জানমাল ও সম্পদের ক্ষয়ক্ষতি বাড়ার আশঙ্কা থাকে। তাই জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত সাড়া দেওয়া এবং দুর্ঘটনাজনিত ক্ষয়ক্ষতি কমানোর লক্ষ্যে বাঘাইছড়িতে একটি পূর্ণাঙ্গ ফায়ার সার্ভিস স্টেশন স্থাপনের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানান বক্তারা।
তাঁদের মতে, দুর্গম পাহাড়ি জনপদে জরুরি সেবা নিশ্চিত করতে ফায়ার সার্ভিস স্টেশন স্থাপন সময়ের দাবি। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও কর্তৃপক্ষের প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া জরুরি।
সভাপতির বক্তব্যে ইউএনও আমেনা মারজান বলেন, দুর্যোগ মোকাবিলায় সরকারি উদ্যোগ ও প্রস্তুতির পাশাপাশি ব্যক্তি ও পারিবারিক পর্যায়ে সচেতনতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দুর্যোগের ঝুঁকি কমাতে প্রতিটি পরিবারকে আগাম প্রস্তুতি নিতে হবে এবং নিজেদের ঘরবাড়ি ও আশপাশের পরিবেশ নিরাপদ রাখতে সচেতন ভূমিকা পালন করতে হবে।
তিনি দুর্যোগের ক্ষয়ক্ষতি কমাতে সবাইকে সচেতন হওয়ার পাশাপাশি সম্মিলিতভাবে দুর্যোগ সহনশীল পরিবেশ গড়ে তোলার আহ্বান জানান।
আলোচনা সভা শেষে দুর্যোগের ঝুঁকি হ্রাস, আগাম প্রস্তুতি এবং জরুরি পরিস্থিতিতে করণীয় সম্পর্কে বিভিন্ন সচেতনতামূলক নির্দেশনা তুলে ধরা হয়।
kalprakash.com/IM